Sunday , May 16 2021
Home / মেহেরপুর / গাংনীতে অন্ধকার কুঁড়ে ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন যাপন । কেউ দেখার নেই

গাংনীতে অন্ধকার কুঁড়ে ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন যাপন । কেউ দেখার নেই

Meherpur Picture Meherpur Home Picture 2

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম :  গাংনীর পলস্নীতে অনাহারে-অর্ধাহারে অন্ধকার কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে সেকান্দার আলী ও তার স্ত্রী তারাফন নেছা। তাদের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীর উপজেলার বামুন্দী ইউনিয়নের ঝোড়াঘাট গ্রামে। বৃদ্ধ দম্পতি শেষ বয়সে শীতে কুঁড়ে ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে বিছানো একটি পাটিই এখন তাদের ভরসা। রোগাক্রাত্ম শরীর আর অভাব অনটন এ নিয়ে নিয়ে কোনদিন তার চুলা জ্বলে, আবার কখনও না খেয়েই দিন পার করছে তারা।
নিকটাত্মীয় বলতে একমাত্র ছেলে তারও দারিদ্র্যতার কারনে সব সময় বৃদ্ধ পিতা মাতাকে দেখভাল করা সম্ভব হয়ে উঠে না। বয়সের ভারে ন্যুজ বৃদ্ধ সেকান্দার আলী ও তার স্ত্রী তারাফন নেছার পক্ষে চলাচল করাটাও কষ্টসাধ্য। তবুও পেটের দায়ে রোগা শরীর নিয়ে লাঠিভর দিয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে যদি কিছু জোটে তা দিয়েই জ্বলে তাদের চুলা। অসুস্ততার কারনে বাড়ির বাইরে খাবারের সন্ধানে বের হতে না পারায় উপোষ থাকতে হয় তাদের।

বৃদ্ধ-দম্পতি

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেকান্দার আলী ও তার স্ত্রী তারাফন নেছা ছোট একটি কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে। ঘরে বৈদ্যুতিক কোন সুবিধা নেই। নেই কোন আলোর ব্যবস্থাও। খুব প্রয়োজন হলেও খড়কুটোর আগুন দিয়ে কিছু সময়ের জন্য আলোর ব্যবস্থা করে তারা। ঘরের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচোরা হওয়ার কারনে পোকা মাকড়ের সাথেই বসবাস করতে হয়। সেখানে এলোমেলো তার পুরনো কাপড়-চোপড়। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ি-পাতিল। এসব নিয়েই তাদের সংসার। ছোট একটি কুঁড়ে ঘরে আতঙ্ক আর ভয়ভীতির মধ্যে রাত্রি পার করতে হয় তাদের।
কান্না ভেজা চোখে সেকান্দার আলী বলেন, অভাব অনটনে খুব কষ্টে আছি বাবা। এখন আমাদের দুচোঁখে আর কোন স্বপ্ন নেই। দারিদ্রের কষাঘাতে সব স্বপ্ন যেন সস্নান হয়ে গেছে। অভাব অনটনের সংসারে মেটাতে পারেনি জীবনের অনেক শখ। কিছুদিন আগেও পরের জমি বা কারো বাড়িতে কামলা খেটে চালাতে সংসার। এখন বয়সের ভারে আর কাজ করতেও পারিনা। ঝড় বৃষ্টি মাথায় বছরের পর বছর এই ভাঙ্গা কুড়ে ঘরেই বসবাস করছি। কথাগুলো বলার সময় দুচোখে কষ্টের মেঘ জমে থাকা চোখের জল ছলছল করছিল সেকেন্দার আলীর।এই শীতে রাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। অসুস্থ্য হলেও টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারি না। বৃদ্ধ বয়সে কাজ কর্ম করতে পারিনা একারনে অভাব অনটন লেগেই আছে। প্রধানমন্ত্রী যদি একটি ঘর দিতো তাহলে অনত্মত শেষ বয়সে ঐ ঘরে শানিত্মতে ঘুমিয়ে জীবন পর করতে পারতাম।
সেকান্দার আলীর স্ত্রী তারাফন নেছা জানান,সরকারী তেমন কোন সুবিধা পান না তারা। পরের বাড়িতে চেয়ে চিনেত্ম কোন রকম দুমুঠো খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন। কুঁড়ে ঘরটাও নড়বড়ে। পোকা মাকড়ের সাথেই বসবাস করতে হয়। সেই কবে যে মাছ মাংশ দিয়ে পেট পুরে ভাত খেয়েছি মনেই নেই। আর মাছ মাংশের আশা করিনা। শুধু মাত্র দিনে ৩ বার না হোক অত্মত ২ বেলা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পেলেই আমরা খুশি।

বৃদ্ধ-দম্পতি

 

প্রতিবেশিরা জানান, প্রায় প্রতিটা ইউনিয়নেই অনেক সচ্ছল পরিবার সরকারী ঘর বরাদ্দ পেলেও এই হতদরিদ্র পরিবারটি কেন যে ঘর পাইনি তা আমাদের জানা নেই।প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরের প্রাপ্য অধিকার এই পরিবারটির আছে। পরিবারটির অভাব-অনটনের শেষ নেই। গ্রামের মানুষের দেয়া চাল ডালে তাদের সংসার চলে।

বামুন্দী ইউপি সদস্য দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: আলফাজ হোসেন জানান, সেকান্দার আলী ও তার স্ত্রী তারাফোন খাতুন খুবই দরিদ্র মানুষ। অন্য’র সহযোগিতা নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছে। কিছুদিন আগে সেকান্দার আলীকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। কিন’ বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলেনা। সরকারী ভাবে উপজেলা থেকে তাদের জন্য কিছু বরাদ্দ দেয়া হলে কিছুটা হলেও তাদের দু:খ কষ্ট লাঘব হবে।
বামুন্দী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন,করোনা দূর্যোগের সময় ত্রাণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের সহযোগিতা করার মত সরকারী বরাদ্দ নেই। তবে সেকান্দার আলী ও তার স্ত্রী তারাফন নেছা যোগাযোগ করলে ব্যক্তিগত ভাবে কিছু সহযোগিতা করা হবে।
গাংনী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, সেকান্দার আলীর স্ত্রী তারাফন নেছা অফিসে যোগাযোগ করলে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ জানান,আগামিতে সরকারী ভাবে ঘর বরাদ্দ আসলে সেকান্দার আলী ও স্ত্রী তারাফন নেছার জন্য একটি ঘরের ব্যবস’া করা হবে।

 

গাংনীতে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার

বৃদ্ধ-দম্পতি

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম : মেহেরপুরের গাংনীতে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জাহিদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদুল ইসলাম বেতবাড়িয়া গ্রামের বরকত আলীর ছেলে।
গাংনী থানার ওসি মো: ওবাইদুর রহমান জানান, আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা পলাতক আসামী জাহিদুল ইসলাম বেতবাড়িয়া গ্রামে অবস’ান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিআর ৭৩২/১১ মামলায় জাহিদুল ইসলামকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করে আদালত।

 

Check Also

ঈদ উৎসবে মাংশের ধুম

ঈদ উৎসবে মাংশের ধুম

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের দু’টি আনন্দের দিনের মধ্যে একটি অন্যতম আনন্দের দিন। এইদিনে সকল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *