Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / খুলনায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়েছে অনুমোদনহীন দন্তসেবা প্রতিষ্ঠান

খুলনায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়েছে অনুমোদনহীন দন্তসেবা প্রতিষ্ঠান

অনুমোদনহীন দন্তসেবা প্রতিষ্ঠান বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:  খুলনায় দাঁতের চিকিৎসার নামে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে যেন ব্যাঙ্গের ছাতার মত রুপধারন করেছে অনুমোদনহীন এসকল দন্তসেবা প্রতিষ্ঠান । বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দন্ত সেবা নিতে আসা ব্যাক্তিগন হয়রানি ও অপচিকিৎসার স্বীকার হচ্ছে অহরহ। জানা যায়, এসকল ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই অনুমোদনহীন।

খুলনার বেশ কিছু গুরুত্বপ‚র্ণ স্থান এবং শহরের অলিগলিতে ডেন্টাল ক্লিনিক এবং চেম্বার খুলে নির্দ্বিধায় দন্তসেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেকটা জোর খাঁটিয়ে গড়ে তোলা এ সব অবৈধ ক্লিনিক এবং চেম্বার বেশিরভাগই অনুমোদনহীন। নেই চিকিৎসকের উচ্চতর ডিগ্রি, দাঁতের চিকিৎসার জন্য যে যন্ত্রপাতি দরকার তার কোনটিই নেই। তবুও চলছে অপচিকিৎসার রমরমা বাণিজ্য।

খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসক আটক হলেও এসকল ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ও কথিত চিকিৎসকেরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে । এদের মধ্যে অনেকেরই নেই “বি ডি এস” এর অনুমোদন, নেই শিক্ষাগত যোগ্যতা, নেই দন্ত চিকিৎসার শিক্ষাগত বৈধ সার্টিফিকেট।
এখানেই সমাপ্তি নয়। পঞ্চম শ্রেণীর গন্ডি পার না হয়েও চেম্বার খুলে বসেছে অনেকে । কিছুদিন দন্ত চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে থেকেও চেম্বার খুলে বসেছেন কিছু কথিত চিকিৎসক। এ সকল কথিত চিকিৎসকেরা রোগী দেখছেন নিয়মিত।
অপচিকিৎসার স্বীকার এক রোগী অভিযোগ করেন “রুপসা ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন গলির ভিতর দন্ত চিকিৎসালয়ের লিটনের নিকট এসে অপচিকিৎসার স্বীকার হয়। ভুল চিকিৎসার কারনে চোখের দৃষ্টিশক্তিসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। এবিষয়ে লিটনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকল নীতি অনুসরন করে দন্তসেবা নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। শীঘ্রই নতুন পরিসরে চিকিৎসালয় সংস্কার করব ।” এছাড়া অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দন্তসেবার উপর ডিপ্লোমা করছি, ইতিমধ্যে সকল অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এদিকে একই অভিযোগের তীর তোলেন অপচিকিৎসার স্বীকার আরেক রোগী। অভিযোগ করেন, সোনাডাঙ্গার বাধন ডেন্টাল কেয়ারের যোসেফ বৈরাগীর বিরুদ্ধে।

অনুমোদনহীন দন্তসেবা প্রতিষ্ঠান

এ বিষয়ে যোসেফ বৈরাগী বলেন , একাডেমিক যোগ্যতার বলেই দন্ত চিকিৎসা করেন তিনি। সব ধরনের বৈধতা আছে বলে জানান তিনি। কয়েকটি সার্টিফিকেট ও দেখিয়ে বলেন , পরিপ‚র্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদানের বৈধতা আছে তার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসকল ডেন্টাল ক্লিনিকের মধ্যে বেশিরভাগই বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমোদনহীন। এ বিষয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনা সিটির ভিতরে ডেন্টাল ক্লিনিকের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন এবং উপজেলাগুলোতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া বি ডি এস এর স্বীকৃতি থাকা বাঞ্চনীয় বলে জানান তিনি।

সারাশহরে ছড়িয়ে পড়া এসকল কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে শহরে আরো শতাধিক অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিক গজিয়ে উঠার আশংকা রয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *