Wednesday , July 28 2021
Breaking News
Home / খবর / খুলনার সকল আবাসন প্রকল্পই অনুমোদনহীন

খুলনার সকল আবাসন প্রকল্পই অনুমোদনহীন

খুলনার সকল আবাসন প্রকল্পই অনুমোদনহীন

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ– খুলনার সকল আবাসন প্রকল্পই অনুমোদনহীন বলে জানা গেছে। কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, কৃষি জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যদি অন্য কাজে ব্যবহার করা হয় তাহলে ওই জমি সরকারের অধীনে ন্যস্ত হবে। এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) মাস্টার প্লানের আওতাধীন এলাকায় গড়ে উঠছে একের পর এক এ সব আবাসন প্রকল্প। বাহারি সাইনবোর্ড আর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এসব প্রকল্পের জমি কিনতে আকৃষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ( কেডিএ) পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরী ছাড়াও অনেক এলাকা কেডিএ’র মাস্টার প্লানের আওতায় রয়েছে। ১৯৬১ সালে ১৮১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বৃহত্তর খুলনা শহরের প্রথম মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংশোধিত খুলনা মাস্টার প্লানের এলাকার অধিক্ষেত্র ৪৫১.১৮ বর্গ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয় এবং বর্তমান সরকারের আমলে খুলনা শহরকে মংলা পর্যন্ত বর্ধিত করে অতিরিক্ত ৩৭৩.৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা মাস্টার প্লানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে ৮২৪.৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পরিকল্পিত নগরায়নের আওতায় এসেছে। এছাড়া নগরীর উত্তরে যশোরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকার উত্তর সীমানা।

পূর্বে রূপসা উপজেলার সম্পূর্ণ অংশ ও পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়া বাজার পর্যন্ত এলাকা। এসব এলাকার মধ্যে কোনো ধরনের আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলতে কেডিএ’র অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব এলাকার কোনো আবাসন প্রকল্প আজ পর্যন্ত কেডিএ থেকে অনুমোদন নেয়নি। এসব এলাকায় ১শ’ কাছাকাছি আবাসন প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে ৫ একর এবং সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ১০ একর জমি থাকার বিধান থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের জমি রয়েছে নামমাত্র। যদিও অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো দেদারছে প্লট বিক্রি করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, আইন লঙ্ঘন করে কেডিএ’র আওতাধীন এলাকায় এ আর প্রোপার্টিজ, সবুজ সিটি আবাসন প্রকল্প, খানজাহাননগর আবাসন প্রকল্প, আরাফাত আবাসন প্রকল্প, ইনসাফ আবাসন প্রকল্প, সুন্দরবন আবাসিক প্রকল্প এন্ড বিল্ডার্স লিঃ, স্বপ্নগড়ি আবাসিক প্রকল্প, মাদানীনগর, রৌশনীবাগ আবাসিক এলাকা, রাজদীপ, ন্যাশনাল, গুলজান সিটি, সবুজবাংলা আবাসন প্রকল্প, খুলনা মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প, অর্পিতা হাউজিং প্রকল্প, সুস্মিতা আবাসন প্রকল্প, মোল্লা প্রোপার্টিজ, মাদানী সোসাইটি, সিয়াম হাউজিং প্রকল্প, ফাতেমা আবাসিক প্রকল্প, স্বপ্নপুরি আবাসিক এলাকা, প্রগতি আবাসন, বনলতা আবাসিক এলাকা, হোসেন আবাসন প্রকল্প, শিকদার আবাসিক প্রকল্প, সততা আবাসন, কাদের হাউজিং প্রকল্প, আদর্শ পল্লী আবাসিক এলাকা, আশিকনগর, সাউদ বাংলা, শান্ত নীড় হোল্ডিং রিয়েল এস্টেট প্রকল্প, যুবক হাউজিং রিয়েল এস্টেট নামে নগরীর সোনাডাঙ্গা, রূপসা, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় বেশ কিছু আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক অনেক আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। যারা কিছু জমি কিনে বা নিজের নামে পাওয়ার নামা করে আবাসিক প্লটিং ব্যবসা করছে।
এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানুষকে আকৃষ্ট করতে ব্যবহার করছেন বাহারি সাইনবোর্ড এবং প্যানা, ফেস্টুন। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে ২, ৩, ৫, ৭ ও ১০ কাঠার প্লট বিক্রি করছে। এসব প্রকল্পের কেডিএ’র অনুমোদন আছে কিনা, তা না জেনেই প্লট কিনছেন।

করোনার আগে কেডিএ বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালনা করলেও করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় অভিমান কিছুটা থমকে যায়। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা মাথা চাড়া দিয়ে অসাধ উপায়ে আবারও রমরমা প্লটিং ব্যবসা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল।

এ আর প্রোপার্টিজ এর কর্ণধর মাহফুজুল মিলন বলেন, আমরা নিজেদের বৈধ টাকায় জমি কিনে প্লট আকারে বিক্রি করছি এর বেশী কিছু বলতে চাই না।

অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই যে সবাই আইনকে শ্রদ্ধা করুক সরকারের আইন মেনে চলুক তাহলে সুন্দর নগরায়ন হবে। যারা এই আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কেডিএ’র অবস্থান কঠোর। আমরা অবৈধ আবাসন প্রকল্প উচ্ছেদ অভিযান আরও দৃঢ় করবো যাতে খুলনা সুন্দর নগরী হিসাবে গড়ে উঠে এবং এখান থেকে আমরা কখনো পিছুপা হবো না। ভবিষ্যতে আইন অমান্যকারীদের বিরূদ্ধে আরো কঠোর হওয়ার বিষয়ে কেডিএ বদ্ধ পরিকর।

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ- ০১৭১১৪৩৯৬১৪

Check Also

২৫০টি মোবাইল ভেন্টিলেটর মেশিন

২৫০টি মোবাইল ভেন্টিলেটর মেশিন উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একদল চিকিৎসক।

ছবি: সংগৃহীত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে ২৫০টি মোবাইল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *