Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / খবর / গাংনীতে এবছর ধানের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা থাকলেও কোন কোন ধানচাষীর মাথায় হাত। হিটশক ব্লাষ্ট ভাইরাসে ধানক্ষেত বিনষ্ট

গাংনীতে এবছর ধানের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা থাকলেও কোন কোন ধানচাষীর মাথায় হাত। হিটশক ব্লাষ্ট ভাইরাসে ধানক্ষেত বিনষ্ট

হিটশক ব্লাষ্ট ভাইরাসেআমিরুল ইসলাম অল্ডাম  ঃ মেহেরপুরের গাংনীতে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এবছর ধানের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ মূহুর্তে কোন কোন ধানচাষীর মাথায় হাত উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ধানক্ষেতে অজ্ঞাত রোগ বা হিটশক বস্নাষ্ট রোগে ধানক্ষেত বিনষ্ট হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজার মূল্য ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিলেও ধানখোলা ,খড়মপুর, মহিষাখোলা ,পাকুড়িয়া, নিত্যানন্দপুর, চিৎলা গ্রামের শতাধিক ধানচাষীর মুখে হাসি ম্লান হয়ে গেছে। গাংনী উপজেলায় প্রায় ৪৫ ভাগ আবাদী জমিতে বোরো জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।
গাংনী একসময় খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলার স্বীকৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল।ফলে মারাত্মক ভাবে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বর্তমানে সেই অবস’া কেটে গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছএেবছর গাংনীতে ধান চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৭ হাজার ১ শ’হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলনের সম্ভাবনা ৭ টন।
ধানখোলা উত্তরপাড়া গ্রামের ধানচাষী রুহুল আমিন মেম্বরের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ শনিবার বিকেলে সরেজমিনে ধান ক্ষেত পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে দেখা গেছে, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই সোনালী ধানের গন্ধে ধানের খোলা, বাড়ির আঙ্গিনা ধানের মিষ্টি মৌ, মৌ গন্ধে ভরে উঠার কথা । কিন’ কোন কোন মাঠে ধান ড়্গেতে গেলে বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট পরিলক্ষিত হয়।ধানখোলা উত্তরপাড়া গ্রামের রম্নহল আমিন মেম্বরের ৩ বিঘা, আসাদুল ইসলামের দেড় বিঘা, জিব্রাইল এর ১ বিঘা, দবিরউদ্দীনের দেড় বিঘা জমির ধানসহ ধানখোলা বয়রাগাড়ি, নলগাড়ি ও কিনিখালি মাঠ, শিশিরপাড়া মাদিয়ার মাঠের অনেকের ধান ড়্গেতে অজ্ঞাত ভাইরাস রোগে ধানের শীষ প্রথমতঃ সাদা ও চিটা পড়ে গেছে। ধানচাষীরা জানান, আমরা অনেকেই কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে নতুন জাত বারি-৬৩, বারি-২৮সহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করেছিলাম। কিন’ ভাগ্য বিমুখ। এত টাকা খরচ করে ধানচাষ করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

হিটশক ব্লাষ্ট ভাইরাসে

ধানখোলা উত্তরপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ্য’ চাষী আসাদুল জানান,জমিতে ধান দেখে কান্না আসছে।বিঘা প্রতি ২ মন ধানও হবে না। এবছর ধান না হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে কি খেয়ে বাঁচবো। ধানের ড়্গেতে অজ্ঞাত রোগে বা ভাইরাসে ড়্গতিগ্রস’ জমি দেখতে ্‌একদিনও কৃষি অফিসের কোন মাঠকর্মীকে দেখা পায়নি। কোন দিক নির্দেশনা বা পরামর্শ দিতে কেউ আসেনি।

জেলা কৃষি উপপরিচালক জানান, ২০০১ সালের কৃষি শুমারী অনুযায়ী গাংনী উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ২৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর ।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে উপজেলার সব মাঠে ধানের ড়্গেতে অ্‌জ্ঞাত রোগ বা হিটশক ভাইরাস আক্রানত্ম হয়নি।তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোন কোন নিচু জমিতে যেখানে সব সময় পানি জমে থাকে, নিষ্কাশনের ব্যবস’া তেমন নেই, সেখানেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দীন জানান, বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় চাষীরা বোরো চাষে এগিয়ে আসছে।পাশাপাশি ইতোমধ্যেই অনেক চাষী সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান চাষীরা লাভবান হয়েছে। কয়েকটি মাঠে কিছু জমিতে হিটশক ব্লাস্ট রোগে কিছুটা  ক্ষতি হলেও লাইন লোগো বা সারি পদ্ধতিতে ধান চাষ করে চাষীরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর কৃষকরা যে অভিযোগ করেছেন যে, কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা কেউ চাষীদের সাথে পরামর্শ করে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি সরেজমিনে ধানক্ষেত পরিদর্শনে যাবো।

হিটশক ব্লাষ্ট ভাইরাসে

Check Also

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

খবর বিজ্ঞপ্তিঃ বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো” মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *