Sunday , May 16 2021
Home / বাংলাদেশ / ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস ‘ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৯ ও নতুন আক্রান্ত ৩৬৭৪ জন

ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস ‘ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৯ ও নতুন আক্রান্ত ৩৬৭৪ জন

 

ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাসআবারো বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৯ জন। গত ১৫ ডিসেম্বরের পর এটাই সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। গত ১৫ ডিসেম্বর একদিনে ৪০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৭৪ জন। এ নিয়ে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেন দেশে। বর্তমানে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ঢাকাকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনা।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৭১ জন। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৫০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে পুরুষ ২৪ জন ও নারী ১৫ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ছয় হাজার ৬৯৫ জন এবং নারী দুই হাজার ১৭৪ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, আর নারী ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৪ হাজার ৭২৬টি, আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৬৬৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৪টি। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৬টি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৮টি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে বর্তমানে ২২৪ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ১২০টি পরীক্ষাগারে, জিন-এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৩১টি পরীক্ষাগারে এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৭৩টি পরীক্ষগারে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি রয়েছেন ২৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছেন তিনজন। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে অধিদফতর জানিয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দুইজন করে এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগের আছেন একজন করে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া এক হাজার ৯৭১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন এক হাজার ৪৮৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৪৮ জন, রংপুর বিভাগের দুইজন, খুলনা বিভাগের চারজন, বরিশাল বিভাগের সাতজন, রাজশাহী বিভাগের ৯ জন, সিলেট বিভাগের ১০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন তিনজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৯১৬ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৮২৯ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৯১০ জন, ছাড়া পেয়েছেন ছয় লাখ নয় হাজার ৮১৭ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৫ হাজার ৯৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১৯৩ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৬৪ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন এক লাখ তিন হাজার ৪৬২ জন, ছাড় পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৪৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১০ হাজার ৭১৮ জন।
মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. সৈয়দ অলী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, এ হাসপাতালের সব ওয়ার্ডই প্রায় রোগীতে ভর্তি। আর এখন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করানোই বেশ টাফ হয়ে যাচ্ছে, সামনে আরো হবে। আইসিইউতে বেড পাওয়া এখন সোনার হরিণ। প্রতিদিন ওয়ার্ড থেকে গড়ে পাঁচ থেকে ১০ জন রোগী আইসিইউর অপেক্ষায় থাকে।
তিনি আরো বলেন, গত মাসের দিকে আমাদের পরিকল্পনা ছিল নন-কোভিড ওয়ার্ড চালু করা। তা আর হয়নি, এরপর আমরা ১১ তলা কেবিন চালু করি। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে ১২ তলা কেবিন আর ৭ তলা ওয়ার্ড খুলে দিয়েছি। এখন অধিকাংশ ওয়ার্ডই পরিপূর্ণ। কোনো বেড ফাঁকা নাই। হাসপাতাল এখন বেড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ঢাকায় করোনা সংক্রমণ ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। যার কারণে এখানে তালিকাভুক্ত হাসপাতালের সাধারণ বেড ও আইসিইউ সংকট চলছে। এমনকী তালিকাভুক্ত হাসপাতালের বাইরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বেড সংকট। বেডের অভাবে রোগীদের ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে করোনাতে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের বেড সংকট দেখা যাচ্ছে, সংকট রয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ)। করোনা রোগীদের জন্য করোনা ডেডিকেটেড অন্যতম পাঁচ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই।
এদিকে, করোনা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়তে থাকায় সরকারি আরো পাঁচটি হাসপাতালকে পুনরায় প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে করোনা চিকিৎসায় ডেডিকেটেড করা হয়েছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকাতে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যু বেশি ছিল। ঢাকাতে কেন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে জানতে চাইলে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ভারত ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে আমাদের প্রধান যোগাযোগ বিমানবন্দর দিয়ে। আর দেশের বাইরে থেকে যারা আসছেন তাদের একটা বড় অংশ ঢাকাতেই থাকেন, এটা হচ্ছে করোনার উৎপত্তি। একইসঙ্গে ঢাকায় ঘনবসতি বেশি। নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। তিনি আরো বলেন, আর মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কেউ মাস্ক পরছে না, সামাজিক দূরত্ব মানছে না। যার কারণে ঢাকার পরিস্থিতিরি অবনতি হচ্ছে।

Check Also

মোল্লাহাটে

মোল্লাহাটে আধিপত্যের জেরে ঈদের রাতে বৃদ্ধকে গলাকেটে হত্যা !

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *