Wednesday , December 8 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বেরিয়ে মাঠমুখী হতে শুরু করেছে বিএনপি-আ’লীগ

ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বেরিয়ে মাঠমুখী হতে শুরু করেছে বিএনপি-আ’লীগ

ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বেরিয়ে মাঠমুখী হতে শুরু করেছে বিএনপি-আ'লীগ

Kjkhan:  মহামারী করোনার সংক্রমণ কমতে শুরু করায় মাঠের রাজনীতিতে সরব হচ্ছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। এরইমধ্যে দল দুইটি ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বেরিয়ে আসায় দেশের রাজনীতিও মাঠমুখী হতে শুরু করেছে। একইসাথে দলীয় কর্মকা- আরো গতিশীল করতে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। রাজপথের বিরোধী দল রাজনীতিকে আন্দোলনমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। আর আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরো সুসংগঠিত করছে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ।
প্রসঙ্গত, বর্তমান নির্বাচন কমিশিনের মেয়াদ বাকী পাঁচ মাস। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায় বিএনপি। একই সাথে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি আদায়ে রাজপথকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারাবাহিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাজ পথের আন্দোলনে দায়িত্ব পাওয়া নেতারা অনুপস্থিত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেড় দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। তবে সরকার দল আওয়ামী লীগের ভাবনায় আগামী নির্বাচন। আর এ জন্য সাংগঠনিক কর্মকা-কে আরো গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজাতে মেয়াদউত্তীর্ণ সকল সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলন দ্রুতই শেষ করবে দলটি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দলটির তৃণমূলে কোথাও কোথাও কোন্দল তৈরি হয়েছে স্বীকার করে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে এইসব বিরোধ মিটিয়ে ফেলা হবে অন্যতম প্রধান কাজ।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয় গত সম্মেলনের পরপরই। কিন্তু করোনা বাস্তবতায় এ উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বিত হয়। গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাদেরও দেখা গেছে। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা জানতে পার্টি অফিসে এসেছি। সামনে আমাদের অনেক কর্মসূচি আছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা আমাদের সবাইকে দ্রুত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল না। এবার মনে হয় আমাদের মাঠে নামতে হবে। এদিকে দলটির ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমন্ডিস্থ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনীতিক কার্যালয় থেকে গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে দেখা গেছে, নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই বিরোধী দলগুলো নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজনীতির মাঠে উপস্থিত থাকত। কিন্তু বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেখা যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি মাঠে খুব একটা সরব নেই। তবে হঠাৎ করেই দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে তা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তারা বলছেন, সামনের নির্বাচন ঘিরে রাজনীতি সক্রিয় হচ্ছে সেটা এখনই বলা যাবে না। আগস্ট মাসে প্রতিবছরই একটা উত্তেজনা তৈরি হয়, এবারও তেমনটাই হয়েছে বলে মত তাদের। তবে চলতি মাসে বেশ কিছু স্থানে স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচন ঘিরে কর্মতৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে গড়াচ্ছে দেশের রাজনীতি। মহামারী (কোভিড-১৯) করোনার মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে দলটি সরকারের বাইরে এসে কাজ করছে। গত আগস্টে শোকের মাসে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এছাড়া জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও আলোচনায় ছিল। করোনার সংক্রমণ কমায় দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগই প্রথম রাজনীতির মাঠে ফেরার কার্যক্রম শুরু করেছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে বলেছেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাংগঠনিক এবং আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। বৈঠকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোর নির্দেশ দেন সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে একটি সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের জন্য দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই সরকারবিরোধী অপপ্রচার বেশি হচ্ছে। এসব অপপ্রচার সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলা করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বৈঠকে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল। করোনাকালে মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর কারণে দলটি জনগণের কাছ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আগস্টের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই বিএনপির সংশ্লিষ্টতা আছে। ১৫ আগস্টের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ২১ আগস্টের সঙ্গে বর্তমান নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত। ফলে আগস্ট মাস এলে তারা বেকায়দায় পড়ে। তখন নিজেদের বাঁচাতে তারা উল্টাপাল্টা কথা বলে। আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিজেকে গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সংগঠন গুছিয়ে নেয়। করোনার কারণে কিছুদিন রাজনীতি সীমিত পরিসরে চলেছে। এই সময়টাতে আওয়ামী লীগ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন পরিস্থিতি একটু ভালো হয়েছে, এই কারণে বিভিন্ন জায়গায় যেখানে সমস্যা আছে সেখানে কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হচ্ছে।

দেশের অন্যতম বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিও এতদিন ভার্চুয়াল বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার তিন দিনে দলটির হাইকমান্ডের সঙ্গে তিন স্তরের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন মঙ্গলবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ৬২ জনের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ২৮ জন। দ্বিতীয় দিন বুধবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিভিন্ন সম্পাদক ও সহসম্পাদকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১২২ জন। আর বক্তব্য রাখেন প্রায় ৫০ জন। তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ৯২ কেন্দ্রীয় নেতা। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কর্মকৌশল ঠিক করতে দলের হাইকমান্ড মাঠ পর্যায়ের নেতাদেরও মতামত নেবে। তিনি বলেন, আমাদের তিনটি সভা হয়েছে। গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মিটিংয়ে দল অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *