Tuesday , May 18 2021
Breaking News
Home / খবর / বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ মেহেরপুরে কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে’র বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ মেহেরপুরে কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে’র বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

1 2 কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে’র বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য

স্টাফরিপোটার  :  বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মেহেরপুরের বিভাগীয় কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে। তার বিরম্নদ্ধে ইটভাটা মালিকদের জিম্মি করে অর্থবাণিজ্য অসদাচরণ ও হয়রানি সহ বিসত্মর অভিযোগ উঠেছে। এসবের প্রতিবাদ করলেই ট্রলি আটক করে দিনের পর দিন হয়রানি করায় ইটভাটা মালিক ও ট্রলি চালকদের মাঝে ড়্গোভ বিরাজ করছে। আবার কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে কে খুশি করেই ভ্যাট বকেয়া রেখেও দিনের পর দিন ব্যবসা করছে অনেকেই। হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে মানববন্ধন সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত দেওয়ার প্রস’ুতি নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।
মেহেরপুর সদর উপজেলার খোকসা এলাকার ফোর এসবি ইটভাটা মালিক জুয়েল রানা অভিযোগ করে বলেন,চলতি বছরের সাড়ে ৪ লাখ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করলেও ট্রলি ধরে হয়রানি করছে কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে। দিনের পর দিন ঘুরলেও ট্রলি ফেরত দিচ্ছেনা। ট্রলি ফেরত না পাওয়ায় শ্রমিকরা কাজকর্ম করতে না পেরে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
মেহেরপুর জেলা পরিষদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ঠিকাদার মজিরম্নল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ঠিকাদারের মত তিনিও ইটের মূল্যে কম থাকার সময়ে বিভিন্ন ইটভাটা থেকে ইটক্রয় করে তার বাড়ি পার্শে রাখেন। পরে তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মত ইট নিজস্ব পরিবহনে করে সরকারী রাসত্মা,স্কুল কলেজ ভবন ও ব্রীজ নির্মান কাজে ব্যবহার ব্যবহার করেন কিন’ গত বৃহস্পতিবার কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে চোখতোলা এলাকায় ট্রলি আটক করে গাংনী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,তার ব্যক্তিগত ইট ও ট্রলি। কোন ইটভাটার সাথে সম্পর্ক না থাকলেও অজ্ঞাত কারনে ট্রলি আটক করা হয়েছে। কোন ইটভাটা যদি ভ্যাট পরিশোধ না করে তাহলে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিতে পারে। কিন’ ব্যক্তিগত ট্রলি আটক করে তিনি হয়রানি করছেন। তার বিরম্নদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস’তি নিচ্ছেন ইটভাটা মালিক,ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীরা।
কোমরপুর গ্রামের ইটভাটা মালিক সোনা গাইন বলেন, কাষ্টমস কর্মকর্তারা ইটভাটা মালিকদের হয়রানী করছে। তাদের অত্যাচারে ব্যবসা বাণিজ্য পথে বসেছে। ইট ভাটার ভ্যাট পরিশোধ করা হলেও নানা অজুহাতে বাইরে থেকে ট্রলিতে ইট নিতে আসলে তাদের আটকিয়ে হয়রানী করা হয়।
পিরোজপুর গ্রামের ইটভাটা মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভ্যাটের ১ম কিসিত্ম দেয়া হলেও তাদের ট্রলি আটক করা হয়েছে। ২য় কিসিত্ম দিলে ট্রলি ছেড়ে দেবে এমন আশ্বাস দিলেও ট্রলি ফেরত দেয়নি। পরে পূর্নাঙ্গ ভ্যাট পরিশোধ করেও দিনের পর দিন ঘুরেও ট্রলি ফেরত পাচ্ছেন না তিনি।
মৌসুমি ইটভাটা বিধি মালা ২০০৪ সালের ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজস্ব বোর্ড গেজেটে ইটভাটা মালিকদের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম কিসিত্মর ৩৫%,২য় কিসিত্ম ১৫ ফেবু্রয়ারী ৩৫% ও ৩১ মার্চের মধ্যে ৩০% ভ্যাট পরিশোধের নিয়ম থাকলেও সে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রলি আটক করে পূর্নাঙ্গ ভ্যাট আদায় করছে কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে। আবার তাকে খুশি করলেই ছাড় পাচ্ছে অনেকেই। সেড়্গেত্রে নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কাই করছে তিনি।
ইটভাটা আইনের ৯ ধারায় মোতাবেক ভ্যাট না দিলে সংশিস্নষ্ট ইটভাটা কর্তৃপড়্গ,যানবাহন ও ইট জব্দের ব্যবস’া নেওয়ার কথা বলা হলেও রাস্তা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ী ধরে নিয়ে ব্রিটিশ বেনিয়াদের মত জোর করে ভ্যাট আদায়ের কোন নির্দেশনা দেয়া নেই। অথচ কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে ইচ্ছামত ভ্যাট আদায়ের নামে রাসত্মা থেকে ব্যক্তি মালিকানা ট্রলি ধরে নিয়ে অর্থ বাণিজ্য করছেন।
জানা গেছে,মেহেরপুর জেলায় সর্বমোট ১শ’৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সার্কেল ১ মেহেরপুর ও মুজিবনগরে ৪৮টি ও গাংনী সার্কেলে ৫৬টি।
একটি সূত্র জানিয়েছে,চলতি মাসের এ পর্যনত্ম ৩ কোটি টাকার কিছু বেশি ভ্যাট আদায় করা হলেও কাষ্টমস কর্মকর্তার অর্থবাণিজ্য’র কারনে গত ২০১৯/২০ অর্থ বছরের এখন ভ্যাট বাকি রয়েছে অনত্মত কোটি টাকাও বেশি। গত অর্থ বছরের এসব ভ্যাট আদায়ে বিপুল পরিমান টাকা অর্থবাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ করেছে ইটভাটা মালিকরা। ট্রলি জব্দ ও ইটভাটা বন্ধের হুমকি দিয়ে মালিকদের জিম্মি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বামুন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের সততা ইটভাটা মালিক ইছার উদ্দীন জানান,তার ইটভাটা ২০১৮/১৯,২০১৯/২০ ও ২০২০/২১ এই তিন অর্থ বছরের জন্য নিশিপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের কাছে লিজ (বন্দোবসত্ম) দেয়া হয়। তিন বছর ইটভাটা চললেও ২০১৯/২০ অর্থ বছরে ইটভাটা বন্ধ রয়েছে মর্মে কাষ্টমস অফিস প্রত্যায়ন দিয়েছে। ইটভাটা বন্ধের প্রত্যায়ন দিয়ে লাখ লাখ টাকা অর্থবাণিজ্য করেছে কাষ্টমস। টাকার বিনিময়ে চালু ইটভাটা বন্ধ দেখিয়ে প্রত্যায়ন দেওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবিতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক,দূর্নীতি দমন কমিশন সহ কাষ্টমসের উর্দ্ধতন কর্তৃপড়্গের কাছে লিখিত দেয়া হয়েছে। কাষ্টমসের এসব দূর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার কারনে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রড সিমেন্টের দোকানী অভিযোগ করে বলেন,কাষ্টমস কর্মকর্তাদের অত্যাচারে ব্যবসা বন্ধের পথে। তাদের চাহিদা মত টাকা না দিলে নানা ভাবে হয়রানী করা হয়। গাংনী ও মেহেরপুরের দুজন মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক বলেন,রাজস্ব আদায়ের নামে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে লুটপাট শুরম্ন করেছে মেহেরপুরের কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে সহ তার নিয়োগকৃত দালালরা। সরকার যতটা রাজস্ব পায় তার কয়েকগুন কাষ্টমস কর্মকর্তার পকেটে ভর্তি হয়। দূর্নীতি দমন কমিশনের উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,ঘুষবাণিজ্য’র অভিযোগ লিখিত দিলে অবশ্যই ব্যবস’া নেয়া হবে। এছাড়া গোপনে কেউ কোন তথ্য দিলে নাম প্রকাশ করা হবেনা। বরং তার দেয়া তথ্য’র ভিত্তিতে তদনত্ম পূর্বক আইনগত ব্যবস’া নেয়া হবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অসৎ কাষ্টমস কর্মকর্তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড প্রশাসন সদস্য।
গাংনী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন,গত বছরে গাংনী উপজেলায় ৫৪টি ইটভাটা চললেও মাত্র ২৭টির কাছে ভ্যাট আদায় করেছে। বাকী ইটভাটায় ভ্যাট না নিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেছে কাষ্টমস কর্মকর্তারা। কাষ্টমসের অত্যাচারে ইটভাটা মালিকদের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধের পথে। তিনি আরো বলেন সরকারী বিধি মোতাবেক ভ্যাট ইটভাটা মালিকরা অবশ্যই প্রদান করবে কিন’ ইটভাটা ভ্যাট ও নীতিমালা সম্পর্কে মালিকদের অবগত করা হচ্ছেনা। আবার কতিপয় ইটভাটা মালিকদের সাথে গোপনে চুক্তি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এদিকে ছোট দোকান থেকে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরম্ন করে আমদানিকারক, সব জায়গায় বিচরণ করেন কাষ্টমস কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নানা হয়রানি ও খারাপ আচরণ করেন কাষ্টমস কর্মকর্তা। ভ্যাট আদায়ের নামে অর্থ বানিজ্য করার কারনে ফুসে উঠেছে ব্যবসায়ীরা।
জেলা কাস্টমস, একসাইজ ও ভ্যাট অফিসের কয়েকজনের নাম থাকলেও জাতীয় তথ্য বাতায়নে বিভাগীয় কর্মকতর্কা তপন চন্দ্র দে’র কোন তথ্যই নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি ডিজিটাল ব্যবস’াপনা চালু হলে কাষ্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন তারা।
এ বিষয়ে কথা বলতে ও তথ্য চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় মেহেরপুর কাষ্টমস অফিসে দেখা করতে বললেও কয়েক ঘন্টা অপেড়্গা করেও কাষ্টমস কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দে’র দেখা মেলেনি। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেনি।

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

Check Also

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদ’’ সারাদেশে বিক্ষোভ

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। ছবি: ফোকাস বাংলা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *