Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / অর্থনীতি / গাংনীতে কৃষি অফিসের পরামর্শে” কৃষকের মুখে হাসি

গাংনীতে কৃষি অফিসের পরামর্শে” কৃষকের মুখে হাসি

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম :  মেহেরপুরের গাংনীতে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এবং কৃষি অফিসের দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে এবছর বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজার মূল্য ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। গাংনী উপজেলায় প্রায় ৮৫ ভাগ আবাদী জমিতে নানা ধরনের ফসলের আবাদ হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে গম, ভূট্টা, গোলআলু, মসুর, সরিষা, সবজি ও ধান চাষে চাষীরা লাভবান হওয়ায় গাংনীতে কৃষি বিপস্নব দেখা দিয়েছে। কৃষি পণ্যের বাজার দর নিম্নমূখী হওয়ায় অনেক চাষীরা চাষ কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে কৃষি বান্ধব সরকার এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষীরা নতন করে চাষ কাজে ঝুকে পড়েছেন।
গাংনী একসময় খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলার স্বীকৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল।ফলে মারাত্মক ভাবে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা কেটে গেছে।এবছর গাংনীতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫ শ’হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৫ হাজার ৭শ, হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ৪.২ টন, ভূট্টা চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২ শ’হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৬ হাজার ৫শ, হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ১২ টন, সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর,অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৪শ, হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫ টন, মসুর চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৫ হাজার হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৫ হাজার ৫শ, হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫ টন, গোলআলু চাষের লড়্গ্যমাত্রা ছিল ৩ শ’ হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৩ শ’ হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ২৫ টন, ধান চাষের লড়্গ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ১ শ’হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলনের সম্ভাবনা ৭ টন, গম চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫ শ’হেক্টর,অর্জন হয়েছে ৫ হাজার ৭শ, হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ৪.২ টন, সবজি চাষের লড়্গ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর,অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৪শ’ হেক্টর, হেক্টর প্রতি ফলন ৩৫ টন ।

জেলা কৃষি উপপরিচালক জানান, ২০০১ সালের কৃষি শুমারী অনুযায়ী এ জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ১২৪ হেক্টর। বর্তমানে গাংনী উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ২৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর বলে জানায় গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, স্বাভাবিক নিয়মের দ্বিগুন হারে এ উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। এর প্রধান কারণ অস্বাভাবিকভাবে নতুন করে গড়ে উঠা ইটভাটা। এবার বোরো আবাদ তুলনামূলক বেশী হওয়ায় গাংনীতে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাংনী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই উপজেলায় ২৮ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হচ্ছে। ভোমরদহ, ধর্মচাকী, ভরাট , দুর্লভপুর, তেতুলবাড়ীয়া, হিন্দা, ইত্যাদি মাঠে প্রচুর তামাক চাষ হয়েছে।এখানকার জমির বর্গামূল্য এমনই যে শুধুমাত্র তামাক চাষকালীন সময়ে (সাড়ে ৪ মাসের জন্য) ১ বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকায় লিজ দেয়া হয়। তবে এবছর অন্যান্য ফসলের বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় তামাক চাষ থেকে চাষীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে কৃষি অফিসের দাবি।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দীন জানান,তামাক চাষে বিভিন্ন কোম্পানী নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন তাই চাষীরা তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। আমরা চাষীদের বুঝাতে চেষ্টা করি যে তামাক চাষে জমির উর্বরতা কমে যায়। তারপরেও বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় চাষীরা বোরো চাষে এগিয়ে আসছে।পাশাপাশি ইতোমধ্যেই অনেক চাষী সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সব ধরণের ফসল চাষে চাষীরা লাভবান হয়েছে।বিশেষ করে নতুন উদ্ভাবিত গম বীজ বারি-৩৩ আবাদে বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ১৮ মন হারে গম উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে লাইন বা সারি পদ্ধতিতে ধান চাষ করে চাষীরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

Check Also

কর্মহীন মানুষের

মেহেরপুরে মহামারী করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে বিনা মূল্যে শাকসবজি বিতরণ কর্মসূচী

Kbdnews  ঃ মেহেরপুরে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লক ডাউন এর কারনে দিনমজুর, স্বল্প আয়ের দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *