Sunday , June 20 2021
Breaking News
Home / মেহেরপুর / গাংনীতে অসহায় মহিলার ক্রয়কৃত জমির মূল্য পরিশোধে নানা টালবাহানা। চেক জালিয়াতি শেষে শরীকদের দিয়ে জবরদখলের অভিযোগ

গাংনীতে অসহায় মহিলার ক্রয়কৃত জমির মূল্য পরিশোধে নানা টালবাহানা। চেক জালিয়াতি শেষে শরীকদের দিয়ে জবরদখলের অভিযোগ

গাংনীতে অসহায় মহিলার
আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  : মেহেরপুরের গাংনীতে অসহায় মহিলার রেকর্ডকৃত বৈধ মালিকানা জমি ক্রয় করে ক্রয়কৃত জমির মূল্য পরিশোধে নানা টালবাহানা শুরম্ন করেছে একটি প্রভাবশালী পরিবার।মূল্য পরিশোধে ভূঁয়া চেক জালিয়াতি শেষে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে শরীকদের ভাড়া করে জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, গাংনী পৌর সভার অনত্মর্গত ৪ নং ওয়ার্ড চৌগাছা দাশ পাড়া সংলগ্ন এলাকায়।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামের মৃত জালালউদ্দীন ওরফে খোকনের স্ত্রী সায়েরা খাতুন, তার ছেলে মমিনুর রহমান মোমিন, মেয়ে চায়না খাতুন উত্তারাধিকার সূত্রে জমির মালিক হওয়ায় ৪৬ নং চৌগাছা মৌজার আর এস দাগ নং ৬৭১৯,শ্রেনী বাড়ি জমির পরিমান ৪.২৫ শতাংশ জমি বিক্রয়ের ঘোষনা দেয়।একপর্যায়ে একই পাড়ার জামাল উদ্দীনের ছেলে গাংনী পৌরসভায় কর্মরত রবিউল ইসলাম ও তার প্রবাসী ভাই মিনকুল ইসলাম সর্বোচ্চ ২৪ লাখ মূল্যে ক্রয় করতে চাইলে বিক্রেতা সম্মতি জ্ঞাপন করলে গত ১৮-০৮-২০২০ ইং জমি রেজিস্ট্রী সম্পন্ন হয়।যার দলিল নং-৪১৩৬।

গাংনীতে অসহায় মহিলার

জমির মালিক সায়েরা খাতুন ও তার ছেলে মোমিন জানায় , আমরা অসহায় মানুষ। আমাদের সাথে দালালি করে শাহাবুল এতবড় প্রতারণা করেছে। আমাকে নগদ টাকা না দিয়েও রেজিষ্ট্রী অফিসে আমাকে নানাভাবে আশসত্ম করে আমাকে কিছু বলতে দেয়নি। সাড়ে ১৩লাখ টাকা নগদ দেয় এবং কয়েকদিন পরে ৬ লাখ টাকার চেক দিয়েও শাহাবুলের কথামত চেক ফেরত নিয়ে আর টাকা দেয়নি।আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি উক্ত দলিল বাতিল করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
প্রতিবেশী নজরম্নল ইসলাম জানান, জমি ক্রয়ের আগে আমার সাথে ক্রেতা রবিউল ইসলামের বিসত্মারিত কথা হয়। জমির বৈধতা যাচাই করার জন্য রেকর্ড কপি, খারিজ খাজনা হাল চেক সবকিছু দেখে জমি রেজিষ্ট্রী করা হয়। তিনি আরও জানান, জমি ক্রয়ের সময় ৬ লাখ টাকা শতক হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেসময় ক্রেতা রবিউল ইসলাম নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এবং নগদ টাকা না থাকায় ৬ টাকার ব্যাংক চেক হসত্মানত্মর করেছে বলে শুনেছি। জমি ক্রয়ের কয়েকদিনের মধ্যে গ্রামের একজন দালাল আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে শাহাবুলের ইন্ধনে রবিউল ইসলাম প্রতারণার ফাঁদ পেতে কৌশলে নগদ টাকা দেয়ার শর্তে জমি বিক্রেতা সায়েরা খাতুনকে ভুল বুঝিয়ে ৬ লাখ টাকার ব্যাংক চেক ফেরত নেয়। জমি ক্রয়ের ৮ মাসের মধ্যে ক্রেতা ক্রয়কৃত জমি খারিজ হোল্ডিং করে নিয়েছে। অথচ জমির মূল্য অদ্যাবধি পরিশোধ করা হয়নি। ইতোমধ্যে জমির মূল্য পরিশোধে গড়িমসি শুরম্ন করেছে। প্রতারক রবিউল ইসলাম জমির মূল্য ফাঁকি দেয়ার জন্য নতুন কৌশল- ফন্দি তৈরী করে মালিককে জানিয়েছে তোমার জমি ২ শতক ঠিক রয়েছে বাদবাকী ২ শতক জমির কোন বৈধতা নেয় তাই আমি মূল্য দিতে পারবো না। এই নাটক সাজাতে আজ শনিবার সকালে গ্রামের ভাড়াটে মাসত্মান রেজাউর হক, সিরাজুল হক, ইরাজ আলী, তার ও ছেলেদের উত্তরাধিকার সাজিয়ে ২ শতক জমি বাদি ঘর ভেঙ্গে জোরপূর্বক জবরদখলের অপচেষ্টা চালায়। এসময় গাংনী থানা পুলিশের একটি দল খবর পেয়ে ঘটনাস’লে এসে জবরদখল বন্ধ করে।
পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ড চৌগাছা গ্রাম আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী গোরঅম কিবরিয়া জানান, একজন অসহায় মহিলার সাথে জমি নিয়ে প্রতারণা করা ঠিক হয়নি। ২৪ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র সাড়ে ১৩ লাখ টাকা নগদ দিয়ে বাদবাকী টাকা দিতে গড়িমসি করছে। এর বিচার হওয়া দরকার। দলীয় ড়্গমতা দেখিয়ে এতবড় অন্যায় করা দলের ভাবমুর্তি ন্‌ষ্ট হয়। সে বৈধ জমি ক্রয় করেছে । তাকে শর্ত মোতাবেক সমসত্ম টাকা পরিশোধ করতে হবে। এখন টালবাহানা করলে কোন লাভ হবে না। সমগ্র গ্রামের লোকজন এখবর শুনে ধিক্কার জানিয়েছে।

 

গাংনীতে অসহায় মহিলার

এব্যাপারে জানতে প্রতিপড়্গ রবিউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেন নি।তবে অন্য মারফত জানা গেছে, তিনি সব খানেই বলে বেড়াচ্ছেন যে, আমি টাকা পয়সা পরিশোধ করেই জমি ক্রয় করেছি। টাকা বাকী রেখে কেউ জমি রেজিস্ট্রী দেয়!
এব্যাপারে গাংনী থানার ওসি তদনত্ম সাজেদুল ইসলাম জানান,চৌগাছা গ্রামের সায়েরা খাতুন এর নিকট থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেড়্গিতে উভয়পড়্গকে নিয়ে কাগজপত্র দেখে সমস্যাটার একটা সুরাহা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

Check Also

মেহেরপুরে কোলড্রিংস ভেবে কীটনাশক পানে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরে কোলড্রিংস ভেবে কীটনাশক পানে শিশুর মৃত্যু

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  ঃমেহেরপুর সদরের ঝাউবাড়ীয়া গ্রামে কোলড্রিংস ভেবে কীটনাশক পান করে অবুঝ শিশুর মৃত্যু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *