Sunday , June 20 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে চলা কর্মজীবী মানুষগুলো তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।

ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে চলা কর্মজীবী মানুষগুলো তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।

ঈদ উপলক্ষে

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে চলা কর্মজীবী মানুষগুলো তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ কম থাকলেও গতকাল রোববার সকাল থেকে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। যে গতিতে তারা ঘরে ফেরেন, গতকাল সকাল থেকে ঠিক সেই গতিতে ফিরছেন কর্মস্থলে। রীতিমতো এ নৌরুটে মানুষের ঢল শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডবিস্নউটিসি) আরিচা এরিয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, শনিবার থেকে বাড়ি ফেরা কর্মজীবী মানুষগুলো কর্মস্থলে ফেরা শুরু করেন।
ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ
গতকাল রোববার সকালে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের প্রতিটি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। পাশাপাশি যারা ঈদপূর্ব ছুটি পাননি তাদের অনেককেই আবার বাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীর চাপ থাকলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। যাত্রীদের কোনও ধরনের দুর্ভোগ নেই। ঘাটে পৌঁছে সহজেই ফেরি পার হতে পারছেন মানুষ। ফেরি চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল।

ফেরিঘাটে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় সড়ক ও ফেরিঘাটে তাদের চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এজন্য সেই ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে ঈদের একদিন পর কর্মস্থলে রওনা হয়েছেন।

সরকারের বিধিনিষেধের কারণে দূরপাল্লার বাস না চলায় সড়ক-মহাসড়কে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। জেলার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে তারা ঘাটে পৌঁছেছেন। ঘাট পার হয়ে আবারও একই কায়দায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ব্রেক জার্নিতে (ভেঙে ভেঙে) কর্মস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডবিস্নউটিসি) আরিচা অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদের আগে ১৭টি ফেরি চলাচল করছিল। এর মধ্যে একটি ফেরি শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফিরে গেছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ছোট বড় ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। ছুটি শেষে যাত্রী ও ছোট যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও পারাপারে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।’
ঈদ উপলক্ষে
শিমুলিয়া-বাংলাবাজার দুই ঘাটেই যাত্রীর চাপ

ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনেও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ঢাকামুখী ও ঘরমুখী যাত্রীর চাপ তৈরি হয়েছে। ফেরির সংখ্যা বাড়িয়েও যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার ভোর থেকে যাত্রীরা ঘাটে আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর ভিড় বাড়তে থাকে। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ এখনো ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছেন। এ ছাড়া রয়েছে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়। বাংলাবাজার থেকে জরুরি পরিবহনসহ ঢাকামুখী যাত্রীদের নিয়ে ফেরিগুলো শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া যারা ঈদের আগে বাড়ির ফিরতে পারেননি, তারা এখন বাড়ি ফিরছেন। বাড়ি ফেরাদের সংখ্যাও অনেক। প্রত্যেকটি ফেরিতে ঘরমুখী যাত্রী রয়েছেন। একইসঙ্গে হালকা যানবাহন পারাপার হচ্ছে ফেরিতে। লকডাউন ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন, যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট বন্ধ থাকায় একসপ্তাহ ধরে ঘাটে যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে ৩ মে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও গত বুধবার ফেরিতে প্রচন্ড ভিড় ও গরমে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই অতিরিক্ত যাত্রী যাতে না তোলা হয়, সেদিকে ফেরি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজর রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে সবকটি ফেরি চালু রয়েছে।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষ ফেরিতে পার হচ্ছেন। সবগুলো ঘাট চালু থাকায় শিমুলিয়া থেকে একযোগে তিন/চারটি ফেরি যাত্রী ও হালকা যানবাহন নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে। বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঢাকামুখী যাত্রীদের নিয়ে ফেরিগুলো শিমুলিয়া চলে যাচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাটে দিনাজপুর থেকে আসা যাত্রী রহমত উল্লাহ জানান, ঈদের আগে বাড়িতে আসিনি এখন এলাম পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। শাহ আলম নামে এক যাত্রী বলেন, একা ঢাকায় ঈদ করেছি, ঠিক করেছিলাম ঈদের পর খুব সহজে বাড়ি যেতে পারব; কিন্তু এখনো প্রচুর ভিড়। সরকারের সব পরিবহন চলতে দেওয়া উচিত। কত কষ্ট করে ঘাট পর্যন্ত এসেছি অনেক পথ হেঁটতেও হয়েছে। এই কষ্ট শুধু পরিবারকে দেখার জন্য।

ঢাকামুখী এক যাত্রী ইসমাইল বলেন, ভোরে বাংলাবাজার ঘাটে এসেছি ভেবেছিলাম এত ভোরে তেমন ভিড় হবে না। কিন্তু অনেক ভিড়, তার মধ্যেই ঢাকা যেতে হবে। এরপর কুমিল্লা হয়ে চট্রগ্রাম যাব। একটি বেসরকারি চাকরি করি। যেতে না পারলে চাকরি থাকবে না।
মাদারীপুর বাংলাবাজার ফেরিঘাটের (বিআইডবিস্নউটিসি) ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তুফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়ের সঙ্গে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপও বেশি। তাই সব ফেরি সচল রেখেছি।

 

Check Also

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী পুরুষ সমতা” ও “নারী পুরুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *