Thursday , December 2 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / দশমিনায় বিলুপ্তির পথে লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ

দশমিনায় বিলুপ্তির পথে লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ

image_323069

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা বেগ পেয়েছি কিন্তু হারিয়েছি আবেগ। এক সময়ে পটুয়াখালীর দশমিনায় গ্রাম-গঞ্জের কৃষি মাঠ জুড়ে গরু ও লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ পদ্ধিতির প্রচলন ছিল। কালের স্রোতে গরু দিয়ে হালচাষ আজ বিলুপ্তির পথে। কাক ডাকা ভোরে কৃষকের সঙ্গে লাঙ্গল ও জোয়াল কাঁধে নিয়ে জমি চাষ করতে মাঠে যাওয়ার দৃশ্য এখন আর নজরে পরছে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে কৃষি মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গরু, লাঙ্গল, জোয়াল ও মই। মাঠে হালচাষরত কৃষক চোখে পরা এখন বিরল।

দশমিনায় বিলুপ্তির পথে লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সাথে সাথে আধুনিকতার স্পর্শে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে কৃষি মাঠে। ফলে কৃষি মাঠ থেকে কৃষকের সেই ভাটিয়ালি গান গরু দিয়ে জমি চাষ করতে দেখা যায় না কৃষকদের। কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লাঙ্গল জোয়াল, চিরায়ত বাংলার অপরূপের সন্ধান করতে গেলে কৃষি উপকরণ লাঙ্গল, জোয়াল ও মইসহ হালের গরুর কথা অবশ্যই আসবে। গরু ও লাঙ্গলের জায়গা দখল করে নিয়েছে আধুনিকতার যন্ত্র ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। এক সময়ে দেশে কৃষক বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন করতো হাল চাষ ও মোটাতাজা করার জন্য। তারা নিজের জমি ও অন্যের জমি চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। আর হালের গরু দিয়ে জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।

আধুনিক যন্ত্র কৃষি মাঠ দখল করায় গরু দিয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। দেশের ঐতিহ্য গরুর গাড়ি ও লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ আজ বিলুপ্তির পথে। বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ২/১ জন কৃষক যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হালচাষ করছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. কবির হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও ছত্তার গাজী বলেন, গরু দিয়ে জমি চাষ করাই আমার পেশা ছিল।

গরুর হালচাষের কদর ছিল আগে এখন আর তা নেই, আধুনিকের ছোঁয়ায় কৃষকও বর্তমানে ডিজিটাল হয়ে গেছে। ছোট বেলায় হালচাষের কাজ করতাম, বাড়িতে হালচাষের জন্য ২ থেকে ৪ জোড়া গবাদিপশু পালতাম। চাষের জন্য ১/২ জোড়া বলদ ও গাভী পালন করতাম, আর কাঠ দিয়ে লোহার ফাল দিয়ে লাঙ্গল, বাঁশ দিয়ে জোয়াল, মই, লাঠি ও গরুর মুখের ঠুলি ব্যবহার হতো।
দশমিনায় বিলুপ্তির পথে লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর আহামেদ বলেন, লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ কৃষি মাঠ থেকে বিলুপ্ত। সরকার কৃষি মাঠকে যান্ত্রিকরণ করেছে। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং কৃষক লাভবান হচ্ছে। গরু দিয়ে হালচাষের পরিবর্তে পাওয়ার টিলার/ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করায় সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগে কিন্তু আমরা হারাতে যাচ্ছি আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য।

 

Check Also

শীতের পিঠা

শীতের পিঠা বিক্রি

বাগমারা সংবাদদাতা:  বাগমারার বিভিন্ন হাটবাজার ও বড় বড় রাস্তার মোড়ে এমন পিঠা তৈরির দোকান চোখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *