Saturday , May 8 2021
Breaking News
Home / খবর / মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

download মাদকদ্রব্য
Kbdnews  ডেস্ক: মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সমাজকে বাঁচানোতে জিরো টলারেন্সে রয়েছে সরকার। এককথায় সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এতোদিন সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে দেশ থেকে মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য পুরনো আইনে বেশ কিছু সংশোধনী ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই বদলে যাবে পুরনো আইন। নতুন করে

সাজানো হচ্ছে গোটা প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি। মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরই মূল ভূমিকায় থাকবে। সেজন্য প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা বাড়ানো হবে। থাকবে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী, নৌ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি। এখন থেকে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা শুধু র‌্যাব-পুলিশকে নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আমলে নিতে বাধ্য হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সময় চাওয়া মাত্রই পুলিশ পাওয়া যায় না। ওই সুযোগে মাদককারবারিরা আস্তানা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাছাড়া অস্ত্রধারী মাদককারবারিদের হামলায় অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বিগত এক দশকে নিরস্ত্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা অস্ত্রধারী মাদককারবারিদের কাছ থেকে ১৩টি রিভলবার, ৫৭টি পিস্তল, একটি শর্টগান, একটি পাইপগান, ৪টি এয়ারগ্যান, ২৩টি ম্যাগজিন এবং ৬৪৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। অনেক সময়ই অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কারণ দিন দিনই মাদককারবারিরা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হচ্ছে, যা অভিযানের জন্য হুমকিস্বরূপ। সেজন্যই মাদক বিভাগের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। অধিদফতরের নিজস্ব অস্ত্রধারী সদস্য থাকলে কাজের গতি আসার পাশাপাশি মাদককারবারিরাও আতঙ্কে থাকবে। মাদক বিভাগ নিরাপদে অভিযান চালানোর স্বার্থে অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ সাড়া দিয়ে বিষয়টির সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় অস্ত্র প্রদানসহ আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারপরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আওতায় অস্ত্রের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ ও পেশাদার জনবল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অধিদফতরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ইনফোর্সমেন্ট কাজের জন্য ১ হাজার ৮০০ জনবলের মঞ্জুরি রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭শ’ জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তার মধ্যে ৫শ’ সিপাহীর নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত। তাদেরই অস্ত্রধারী সিপাহীর দায়িত্ব দেয়া হবে। মূলত সিপাহী, এসআই ও ইন্সপেক্টরদের অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিশেষ বিবেচনাধীন রয়েছে। অস্ত্র ও ডগ স্কোয়াডের পর সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে মোবাইল ফোনের লোকাল ট্রেকার। অনেক চেষ্টার পর ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) মাদক বিভাগের জন্য একজন কর্মকর্তাকে ওই কাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন অধিদফতর লোকাল ট্রেকারের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই ট্রেকার পাওয়া গেলে মাদককারবারিদের অবস্থান নির্ণয়ে আর কারোর সহায়তা নিতে হবে না। তাছাড়া অপারেশনাল কাঠামোতে পরিবর্তনের পাশাপাশি মান্ধাত্মা আমলের আইনেরও কিছু আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ জাতীয় বোর্ড থাকলেও ২০১৮ সালে প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৩(ক) নম্বর ধারায় জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। অধিদফতরকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কিছু কার্যক্রম চলমান। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত নিরস্ত্র কর্মী বাহিনী মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। ওই কাজ করতে গিয়ে অনেক কর্মীকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। তাই অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, মোবাইলের লোকাল ট্রেকার ও নৌইউনিট দ্রুত বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর যতো তাড়াতাড়ি সেগুলো দেয়া হবে, ততো দ্রুতই মাদক অভিশাপ থেকে দেশের মুক্তি মিলবে। এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভা গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। তাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সচিব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সবাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যদের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে সরাসরি মত দেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির পরবর্তী সভায় অস্ত্র প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার জানান, সময়ের প্রয়োজনেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে অস্ত্র ব্যবহারের জন্য আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই এই সংস্থাকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে আর কোন বাধা থাকবে না। তাতে কাজের গতি যেমন বাড়বে, মাদক নিয়ন্ত্রণেও তেমনি সুফল আসবে। একই সঙ্গে ডগ স্কোয়াড ও মোবাইল ফোনের লোকাল ট্রেকার সুবিধা পাওয়া গেলে মাদক নির্মূলের পুরো প্রক্রিয়াই বদলে যাবে। আশা করা যায় অচিরেই এ ধরনের আধুনিকায়ন শুরু করা সম্ভব হবে। এগুলো আজ সময়ের দাবি। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, মাদক অধিদফতরকে আরো শক্তিশালী করতে প্রতিষ্ঠানের কিছু বিধিতে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। যার প্রতিবেদন হাতে আসার পরই বাস্তবায়ন করা হবে।

Check Also

খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত

খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ- পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবের দোয়া ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *