Sunday , May 16 2021
Home / খবর / আশায় বুক বেঁধে আছে পাটকল শ্রমিকরা

আশায় বুক বেঁধে আছে পাটকল শ্রমিকরা

আশায় বুক বেঁধে আছে পাটকল শ্রমিকরা

ছবি : বি এম রাকিব হাসান,

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা: শিল্পাঞ্চল নামে খ্যাত খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল ও হার্ডবোর্ড মিল বন্ধ হয়ে গেছে বেশ আগে। যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ছিল তাও সমপ্রতি বন্ধ হওয়ায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন মানুষ। আর এতে মৃতপ্রায় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে ‘খুলনার শিল্পাঞ্চল’। তবে পাটকলগুলো চালু হবে, এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে খালিশপুরে চারটি ও ভৈরব নদের ওপর পাড়ে দিঘলিয়ায় একটি পাটকল রয়েছে। এছাড়া ফুলতলার আটরা শিল্প এলাকায় দুটি ও যশোরে দুটি পাটকল রয়েছে।
মিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবখানে ফাঁকা। এক সময় মিলের খট খট শব্দ আর শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকত যে এলাকা সেখানে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ।
আশপাশে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাসিক শ্রমিকদের জন্য গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের টাকা নেওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল ঘর-বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে কর্তৃপড়্গকে জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে হবে। এ কারণে টাকা পাওয়ার আশায় সবাই নিজেদের ঘরগুলো ভেঙে ট্রাকে করে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে চলে গেছেন। বেশিরভাগই গেছেন গ্রামের বাড়িতে।
খুলনা ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রধান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শোনা যাচ্ছে ঘর ভাঙার শব্দ। পশ্চিম কলোনির দিকে যেতেই চোখে পড়ে কয়েকজন মিলে শাবল, কোদাল আর হাতুড়ি দিয়ে ১৩ নম্বর ভবনের নিচের একটি পাকা ঘর ভাঙার চেষ্টা করছেন। যার ঘর ভাঙা হচ্ছে তিনি মিলের মেকানিক্যাল বিভাগের শ্রমিক ফিরোজ কবির।
তিনি ৩৫ বছরের চাকরি জীবনের ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ভবনে বাস করেছেন। হ্যান্ডসেকের টাকা পেতে ঘর ভেঙে কর্তৃপড়্গকে বুঝিয়ে দিতে হবে এ কারণে তা ভাঙছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সবাই ওই ঘরে বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি খালিশপুরের কবির বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আছেন। যে টাকা পাওয়া যাবে তা দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ফিরোজ কবির বলেন, মিল কর্তৃপড়্গের অনুমতি নিয়ে আমি নিজের জিনিস নিয়ে চলে যেতে পারব। সে কারণে আমার ঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছি। কিন’ কোম্পানির কোনো সুতাও আমি নিতে পারব না।
শ্রমিকদের অবস’ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাঁচ মাস হয়ে গেছে। যাদের ছেলে-মেয়ে একটু বড়, চাকরি করে তারা টিকে আছে। যাদের ছেলে মেয়ে চাকরি করে না তাদের যে কি অবস’া আলস্নাহ ছাড়া কেউ জানে না। বহু লোকের আহাজারি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিল চালুর চেষ্টা করছেন। কিছু আমলার কারণে, কিছু পরিসি’তির কারণে মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেল। এই মিল কোনো দিনও বন্ধ হওয়ার কথা না, মিলে লাখ লাখ টাকা লাভ হওয়ার কথা ছিল।

আশায় বুক বেঁধে আছে পাটকল শ্রমিকরা

খুলনা শিপইয়ার্ড লসে লসে জর্জরিত হয়ে গেছিল। নৌবাহিনী দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর এখন কোটি কোটি টাকা লাভ হচ্ছে। এই মিলগুলো একটা দায়িত্ববান লোকের হাতে দিলে এখনও কোটি কোটি টাকা লাভ হবে। যাকে মিল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাকেই লাভ-ড়্গতি বুঝিয়ে দিতে হবে। মিলগুলো সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর হাতে দিলে আরও ভাল হয়। এই দুই বাহিনীর হাতে দিলে মিল পানির মতো চলবে।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন আজাদী বলেন, সরকারের কথা ছিল মিলকে আধুনিকায়ন করে চালু করবেন। পাটমন্ত্রী বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে মিল চালু করা হবে। এটা শোনার পর শ্রমিকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন’ মিল না খোলায় শ্রমিকরা হতাশ।
অনেক শ্রমিক বাসা ভাড়া করে অপেড়্গায় আছে মিল কবে চালু হবে, তারা কর্মসংস’ান পাবে। আমরা চাই সরকারি সম্পদ সরকারের হাতে থাকুক। সরকারের হাতে থেকেই মিলটি চালু হোক।

Check Also

মসজিদে ঈদের জামাত

মোঃ আব্দুল মজিদ   : আজ শুক্রবার ঈদ-উল-ফিতর। সকল মানুষ আজ মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেছেন। মহল্লায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *