Sunday , June 20 2021
Breaking News
Home / খবর / জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত

স্টাফ রিপোর্টার:  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল ১০টা থেকেই ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না এমনটা জানালে প্রথমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেয়। পরে সকাল ১১টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সস্নোগান দিতে দিতে প্রেসক্লাবের মূল ফটক দিয়ে বাইরে বের হন। এ সময় পুলিশ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে তারাও পাল্টা ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে। জবাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশকে কয়েক দফা টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। প্রথম দফায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে মিছিল নিয়ে বাইরে বের হলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা দৌড়ে কদম ফোয়ার দিকে চলে যান।
দ্বিতীয় দফায় প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে পাল্টা ধাওয়া দেয়, ইটপাটকেল ছুঁড়ে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এ সময় প্রায় শতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেয়। প্রেসক্লাবের ভেতর থেকেই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কিছুটা পিছু হটলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সামনে এগিয়ে আসেন। তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো ব্যাপকভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ারসেল মারেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুরানা পল্টনের দিকে ছুটতে থাকেন এবং কিছু কর্মী প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।
পুলিশ ও ছাত্রদলের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, ঢাবির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাবির যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ইডেন কলেজের সদস্য সচিব সানজিদা আক্তার তুলিসহ অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও অনেক সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া, জিয়া খালেদা, তারেক রহমান, রহমান তারেকসহ বিভিন্ন সস্নোগানে প্রেসক্লাবে মুখরিত করে তুলেন।
এদিকে ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদসভা কেন্দ্র করে গতকাল সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা গেছে। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রেসক্লাবে জড়ো হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বলছে, ছাত্রদলকে সমাবেশের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। এ সমাবেশ পূব ঘোষিত ছিল না। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রেসক্লাবে এ ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হয় না।
পুলিশ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। তিনি বলেন, আগামীতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গায় অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ করতে হলে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিয়ে করতে হয়। আজকে (রোববার) ছাত্রদল প্রোগ্রাম করার জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। তাদের আমরা সকালে জানিয়েছি, আপনারা অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করেন। সেটি না করে প্রেসক্লাবের এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা, প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ইট-পাটকেলও মারল। আমরা খেয়াল করেছি, প্রেসক্লাবের ভেতরে কোনো ইট নেই। তাহলে এত ইট আসল কোত্থেকে? তার মানে তারা ইট সংগ্রহ করেছে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এটার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভায় জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকে জিয়াউর রহমান ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি শরিফুল হক ডালিম, নুর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন খানের খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলে জামুকার সদস্য ও সাংসদ মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। কমিটির অপর দুজন হলেন জামুকার সদস্য সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও মো. রশিদুল আলম। জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার শামিল। সরকারকে এহেন সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানাচ্ছেন বিএনপিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

Check Also

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী পুরুষ সমতা” ও “নারী পুরুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *