Saturday , June 19 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ৫২ শিশুসহ নিহত ১৮১

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ৫২ শিশুসহ নিহত ১৮১

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার

 

kbdnews ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ৬ দিনের মতো গতকাল রোববারও বোমা ও বিষাক্ত গ্যাস হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সর্বশেষ গতকাল গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৩ জন শিশুসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জনের মতো। হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে দুটি আবাসিক ভবন। ইসরাইলের নারকীয় তান্ডবে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জন শিশু। আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এসব তথ্য জানায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কাদারা বলেছেন, গাজার নিরীহ মানুষের ওপর হামলায় ইসরাইল বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেছে। ইসরাইলি বিষাক্ত গ্যাস হামলার কারণে অনেক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় শহীদ কয়েকজনের মৃতদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গাজায় হামলায় বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের কারণে শহীদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ঢুকতে দিচ্ছে না।

গতকাল রোববার ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনে কমপক্ষে দু’টি আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। এ হামলায় ৩৩ জন নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। বিমান হামলা ছাড়াও ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের গাজাপ্রধান ইয়াহইয়া আল সিনওয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় কমপক্ষে ১৮১ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনই শিশু। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে ইসরাইলের বিমান হামলার বিপরীতে গাজা থেকে রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব রকেটের অধিকাংশ ইসরাইল ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু কিছু সরাসরি দেশটির বিভিন্ন শহরের ভবন, যানবাহনে আঘাত হানছে। এতে ইসরাইলজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। ইতোমধ্যে ইসরাইলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামাসের রকেট হামলায়। এদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

জেরুজালেমের আল-আকসায় জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের শুরু। এরপর থেকে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গত ১০ মে সোমবারের পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩শ-এর বেশি রকেট ছোড়া হয় গাজা থেকে। আর ইসরাইল চালিয়ে যাচ্ছে বিমান হামলা।

এসব হামলার জবাবে গাজার ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরাইলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইসরাইল ও গাজার লড়াই সপ্তম দিনে গড়ালেও সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

২০১৪ সালের পর থেকে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ইসরাইল ও গাজার মধ্যে চলা সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই। এ সহিংসতা নিয়ে গতকাল রোববার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ দিন ইসরাইলি পুলিশ ছুরিসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তারা সীমান্ত পার হয়ে জর্ডান থেকে ইসরাইলে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতে হামাস ইসরাইলের দিকে ১২০টি রকেট ছুড়েছে, এর অধিকাংশই আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেম দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে আর প্রায় ডজন খানেক রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গাজার ভেতরেই পড়েছে।

রকেট হামলার সাইরেন শুনে ইসরাইলের তেল আবিব ও বীরশেবা শহরের বাসিন্দারা তাড়াহুড়া করে ভূগর্ভস্থ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে চলে যান। দৌড়ে এসব আশ্রয়স্থলে যাওয়ার সময় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল রোববার ভোররাতে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসে হামাসের আঞ্চলিক নেতা ইয়াহিয়া আল সিনওয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে তারা।

সিনওয়ার ২০১১ সালে ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে গাজা অঞ্চলের হামাসের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এদিকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। বিভিন্ন দেশ জানিয়েছে নিন্দা ও প্রতিবাদ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিনসহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন। ড. হাছান মাহমুদ টুইটে বলেন, রমজান মাসে এমনকি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিনে এবং এর পরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নৃশংসতা অতীতের সব বর্বরতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এরপরও বড় দেশগুলোর কর্ণধার বিশ্বনেতাদের নীরবতা মর্মপীড়াদায়ক। ইসরাইল কী সকল আন্তর্জাতিক আইনের ঊরধে?

এর আগে ঈদ-উল-ফিতরের দিনেও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিনে শান্তির জন্য মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরাইলি আগ্রাসনমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করে আসছে।

অপরদিকে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর হামলাল নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেছেন।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে এবং ইসরাইলের দখলদারি থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। পবিত্র আল-আকসা মসজিদ, গাজা ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। এই হামলায় হতাহতদের প্রতি তিনি শোক জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, ফিলিস্তিনের পাশে বিএনপি রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনার এই কঠিন সময়ে, পবিত্র রমজানে, শবে কদরে, জুমাতুল বিদায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনসহ এখনো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ন্যক্কারজনক ও নৃশংস হামলা চলছে। এই হামলা মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। এটি বিশ্বব্যাপী চলমান বর্বরতার আরেকটি ঘৃণ্যতম উদাহরণ হয়ে থাকবে। ইসরাইলের হামলা বিশ্বের মুসলমানের অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মানবিক বিবেকসম্পন্ন যেকোনো ধর্মের মানুষের মনে এই অমানবিক হামলা নাড়া দিয়েছে। এই হামলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

 

Check Also

রোহিঙ্গাদের প্রতি মায়ানমারের জাতীয় ঐক্য

রোহিঙ্গাদের প্রতি মায়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের উদাত্ত আহ্বান Kbdnews ডেস্ক: রোহিঙ্গাসহ মায়ানমারের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নাগরিকত্ব প্রদান ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) বা জাতীয় ঐক্য সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নিতে ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) ধারা বাতিলের প্রতিশ্রুতি এসেছে সামরিক জান্তাকে হটাতে গঠন করা এই ছায়া সরকারের কাছ থেকে। গত বৃহস্পতিবার এনইউজি’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই বসন্ত বিপ্লবে সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যোগ দেয়ার জন্য আমাদের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে হাত মেলাতে আমরা রোহিঙ্গাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এপ্রিলের শুরুতে এক সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া ন্যাশনাল লিগ অব ডেমোক্রেসির (এনএলডি) পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্যোগে মায়ানমারে জান্তাবিরোধী এই ছায়া সরকার গঠন করা হয়। এর দুই মাস আগে নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দল এনএলডি ওই নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পথে ছিল। সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে চলা জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত আট শর বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার এখন আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের স্বীকৃতি চাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে থাকা বিভিন্ন সংখ্যালঘু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকেও স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এনইউজি রোহিঙ্গাদের সমানাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। শত বছর ধরে মায়ানমারে বসবাস করে আসলেও ১৯৭০ সাল থেকে যে জাতিগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বঞ্চিত করা হয়েছে বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে। এ অবস্থায় নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আসে। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর নৃশংস অত্যাচার শুরু হলে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) মায়ানমারের বিরুদ্ধে একটি গণহত্যার মামলা চলমান আছে। আর রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্য সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী সাসা বলেন, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি মায়ানমারে বিরোধ কমিয়ে আনার জন্য ঐক্য সরকার একটি সমৃদ্ধ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন গঠনের ব্যাপারে মনস্থির করেছে। যেন মায়ানমারে সবগুেলো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী শান্তিতে বসবাস করতে পারে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে মায়ানমারের যেসব বাসিন্দা এই ইউনিয়নে আনুগত্যের শপথ নেবে তারা সব ধরনের নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন। জাতীয় ঐক্য সরকার কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করবে না। ঐক্য সরকার একই সঙ্গে সংবিধানের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ হওয়ার জন্য মায়ানমারের সব নাগরিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯৮২ সালের যে আইনের কারণে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে তা রদ করা হবে। নতুন আইনে মায়ানমারে জন্মসূত্রে কিংবা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় জন্ম নেয়া মায়ানমারের নাগরিকদের শিশুর জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক জোর করে চাপিয়ে দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়া বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্য সরকার। সেই সঙ্গে এই ছায়া সরকার বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মায়ানমারে ফিরিয়ে আনার কথা বলছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি বিশেষ কর্মসূচি নেয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া এনইউজি রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এনইউজির বিবৃতি প্রসঙ্গে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান লি জানান, তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রদ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া বাতিল ও রোহিঙ্গাদের প্রতি সুবিচার প্রসঙ্গে। লি জার্মানি থেকে বলেন, যদিও রোহিঙ্গাদের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি এখানে স্পষ্ট না। নতুন সংবিধানের খসড়ায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। লি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মায়ানমারের বেশিরভাগ লোকের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এটা একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আমাদের সবার একই উদ্দেশ্য। সেটা হচ্ছে সামরিক জান্তাকে উৎখাত করা। যুক্তরাজ্যে বার্মা রোহিঙ্গা সংগঠনের সভাপতি তু কি’র অভিমত, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটা একটা দারুন উদ্যোগ। তিনি বলেন, বিষয়টি মায়ানমার ঐক্য সরকারের একটা অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখানে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকারের ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তু কি’র ভাষ্য, মায়ানমারের আদিবাসী হিসেবে এখানকার অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর মতো রোহিঙ্গাদেরও সমানাধিকার নিশ্চিত করা দরকার। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের জন্য যা খুবই জরুরি।

Kbdnews ডেস্ক: রোহিঙ্গাসহ মায়ানমারের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নাগরিকত্ব প্রদান ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে নতুন সংবিধানের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *