Saturday , May 8 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / জাতিসংঘ / রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা জাতিসংঘ দূতের

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা জাতিসংঘ দূতের

জাতিসংঘ

Kbdnews ডেস্ক : জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। তিনি বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ জনমানবহীন ওই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দেওয়া উচিত হবে না। সেখানে তাদের স্থানান্তর করা হলে শরণার্থীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
গত সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আগামী এপ্রিলে ২৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর প্রেক্ষিতেই এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করলেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। সমপ্রতি ভাসানচর সফর করা ইয়াংহি লি বলেন, বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপটি আসলেই বসবাসযোগ্য কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন। শরণার্থীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের স্থানান্তরের উদ্যোগ হবে একটি মন্দ বা অসুস্থ পরিকল্পনা।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এ সভায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট নে সান লুইন বলেন, ভাসানচরে কেউ যেতে চাইবে না। একমাত্র বল প্রয়োগের মাধ্যমেই তাদের সেখানে নেওয়া সম্ভব। এর আগে গত জানুয়ারিতেও তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। তিনি বলেন, ভাসানচরে সাইক্লোন হলে কি পরিস্থিতি তৈরি হবে তা না দেখে এবং দ্বীপটির সুযোগ সুবিধা যাচাই না করে কোনভাবেই তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো উচিত হবে না। তাড়াহুড়ো করে তাদের সেখানে পাঠানো হলে মিয়ানমারের কাছে ভুল বার্তা দেওয়া হবে। মায়ানমার এমন বার্তা পেতে পারে যে, বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের ফেরত না নিলেও চলবে। ইয়াংহি লি’র ভাষায়, ‘তারা (মায়ানমার) একটি জঘন্যতম অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলে ভাবতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত মার্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, আগামি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ২৩ হাজার পরিবারকে (প্রতি পরিবারের চার-পাঁচজন) অর্থাৎ এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য। শিগগিরই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু হবে। আমরা প্রস্তুত। ঘর, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার সবকিছু তৈরি আছে।’

এর মধ্যেই গত সোমবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি।

Check Also

ইউরোপে

ইউরোপে গিয়ে জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এখন জঙ্গলে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের

Kbdnews ডেস্ক:   ইউরোপে গিয়ে জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এখন জঙ্গলে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *