Saturday , May 8 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সু চির ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ

রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সু চির ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ

 

সু চির ভূমিকা

Kbdnews :মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যায় ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সেনাবাহিনীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও দায়-দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকেই এ গণহত্যার দায় নিতে হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির বেসামরিক নেতৃত্বও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর তথা সরকারপ্রধান অং সান সু চি তার সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছেন। জাতিসংঘ এ প্রতিবেদনটি তৈরি করতে শত শত ব্যক্তির সাক্ষাত্কার নিয়েছে। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের তরফ থেকে এটাই মিয়ানমারের সংঘটিত নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি ও নিন্দা। ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব মারজুকি দারুসম্যান এ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনের সদস্য ছিলেন শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টোফার সিদোতি। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন মিশনকে সার্বিকভাবে সহায়তা দেয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তার অজুহাতে বা হুমকি বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর কৌশল গ্রহণযোগ্য ছিল না। তারা ছয়জন সামরিক কর্তার নাম উল্লেখ করেন যাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’রও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এই সহিংসতা রোধে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাদের বিচারের সুপারিশ করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে এসেছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোনো নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘ বলছে, প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

২০১৭ সালের মার্চে জাতিসংঘের স্বাধীন ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশন গঠন করা হয়। তাদের দায়িত্ব ছিল মিয়ানমারজুড়ে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা। আর এই লঙ্ঘনে অভিযোগ ২৫ আগস্ট রাখাইনে হামলার আগে থেকেই ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত কয়েক দশক ধরেই পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। জন্মের পর থেকেই কাঠামোবদ্ধ নিপীড়নের শিকার হয় রোহিঙ্গারা। কচিন, শান ও রাখাইনে ঘটা নিপীড়নের মধ্যে হত্যা, জেল, নিপীড়ন, ধর্ষণ, দাসত্বেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এগুলো সবকিছুই আন্তর্জাতিক আইনে অনেক ঘৃণিত অপরাধ।

জাতিসংঘের মিশনটি কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেছে যারা এ হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী। তার মধ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাইংও। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে সেনাবাহিনীকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবা হয়। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্যানেল। পাঁচ জেনারেলের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং। যার নেতৃত্বে ৩৩তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন পরিচালিত হয়। এই জেনারেলের অধীন এলাকা উপকূলীয় গ্রাম ইন দিনে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরে হত্যা করা হয়েছিল। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান বলেন, মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এখন পদত্যাগই একমাত্র পথ। এই ছয়জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও আরও কয়েকজন এই নিধনযজ্ঞের জন্য দায়ী। এই ছয় সেনা কর্মকর্তার তালিকা আলাদা করে করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিয় জ, মেজর জেনারেল মং মং সো ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান উ-এর নাম দোষী হিসেবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সেনাবাহিনীর ওপর খুব একটা কর্তৃত্ব নেই। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, এই হত্যাযজ্ঞে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও ইন্ধন জুগিয়েছিল। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চি রাখাইনে সহিংসতা থামাতে তার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কিংবা নৈতিক অবস্থান প্রয়োগ করেননি।

 

Check Also

ইসরাইলের হাইফা নগরীর

ইসরাইলের হাইফা নগরীর বাযান তেল শোধনাগারে ওই দুর্ঘটনা ঘটে

Kbdnews  ডেস্ক : ইসরাইলের হাইফা নগরীর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।গণমাধ্যম প্রাথমিকভাবে বলছে, সাইবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *