Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / খবর / মর্গে অজ্ঞাত মরদেহের স্তূপ

মর্গে অজ্ঞাত মরদেহের স্তূপ

Kbdnews ডেস্ক : রাজধানীর ৩টি সরকারি হাসপাতালের মর্গে অজ্ঞাত মরদেহের স্তূপ জমছে। বেওয়ারিশ এইসব মরদেহগুলো ধীরে ধীরে পচে শরীর থেকে খসে পড়ছে চামড়া-মাংস। দুর্গন্ধে ছেয়ে গেছে পুরো হাসপাতালের মর্গ। হিমাগারে একটির ওপর আরেকটি ঠাসাঠাসি করে রাখা হচ্ছে মরদেহ। ৩টি হাসপাতালে সবশেষ পাওয়া তথ্যে প্রায় ৮০টির মতো মরদেহ পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কেউ বলছে, বাঁশ-চাটাই নেই, কেনার মতো অর্থ নেই। আবার কেউ বলছে, লাশগুলো মাটি দেয়ার মতো কোনো জায়গা খালি নেই। সূত্র ব্রেকিংনিউজ
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মরদেহ কাটার রুমের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, অজ্ঞাত ৪৫টি মরদেহ স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। মরদেহের স্তূপ দেখা যায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ৩৫টি মরদেহ মর্গে পড়ে আছে। ঢামেক হাসপাতালের মর্গ সহকারী সেকান্দার আলী জানান, মৃত নবজাতক, নারী ও পুরুষসহ মোট ৪৫টি পরিচয়হীন মরদেহ রয়েছে। এগুলো গত ২৫ দিন যাবৎ পড়ে আছে।

দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের অফিসে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার সর্তে তারা জানায়, কবরস্থান কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে মাটি দেয়ার জায়গা খালি নেই। বৃষ্টির পানিতে কবরস্থান ডুবে গেছে। তাই তারা মরদেহগুলো নিতে পারছে না। অন্য কবরস্থান থেকে বলা হয় বাঁশ-চাটাই নেই। এবং সেগুলো কেনার মতো অর্থ আমাদের কাছে নেই।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্নস্থানে নানা কারণে মৃত্যু হওয়া সব মরদেহ স্ব-স্ব থানায় সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাত মরদেহগুলো হিমাগারে রাখা হয়। সেকান্দার জানান, ঢামেকের হিমাগারে ২০টি মরদেহ রাখা যায়। সেখানে রাখা হয়েছে জঙ্গিসহ আরও অনেক মরদেহ। এর বাইরে আরও ৪৫টি মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় মেঝেতে রাখা হয়েছে। সেগুলোতে পচন ধরেছে।

ঢামেক মর্গ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতনামা (৪৫) পুরুষ, ২৯ এপ্রিল পল্টন থেকে অজ্ঞাতনামা নারী (৮০) ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অক্তাতপরিচয় মৃতদেহ ও নবজাতকসহ ৪৫টি মরদেহ মর্গের মেঝেতে নষ্ট হচ্ছে।

অপরদিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মাস যাবৎ শিশু, নারী ও পুরুষসহ অজ্ঞাতনামা ২০টি মরদেহ হিমাগারে রাখা আছে। মর্গের হিমাগারে মরদেহ রাখার ধারণ ক্ষমতা নয়টি। এর ফলে একটির উপরে আরেকটি মরদেহ রাখা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. উজ্জ্বল কুমার সাহা জানান, মর্গে জমে থাকা মরদেহগুলোর দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, অফিসিয়াল কিছু কাজের জন্য সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা কেটে গেলেই মরদেহগুলো নেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহগুলো নেয়নি তারা। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ সহকারী শ্যামল জানান, গত ২৫ দিন ধরে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৬টি মরদেহ পচে যাচ্ছে। আঞ্জুমানকে অনেক ফোন দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মরদেহগুলো নেয়নি তারা। তারা জানিয়েছে, জুরাইন করবস্থানে পানি উঠেছে, একারণে দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম (মুগদা অফিস) ডিউটি অফিসার মাহামুদুল ইসলাম জানান, বসিলা কবরস্থানে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, অজ্ঞাত মরদেহ দাফনের জন্য বাঁশ-চাটাই নেই। আর জুরাইন কবরস্থান থেকে জানানো হয়েছে, একদিন বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাচ্ছে।

জুরাইন কবরস্থানের ড্রেসার হাফেজ আবদুর সাত্তার জানান, বরাদ্দ করা অজ্ঞাত মরদেহের দাফনের স্থানে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। জায়গাটি খুবই নিচু। তবে খুবই তাড়াতাড়ি কর্তৃপক্ষ নিচু জায়গাটি উঁচু করবে। তখন দাফনের আর সমস্যা হবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *