Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / মেহেরপুর / ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস সীমিত পরিসরে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের আস্ফালন কমেনি ——হানিফ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস সীমিত পরিসরে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের আস্ফালন কমেনি ——হানিফ

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম / জাহিদ হাসান ঃ আজ ১৭ এপ্রিল। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকাননের শেখ হাসিনা মঞ্চের সামনে থেকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের সূচনা করা হয়েছে। বৈশ্যিক মহামারির কারণে এ বছরে প্রতিটি অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে শিথিলতা। মানা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম হানিফ এমপি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ আমরা দেখি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের আস্ফালন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধীতা করেছে। সংবিধানে বিরোধীতা করেছে। যারা জাতীয় সংগীত গায়না, জাতীয় পতাকাকে সম্মান করেনা,তাদের স্বাধীন বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে থাকার অধিকার রাখেনা। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই। স্বাধীন রাস্ট্রে বাস করতে হলে সংবিধান মানবে,স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে, জাতীয় পতাকাকে সম্মান করবে, জাতীয় সংগীত গাইবে শুধু তারাই এদেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার রাখবে।
আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে- মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকাননে শেখ হাসিনা মঞ্চে আয়োজিত আলোচানা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেই মাহবুবুল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের হুইফ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, যখন বাংলাদেশ চরম দরিদ্রতা হতে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। নানা উন্নয়নে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সকল দেশ বলছে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ঠিক সে সময় ৭১ এর পরাজিত শক্তি দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস’ করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করছে। ব্যর্থ রাস্ট্র বানাতে তারা বিভিন্ন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম দিয়ে ধর্মের দোহায় দিয়ে ধ্বংসাক্তক কর্মকান্ড করছে। কখনো হেফাজতের নাম দিয়ে বা জামায়াতের নাম দিয়ে ইসলামের দোহায় দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রানত্ম করে এদেশের রাস্ট্রীয় সম্পদকে ধ্বংস করছে। এদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস’ করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ। তার নেতৃতেই সকল প্রকার ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডের কঠোরভাবে দমন করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রজাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবো।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

এসময় উপস্থি’ত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন এমপি, মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদণজ্জামান খোকন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ রাস্ট্র প্রতিষ্ঠায় একদিনের আলোচনার টেবিলে এটি আসেনি, বা কারোর দয়ায় আসেনি।
বাঙ্গালী জাতীর দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে এসেছে স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা এসেছে ১৯৪৮ সালে জাতির জনকের নেতৃত্বে, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার আকাংখা জাগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৬৬ এর ছয় দফার পর জাতির পিতাকে রাস্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। তার বিরম্নদ্ধে চূড়ানত্ম শাসিত্মর জন্য সামরিক রম্নল জারি করা হয়েছিল। এর পরে বাঙ্গালী জাতি জেগে উঠেছিলেন স্বাধীনতার সংগ্রামে। তার মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রামে নেমে পড়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে বাঙ্গালী জাতি বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে এনে ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৭০ এর নির্বাচনে নিরম্নঙ্কুশ জয়লাভ করে।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

৭১ এর ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। তখনি পাকিস’ানীরা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই পাকিস’ানীরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সার্চ লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো। আর বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। তারপর পরই বঙ্গবন্ধুকে রাস্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

পরে জাতীয় চার নেতার নেতত্বে ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। তারপর ১৭ এপ্রিল পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের সহযোগীতায় মুজিবনগর আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করা হয়। সেই সরকারের নেতৃত্বেই ৯ মাসের সস্বস্ত্র সংগ্রামের মাধমেই দেশকে শত্রুমুক্ত করা হয়।
সারা বিশ্ব করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যসত্ম। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়, তারপরেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা করোনা মোকাবেলা করে আসছি। করোনার কারণে এই ঐতিহাসিক দিবসটি ছোট করা হয়েছে। অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমরা করোনা মোকাবেলা করে আসছি।
যারা দেশকে বিশ্বাস করে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাদের জন্য এ দিবসটি একটি গুরম্নত্বপূর্ণ দিন।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৮১৬ সালে প্রথম মুসলিস নেতা হিসেবে হাজী শরিয়তুলস্নাহ বৃটিশদের বিরম্নদ্ধে ফরায়েজি আন্দোলন করেন, তিতুমীর বাঙ্গালী জাতির মুক্তির জন্য বাঁশের কেলস্না দিয়ে দূর্গ বানিয়েছিলেন। তিনিও ব্যর্থ হয়েছিলেন। মাস্টার দা সূর্য্য সেন, প্রীতিলতা সেন আন্দোলন করেছেন। তাদের জীবন দিয়েছিলেন। বারবার রক্ত দিয়েছিলেন, স্বাধীনতা আসেনি। নেতাজি সুভাষ বসু বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি স্বাধীনতা দেবো। স্বাধীনতা আসেনি।

 

Check Also

কর্মহীন মানুষের

মেহেরপুরে মহামারী করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে বিনা মূল্যে শাকসবজি বিতরণ কর্মসূচী

Kbdnews  ঃ মেহেরপুরে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লক ডাউন এর কারনে দিনমজুর, স্বল্প আয়ের দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *