Wednesday , July 28 2021
Breaking News
Home / খবর / নির্বাচনমুখী দেশ উত্তাপ সর্বত্র

নির্বাচনমুখী দেশ উত্তাপ সর্বত্র

নির্বাচ

স্টাফরিপোটার : জনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনমুখী তৎপরতায় উৎসবমুখর হয়ে উঠছে গোটাদেশ। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই এখন নির্বাচনমুখী। এছাড়াও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোও জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। দলের ভেতরে এবং বাইরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। আর দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এমন নির্বাচনমুখী তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন পেছানোর যে দাবি উঠেছিল তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটা ফিঙ্ড। যা আর পেছানোর সুযোগ নেই। তবে সরকারবিরোধী এই জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনো তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, আটক, গ্রেফতার ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। এমন অভিযোগ থাকলেও সরকারবিরোধী এই দল বা জোটের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এমনই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে দেশের গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ২৪টি দল অংশ নেবে মূলত জোটগতভাবে। এর মধ্যে ১০টি দল আওয়ামী লীগের নৌকা, ১১টি দল বিএনপি’র ধানের শীষ ও ৩টি দল জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়বে। তবে নিবন্ধিত বাকি ১৫টি দল জানিয়েছে, তারা নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে থাকবে একক দল হিসেবে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নিবন্ধন নেই বা বাতিল হয়েছে-এমন দলের কোনো সদস্য নিবন্ধিত দলের প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

অনিবন্ধিতদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কোনো আইন নেই জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, এমন দলের সদস্যরা যে কোনো নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হতে পারবেন। সে অনুযায়ী, নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতারা যে কোনো নিবন্ধিত দল থেকে ভোটের মাঠে লড়তে পারবেন কিংবা তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ১৩টি দলের মধ্যে ১০টি লড়বে নৌকা নিয়ে। বাকি ৩টি দল ভোটের মাঠে থাকবে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে। সদ্য এই জোটে যোগ দেয়া বিকল্পধারা বাংলাদেশ আবার ইসিকে জানিয়েছে, নৌকার পাশাপাশি তারা তাদের নিজস্ব কুলা প্রতীকেও নির্বাচন করতে আগ্রহী।

নৌকা প্রতীকে লড়তে যাচ্ছে ১০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মোট ১৭টি শরিক দল। এর মধ্যে অবশ্য ৭টি দলের নিবন্ধন নেই। আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে নিবন্ধন থাকা ১০ দলের মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), ইসলামিক ফ্রন্ট (বাহাদুর শাহ) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী নিবন্ধন না থাকা ৭টি দল হলো-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ, রেজাউর রশীদ খান), গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাংলাদেশ জাসদ (আম্বিয়া) কৃষক শ্রমিক পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি (হুদা)।

ধানের শীষ প্রতীকে লড়বে ১১টি দল: সম্প্রতি সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মোট ১১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে। এর মধ্যে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণার আগেই ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ইসিতে জানানো হয়, তাদের ৮টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক চায়। এই দলগুলো হলো-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পাার্ট (বিজেপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), খেলাফত মজলিশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩ দলও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানায়। এই ৩টি দল হলো-ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষিক শ্রমিক জনতা লীগ।

এই ১১টি দলের বাইরেও নিবন্ধন না থাকা আরও ১০টি দলও ধানের শীষের প্রতীকে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ও নূরুল আমিন ব্যাপারীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, ন্যাপ (ভাসানী), পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও ধানের শীষ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে লড়বে ৩ দল: ক্ষমতাসীন মহাজোটের বৃহত্তম শরিক দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বদলে নিজস্ব লাঙ্গল প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে কমিশনকে। তাদের সাথে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের (ইউএনএ) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও ইসলামি ফ্রন্ট নির্বাচনে লড়বে লাঙ্গল নিয়ে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত বাদবাকি ১৫টি দল তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রতীক টেলিভিশন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) প্রতীক হাত (পাঞ্জা), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতীক কোদাল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রতীক ছড়ি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতীক হাত পাখা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতীক রিকশা, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতীক মিনার, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) প্রতীক বাঘ, গণফ্রন্টের প্রতীক মাছ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রতীক আম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রতীক হারিকেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রতীক মই, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রতীক কাস্তে ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতীক বটগাছ।

উল্লেখ্য, ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক করে গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। পরে অবশ্য ভোট গ্রহণের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। এরপর কমিশন ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে। যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরদিন ১০ ডিসেম্বর ইসি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করলে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা।

 

Check Also

গাংনীতে লক ডাউনে

গাংনীতে লক ডাউনে দোকান খোলা ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  : মেহেরপুরের গাংনীতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক কঠোর লক ডাউন অমান্য করে দোকান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *