Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব

রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব

রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব

হেলালউদ্দিন হেলাল :  রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানের ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সিটি কর্পোরেশনেরও কোনো খেয়াল নেই। রাজধানীর বাসিন্দারা মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলো ধ্বংসে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। মশার লার্ভা মারার ওষুধের প্রয়োগও বন্ধ। ফলে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবে টেকা দায় নগরবাসীর। রাজধানী ঢাকায় গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে মশার ঘনত্ব বেড়েছে চার গুণ। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের মশার ঘনত্ব বেশি লক্ষ্য করা যায়। আর মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া না হলে চলতি মাসে মশার ঘনত্ব বেড়ে চরমে পৌঁছাবে।
এদিকে রাজধানীর উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, মহাখালী, নাখালপাড়া, ফার্মগেটসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার বাসিন্দা সিয়াম আহমেদ বলেন, এলাকায় মশা বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর ঘরে বসে থাকা যায় না। রাজধানীর কর্তৃপক্ষ কি রকম মশার ওষুধ ব্যবহার করে বুঝি না। মহাখালীর হাজারি বাড়ি এলাকার একটি মেসে বসবাসকারী ওমর ফারুক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, মশার যন্ত্রণায় দরজা জানালা খেলা যায় না। পড়তে বসলে মশা কামড়ে স্থির থাকা যায় না। আমাদের এখানে মশার ওষুধ ছিটানো খুব একটা চোখে পড়েনি। আমি সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব যেন দ্রুত এই এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করেন।
একই সমস্যার কথা জানান উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণীর বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী বিল্লাল হোসেন নীরব। তিনি বলেন, ১০-১২ দিন দরে মশা বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে মশারি টাঙিয়ে বসে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, মাঝেমধ্যে দেখি ওষুধ ছিটাতে আসে। যেভাবে ধোয়া ওড়ে এভাবে তো মশা মরে না। মশা মারার যে ওষুধ ছিটানো হয় সেটি একটু ভালো মানের হলে মশার উপদ্রব কমবে।
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা কাউছার আলী বলেন, মশার যন্ত্রণা আমরা বড়রা তাও কিছুটা সহ্য করতে পারলেও বাসায় ছোট বাচ্চারা এটা কীভাবে সহ্য করবে? মশা প্রতিদিন কামড়ে ছোট বাচ্চাদের হাত-পা-শরীর লাল করে ফুলিয়ে তুলছে। তাদের আর কতক্ষণ মশারির মধ্যে রাখা যায়। অ্যারোসল বা মশার কয়েল দিলে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হয়ে যায়। তাই বাচ্চাদের নিয়ে পড়েছি মহা ভোগান্তিতে। আমরা সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা, সিটি কর্পোরেশন তাহলে আমাদের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে? এভাবে আমরা আর কতোদিন সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে থাকব?
বাড্ডার চা-দোকানি মকলেছুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ২-৩টা কয়েল একসাথে জ্বালাতে হয়। তবু মশার উৎপাত কমে না। আমিসহ সব ক কে মশা ঘিরে ধরে। ইদানীং এতো মশা হয়েছে যে কেউ ৪-৫ মিনিটও স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না দোকানে। আর মশা মারার জন্য সিটি কর্পোরেশনের কোনো লোককেও দেখা যায় না। যে কারণে ঘরে-বাইরে সব জায়গাতেই মশার যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
অপরদিকে, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াসার হাতে থাকা ঢাকার খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন পেলেও এখনো আসেনি দৃশ্যমান পরিবর্তন। এক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, খালগুলোকে উদ্ধার করে তাকে সরল ও জল প্রবাহের নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মশকের আধার খাল হবেই। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ওয়াসা থেকে আমরা যে ডোবা ও খালগুলোকে পেয়েছি এগুলোর প্রতিটির সংস্কারকাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাজধানীজুড়ে থাকা ২৬টি খালের অর্ধেকেরও বেশি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। একই সাথে পরিণত হয়েছে মশা প্রজনন ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা মারার ওষুধ ছিটানো ছাড়া আরো কিছু সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের উপর জোর দিতে। নর্দমা ও ডোবা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণের পুরো দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের নর্দমা ও ডোবার পানি চলমান করে দিতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে লার্ভিসাইড, অ্যাডাল্টিসাইট কিংবা গাপ্পি মাছ ছাড়তে হবে। আর নগর কর্মকর্তারা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযানে নামবেন তারা।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, দিন দিন মশার ঘনত্ব বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু আর চিকন গুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। আমরা মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণত মশা মারার ওষুধ ছিটায়। এছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের কিছু বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে। সেগুলো হলো-পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা। আমাদের চারপাশের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেনো কোথাও মশা না জন্মায়। অন্যগুলো হচ্ছে জৈবিক ব্যবস্থাপনা বা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল। আরেকটি হচ্ছে কেমিক্যাল নিয়ন্ত্রণ। সর্বশেষ বিষয় হলো জনসাধারণকে এসব বিষয়ে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। বিভিন্ন সচেতনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারি পরিকল্পনা বাড়াতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কিউলেক্স মশার প্রজনন মৌসুম। কিউলেক্স মশার প্রজননস্থলগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপদ্রব কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য ডোবা, নালা বা জলাশয়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক নিয়মে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোবায়দুর রহমান বলেন, শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ায় প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। ফলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। আমাদের একটি বিশেষ টিম ৮ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাবে। এছাড়া আমাদের নিয়মিত সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Check Also

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

বেনাপোল স্থলবন্দর ভারতের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরও ১৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *