Thursday , October 21 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর শাজাহান হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন।

মেহেরপুরে চাঞ্চল্যকর শাজাহান হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন।

হত্যা মামলায়
Kbdnews/কৌশিক আহমেদ শিমুল: গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর শাজাহান হত্যা মামলায় গিয়াস উদ্দীন, আলম, ইলিয়াস, ভাদু, সমশের, কাজল ও শহিদুল নামের ৭ জনের যাবজীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।
মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাঃ নুরুল ইসলাম গত মঙ্গলবার বিকালে এ রায় দেন। সাজা প্রাপ্ত গিয়াস উদ্দীন নিশিপুরের সুলতান আলীর ছেলে, ভাদু সমশের আলাউদ্দীনের ছেলে। কাজল একই গ্রামের আলতাফের ছেলে এবং শহিদুল সোলেমানের ছেলে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সমশের পলাতক রয়েছে। সে আটক কিংবা আত্মসর্ম্পরে দিন থেকে তার সাজা শুরু হবে।
মামলার বিবরণে জানাগেছে ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের নজর আলীর ছেলে শাজাহান ঘটনার দিন তার ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোনে গান শুনছিল। ঐ সময় জিনিয়াস স্কুলের শিক্ষক সুলতানের ছেলে গিয়াস উদ্দীন তার বাড়ি প্রবেশ করে গান বন্ধ করতে বলে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাদানুবাদ হয় এবংস্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। এদিকে ঐ দিন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আগের ঘটনার জের ধরে গিয়ানের নেতৃত্বে তার লোকজন শাজাহানের বামন্দীস্ত শাজাহানের মটর হাউজে প্রবেশ করে শাজাহানের উপর হামলা চালায়। হামলায় শাজাহান মারাত্বক আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বামুন্দীর একটি ক্লিনিকে পরে কুষ্টিয়া সবশেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাজাহানের ভাই হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে গাংনী থানায় ১০ জনকে আসামী করে দন্ড বিধি ৩০২/৩৪, ৪৪৭/৩৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৯। পরে মামলার তদন- শেষে ২০১১ সালের ১১ অক্টোম্বরে চার্যশীট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষি তাদের সাক্ষ প্রদান করেন। এতে গিয়াস, আলম, ইলিয়াস, ভাদু, সমশের, কাজল ও সাইদুলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাদের যাবজীবন সশ্রম কারাদন্ড, প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছরের জেল দেন। মামলায় সমসের পলাতক রয়েছেন। মামলার অপর আসামী ঝন্টু, মিনা ও কাদারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে অতিরিক্ত পিপি কাজী শহীদ এবং আসামী পক্ষে এ্যাড. সফিকুল আলম কৌশুলী ছিলেন। এর আগে বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেলা ৩টা ১ মিনিটে আদালতে প্রবেশ করেন। এসময় কাটগরাই উপসি’ত আসামীদের নাম পড়ে শোনান। এর পর পরই তিনি চঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষনা করেন। এদিকে রায় ঘোষনা করার পর পরই নিহত শাজাহানের পিতা বলেন রায়ে আমরা সন’ষ্ট। তবে রায় যাতে কার্যকর হয়। মামলার রাষ্ট্র পক্ষে কৌশুলী অতিরিক্ত পিটি কাজী শহীদ বলেন রায়ে আমরা সন’ষ্ট। কারণ এ ধরনের হত্যাকন্ড এই ধরনের শাস্তি আমরা আশা করেছিলাম। মামলার বাদী হাবিবুর রহমান বলেন রায়ে আমরা খুশি আমরা চায় এই রায় বলবৎ থাকবে। পরবর্তীতে যাতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।

Check Also

গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  :  গাংনীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন উপলক্ষে বিশাল র‌্যালি ও আলোচনা সভা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *