Sunday , June 20 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে ” করোনাকালে দেশে নতুন দরিদ্র দেড় কোটি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে ” করোনাকালে দেশে নতুন দরিদ্র দেড় কোটি

  সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ

স্টাফ রিপোর্টার:  সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে, কর্মসংস্থানের দিক থেকে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হচ্ছে- উৎপাদন, নির্মাণ, ট্রান্সপোর্ট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। মাঝামাঝি ঝুঁকির খাত হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আভ্যন্তরীণ সেবা ও শিক্ষা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। তবে কৃষি ও তথ্য যোগাযোগ খাতে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।করোনা মহামারীর প্রভাবে দেশের ১ কোটি ৬৮ লাখ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন মোট শ্রমশক্তির কমপক্ষে তিন শতাংশ মানুষ। আর মহামারিতে চলতি বছরে শেষ নাগাদ এসএমই ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

গতকাল শনিবার ‘করোনাকালে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে ট্রেড ইউনয়িনের ভূমিকা : কতিপয় প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়। সিপিডি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউ অব লেবার স্টাডিজের (বিআইএলএস) যৌথ উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল সংলাপ হয়। সিপিডির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের কোষাধ্যক্ষ এবং এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর সভাপতিত্বে সংলাপে সিপিডির ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিলসের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, বিলসের ভাইস চেয়ারপার্সন সংসদ সদস্য শিরিন আখতারসহ অন্যরা এ সময় বক্তব্য রাখেন।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সংলাপের মূল প্রতিবেদন উপস্থাপনায় বলেন, করোনাকালে কাজ হারিয়ে গরিব মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে দরিদ্র হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ মানুষ। দেশের ২০ শতাংশ পরিবারের আয় কমে গছে। এ অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পথে থাকলেও নতুন সংক্রমণ তা বিলম্বিত করছে। নতুন করে আরো দরিদ্র হওয়া ও কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।করোনায় প্রচুর মানুষ কাজ হারিয়েছে। বিভিন্ন স্তরের হিসাব করলে এ সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫ লাখ হতে পারে। কর্মহীন হওয়াদের মধ্যে প্রচুর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক রয়েছে। করোনা সংক্রমণের প্রধম ধাপে সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষের বেতন কমেছে ৩৭ শতাংশ, ঢাকায় ৪২ ও চট্টগ্রামে ৩৩ শতাংশ। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৬৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। শহর এলাকায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে এমন ১০০ জনের মধ্যে ৬৯ জন এখনো চাকরি হারানোর ঝুঁকির মধ্যে আছে।
কর্মসংস্থানের দিক থেকে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হচ্ছে, উৎপাদন, নির্মাণ, ট্রান্সপোর্ট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। মাঝামাঝি ঝুঁকির খাত হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আভ্যন্তরীণ সেবা ও শিক্ষা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। তবে কৃষি ও তথ্য যোগাযোগ খাতে কম ঝুঁকিতে রয়েছে। সংকটকালীন সময়ে শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সীমিত সাফল্য এসেছে।
২০২০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার লাখ অভিবাসী শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে কোভিড-১৯ প্রভাব ২০২০ সালের প্রথমার্ধে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে অধিকাংশ শ্রমিক তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এজন্য দেশের ট্রেড ইউনিয়ন গুলিকে সংগঠিত এবং অসংগঠিত উভয় ধরনের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শ্রমবাজারের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মোয়াজ্জেম আরো বলেন, অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। জাতীয় সামাজিক সুরক্ষানীতির ওপর ভিত্তি করে, ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে শ্রমজীবী বয়সের লোকেরা, সামাজিকভাবে বঞ্চিত গোষ্ঠীগুলো, একটি খাদ্য স্থানান্তর কর্মসূচী, এবং সাশ্রয়ী মূল্যের সামাজিক বিধানের আওতায় শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা ব্যবস্থাগুলি চিহ্নিত করতে হবে। সরকার, নিয়োগকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও মানবাধিকার সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর করতে একত্রে কাজ করা উচিত। সংলাপে বলা হয়, করোনায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে দিন মজুর, পরিবহণ কর্মচারী, রাস্তার দোকানদার, হকার, চা বিক্রেতা ও ইনফরমাল সেক্টরের মানুষজন। তাদের ৬৩ শতাংশ ঘর ভাড়া দিতে পারেনি, ৩৯ শতাংশ ইউটিলিটি বিল, ৩৬ শতাংশ স্কুল ফি দিতে পারেনি। ৫৭ শতাংশ গরিব মানুষ গ্রামে টাকা পাঠাতে পারেনি। বিলসের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। এই সব কর্মকা-ে ট্রেড ইউনিয়নের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বাংলদেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলো করোনা-কালের সংকটের মাঝে মানবিক ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে গেছে। তাদের কর্মকান্ডের ব্যাপ্তির পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নীতিগুলো এবং নিয়োগকারীদের কর্মকা-গুলোকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে আরো সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শিরীন আখতার বলেন, করোনার শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সংলাপ জরুরি। শুধু একতরফা নয় সক্রিয় সামাজিক সংলাপে মালিক পক্ষ, সরকার, ও ট্রেড ইউনিয়ন সবার অংশগ্রহণ সব পক্ষকে থাকতে হবে। আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন বলেন, সংগঠিত এবং অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা সরবরাহের আওতায় আনার দিকে সরকারের মনোনিবেশ করা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অংশগ্রহণমূলক সামাজিক সংলাপে কোনো বিকল্প নেই। তবে সব পক্ষকে নিয়ে সংলাট উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এনজিডবিস্নউএফ)-এর সভাপতি ও বিলস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমিরুল হক আমিন এবং জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল।

Check Also

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী পুরুষ সমতা” ও “নারী পুরুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *