Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / মেহেরপুর / নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতনের কালের স্বাক্ষী ভাটপাড়া নীলকুঠি গাংনীর ভাটপাড়া নীলকুঠি এখন ডিসি ইকো পার্ক । পর্যটন-বিনোদন কেন্দ্র।

নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতনের কালের স্বাক্ষী ভাটপাড়া নীলকুঠি গাংনীর ভাটপাড়া নীলকুঠি এখন ডিসি ইকো পার্ক । পর্যটন-বিনোদন কেন্দ্র।

নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতনের কালের স্বাক্ষী ভাটপাড়াGangni Meherpur Vatpara (Before) Nilkuth....iGangni Meherpur Vatpara (After)Gangni Meherpur Vatpara Nilkuthi (After)

 

Gangni Meherpur Vatpara Nilkuthi (After)...Gangni Meherpur Vatpara (Before)

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম : অযত্ন-অবহেলায় আর রক্ষণাবেক্ষনের অভাব আর প্রভাবশালীদের ইন্ধনে সভ্যতার স্মারক মেহেরপুরের গাংনীর ভাটপাড়া নীলকুঠির বেশীরভাগ জায়গা (জমি) দখলমুক্ত করে বর্তমানে ডিসি ইকো পার্ক নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘদিন কুঠি ভবনের ইট ও মুল্যবান পাথর খুলে নেয়া ছাড়াও অত্মতঃ ১০ একর জমি জবর দখল করে চাষাবাদ করছিল স’ানীয় প্রভাবশালীরা।
জানা যায়, গাংনী উপজেলার অদূরে সাহারবাটি ্‌ইউপির অত্মর্গত ভাটপাড়া গ্রাম। গাংনী-কাথুলী পাকা সড়ক সংলগ্ন স্থানে ভাটপাড়া নীলকুঠি অবস্থি’ত। আনুমানিক ১৮১৮ থেকে ১৮১৯ সালের দিকে নয়নাভিরাম কাজলা নদীর কোল ঘেসে সবুজ শ্যামলে ঘেরা ৭৭ ্‌একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় ঐ নীলকুঠিবাড়ি।এটি একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। তৎকালীন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নীল ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে দিশেহারা ছিল এদেশের নীল চাষীরা। কথিত রয়েছে, এলাকার সহজ সরল চাষীদের ধওে এনে কুঠিবাড়িতে অবর্ণনীয় অত্যাচার নির্যাতন করা হত। এক সময়ে নির্যাতিত চাষীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে বাংলার বুক থেকে নীল চাষ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও নীলকরদের সেই অত্যাচার নির্যাতন ও শোষনের স্মুতি নিয়ে কালের স্বাড়্গী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাংনী উপজেলার সেই ভাটপাড়া নীলকুঠি।
তবে মেহেরপুর অঞ্চলে কথিত রয়েছে ১৭৭৮ সালে ক্যারল বস্নুম নামে এক ইংরেজ ব্যক্তি নীলকুঠি স’াপন করেন। ভাটপাড়া নীলকুঠিটি কাজলা নদীর তীরে ২৩ একর জমির ওপর অবসি’ত। সাহেবদের প্রমোদ ঘর ও শয়ন রম্নম সংবলিত দ্বিতল ভবনটি জীর্ণ অবস’ায় দাঁড়িয়ে আছে। কাঁচারি ঘর, জেলখানা,মৃত্যুকুপ ও ঘোড়ার ঘর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দামি মার্বেল পাথর আর গুপ্তধনের আশায় এলাকার প্রভাবশালীদের ইন্ধনে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। দামি ও ফলজ বৃক্ষ হয়েছে নিধন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালের স্বাক্ষী ভাটপাড়া কুঠি বাড়িতে এখনও অনেক পর্যটক আসলেও ধ্বংসাবশেষ দেখে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়। দীর্ঘদিন পর প্রত্নতাত্তিক বিভাগ কুঠিবাড়ির জায়গাটি দখলমুক্ত করে ডিসি ইকো পার্ক হিসাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি পরাধীনতার শিকলে বন্দি থাকাকালিন শোষক এবং শাসকদের নির্যাতনের নির্মম স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি সংরক্ষণে হতে পারে এক অনিন্দ্য সুন্দর দর্শনীয় স’ান। গড়ে তোলা যেতে পারে একটি সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী নীলকুঠির বিলুপ্ত প্রায় অবকাঠামো কিয়োদাংশ সংস্কার করা হয়েছে।
এব্যাপারে স’ানীয় ্‌ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, বিনোদন প্রেমিদের জন্য অনেক খেলাধূলার সামগ্রী সংযোজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও আকর্ষনীয় করতে ডিসি মহোদয় আশ্বসত্ম করেছেন। বিভিন্ন উৎসবে হাজার হাজার দর্শক বিনোদন পেতে পার্কে ভীড় করে থাকে। এই জায়গাটি আরও সুন্দর ও বিনোদন প্রেমিদের কাছে আকর্ষনীয় করতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Check Also

মেহেরপুরে গলায় খাবার আটকে মায়ের কোলে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরে গলায় খাবার আটকে মায়ের কোলে শিশুর মৃত্যু

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম : ঃমেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামে গলায় খাবার আটকে আলিফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *