Sunday , June 20 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার :  যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে করোনাভাইরাস যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামো ও শতাধিক জলযান উদ্বোধনকালে এ অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সব জলযানের রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ম মেনে নৌযান পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক আমাদের যারা এ নৌযানগুলো চালান বা পরিচালনা করেন বা যারা ব্যবসা করেন; যাত্রীদের সুরক্ষা যেমন তাদের দেখতে হবে আবার যাত্রীদেরও নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে।… নৌযানে যাতায়াতকারী ও পরিচালনাকারী সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। একটা নৌযানে কতজন মানুষ উঠতে পারে, চড়তে পারে, ঠেলাঠেলি করে সব একসঙ্গে উঠতে গিয়ে তারপর একটা অ্যাকসিডেন্ট হবে আর নিজেদের জীবনটা চলে যাবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে যেতে গিয়ে যখন একটা দুর্ঘটনা ঘটে, যে মানুষগুলোর জীবন চলে যায়, আর যারা আপনজন হারিয়ে বেঁচে থাকে তাদের কষ্টের কথাটা একবার আপনারা চিন্তা করবেন। কাজেই এটুকু ধৈর্য ধরতে হবে। যেকোনো একটা বিপদ এলে ধৈর্য ধরতে হবে, সবর করতে হবে। সেই সবরটা সবারই করা উচিত এবং নিয়মগুলো মেনে চলবেন। একটা কথা আমি একটু বলব, আমাদের দেশ ৬ ঋতুর দেশ। কাজেই প্রতি দুই মাস পর পর ঋতু পরিবর্তন হয়। যেমন এখন কাল বৈশাখীর সময়, যখনই যারা চলাচল করবেন একটু সাবধানে চলাচল করবেন। সব নৌযানের রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাছাড়া আমাদের যেসব নৌযান চলাচল করে আমি মনে করি প্রত্যেকটারই রেজিস্ট্রেশনের সিস্টেম থাকা উচিত। রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে অনেক সময় কে কার কি, ক্ষতিপূরণের কি ব্যবস্থা সেগুলো করা যায় না। নৌযান চালকসহ সংশ্লিষ্টদের উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে এ জলযান যদি আমরা পরিচালনা করতে পারি তাহলে কিন্তু অ্যাকসিডেন্ট কমে যাবে। সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাব।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাকালীন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বেঁচে থাকলে তো দেখা হবে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সবাই ছোটাছুটি না করি। যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদটা উদযাপন করেন। সংক্রমণ ঠেকাতে যাতায়াত সীমিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই করোনাটা যাতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সবার কাছে আমার অনুরোধ-স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা, আর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত একেবারে অতি প্রয়োজন না হলে আপনারা করবেন না। শেখ হাসিনা বলেন, এই যাতায়াতটা করতে গেলেই কে যে সংক্রমিত আপনি জানেন না। কিন্তু সে যখন অন্য জায়গায় যাবে অনেক লোককে করোনায় সংক্রমিত করবে এবং তাদের জীবন নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। সেটা যাতে না হয় সেজন্য আমরা এই যাতায়াত সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। একই সঙ্গে মানুষের জীবনে যেন আর্থ-সামাজিক কর্মকা-গুলো অব্যাহত থাকে, সেটাও সীমিত আকারে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে যেন করে তার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। করোনা মহামারীর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর যারা বিত্তশালী আছেন তারা দুঃস্থদের একটু সহযোগিতা করেন। সেটা আরো বেশি সওয়াবের কাজ হবে বলে আমি মনে করি।

করোনা সংকটে অসহায় মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজ কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের দেশের মানুষকে সত্যিই খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে সহযোগিতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত, অতি দরিদ্র, কর্মহীন বা দিনমজুর বা এখন যারা কাজ করতে পারছেন না- রিকশা-ভ্যান, পরিবহণ শ্রমিকসহ স্বল্প আয়ের মানুষ, ইতোমধ্যে ৩৬ লাখ ৫০ হাজার অসহায় মানুষের জন্য আমরা আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দিয়েছি। তাছাড়া এই রোজার মধ্যেও আমাদের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্নভাবে আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে দেশে খাদ্য সংকট পরিস্থিতি এড়াতে কৃষির আবাদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বিআইডবিস্নউটিএর ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার, ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই)’, বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ ‘পরিদর্শী’, নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেজ, বিআইডবিস্নউটিসির দুটি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা আবাসন’ পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৫শ পাকা বাড়ি বিতরণ এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন একাডেমি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা আবাসন’ পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে সচিবালয়ের নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় থেকে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গণভবন প্রান্ত থেকে সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

 

Check Also

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী পুরুষ সমতা” ও “নারী পুরুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *