Thursday , October 21 2021
Breaking News
Home / মেহেরপুর / গাংনীতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রণোদনা দেয়ার নামে প্রতারণা, গ্রামে গ্রামে গাভী পালন খামারীদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন

গাংনীতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রণোদনা দেয়ার নামে প্রতারণা, গ্রামে গ্রামে গাভী পালন খামারীদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম/kbdnews ঃ মেহেরপুরের গাংনীতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালনকারী খামারীদের সরকারী প্রণোদনা দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন খামারী বিশেষ করে গাভীপালনকারী খামারীদের মাঝে সরকারী ভাবে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে গাংনী উপজেলার একটি চক্র ফায়দা লুটতে প্রণোদনা বা সরকারী ভর্তুকির অর্থ পাইয়ে দিতে নানা প্রলোভনে হাজার হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।্ কাজীপুর ইউপির কাজীপুর ব্রিজ পাড়া ও বর্ডার পাড়া গ্রামে শতাধিক অসহায় গাভী পালনকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, কাজীপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত মফেজউদ্দীনের ছেলে গাভী খামারী কাবেরউদ্দীন (যার খামারে ১৬ টি গরু রয়েছে)সরকারী প্রণোদনা হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এই টাকা পাইয়ে দিতে ফন্দিবাজ কাজীপুর গ্রামের বুড়িপোতা পাড়ার তুহিন ডাক্তার (নিজেকে ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক পশু ডাক্তার পরিচয়দানকারী) কাজীপুর ব্রিজপাড়া মাঠপাড়ার আবুল হোসেনের মেয়ে হত দরিদ্র অসহায় রিনা খাতুন ও রোকেয়া খাতুনের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা, আদালতের স্ত্রী, শরাফতের স্ত্রী, জয়নালের স্ত্রী, খালেক ওরফে বাবুর নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছে।এমনিভাবে কাজীপুর বর্ডার পাড়াতেও অনেকের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করেছে।
গ্রামে পরস্পর খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন যাবৎ জনৈক একজনকে প্রাণীসম্পদ অফিসের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজার হাজার টাকা উত্তোলন করে প্রতারণা করেছে। অসহায় রিনা ও রোকেয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। সরকারী টাকা দেয়ার কথা বলে তুহিন ডাক্তার আমাদের নিকট থেকে প্রথমে ১ হাজার ও পরে ২ হাজার টাকা নিয়েছে। এমনিভাবে অনেকের নিকট থেকেই সে টাকা উত্তোলন করেছে। যার সত্যতা মিলেছে।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তুহিন ডাক্তারের বাসায় গেলে সে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ স্বীকার করেন।তবে তিনি অভিযোগের তীর অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলেন, আমি টাকা উত্তোলন করেছি সত্য। তবে সব টাকা অর্থ্যাৎ ৮৫ হাজার টাকা আমি পার্শ্ববর্তী কল্যাণপুর গ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রকল্প সহকারী নাজমুল আলমকে দিয়েছি। নাজমুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। নাজমুল জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি ন্।া তুহিনের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এলাকায় আমার সুনাম নষ্ট করতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মূলক দোষী করেছে।
এব্যাপাওে গাংনী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোস্তফা জামান জানান, অভিযুক্ত তুহিন আমাদের কোন স্টাফ নয়। সেকারনে আমরা তার দায়ভার নিতে পারিনা।আইনী ব্যবস্থা নিতে প্রতারিতরা থানায় অভিযোগ করুক। গাংনী উপজেলায় ১ হাজার গরু ছাগল খামারীদের মাঝে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।মোবাইল বিকাশের মাধ্যমে সরকারী প্রকল্প পরিচালক টাকা দিয়েছেন। আমরা কিছুই বলতে পারবো না।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Check Also

গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  :  গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি ও আলোচনা সভা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *