Thursday , June 17 2021
Breaking News
Home / খবর / বাংলাদেশের অগ্রগতি যেন না থামে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের অগ্রগতি যেন না থামে : প্রধানমন্ত্রী

Kbdnews ডেস্ক: স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতি যেন থেমে না যায় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল রোববার সকালে স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমার কাছে ক্ষমতায় থাকা মানে হলো; জনগণের প্রতি কর্তব্য পালন করা। আর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। আমি চাই, আমাদের স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা নিয়ে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই যাত্রা যেন থেমে না যায়, যেন অব্যাহত থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জের দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে, রোগে চিকিৎসা পাবে না, মানবেতর জীবনযাপন করবে, ঘরবাড়ি থাকবে না; এটা তো হতে পারে না।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল রোববার সকালে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জল ও কুতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকসহ ১৮ জন পুরস্কারজয়ী এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন।

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৮ যারা পেয়েছেন তাদের অভিনন্দন এবং যারা মরোণত্তর পুরস্কার পেয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে সকল বরেণ্য ব্যক্তি ২০১৮ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন; তার মাঝে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান রয়েছে, তারা রয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন.. আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এবং দেশকে আর্থ-সামাজিক ভাবে উন্নত করার কাজে, যাদের অবদান রয়েছে; আমরা আজকে তাদের পুরস্কৃত করতে পেরেছি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৮৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরাও চেষ্টা করছি; যে কারা আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রেখে যাচ্ছেন। আমরা তাদের সম্মানিত করে নিজেরাই সম্মানিত হতে চাই।

উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল- সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন। সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবউন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিসূচকের শর্ত পূরণ করে প্রায় ৪৩ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সমপ্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক আমাদের নিম্মমধ্যম মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টে বাবা-মাসহ পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হারানোর কথা মনে করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে উঠতে পারতো। স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেতে মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছিল। ৪৩ বছর পর আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এটাই হলো আমাদের দুর্ভাগ্য; এত সময় আমাদের লাগল! সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই এটা অর্জন সম্ভব হয়েছে বলেও শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিগত তিন বছর ধরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য প্রধানত তিনটি শর্তের মধ্যে ২টি শর্ত পূরণ করলেই সনদ পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশ তিনটি শর্তই বেশ বড় ব্যবধানে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিন বছরের মাথাপিছু গ্রস ন্যাশনাল ইনকামের (জিএনআই) গড় এক হাজার ২৪২ মার্কিন ডলারের বেশি হতে হয়; বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। হিউম্যান অ্যাসেট ইনডেঙ্ (এইচএআই) ৬৬ বা তার উপরে হতে হয়; বর্তমানে বাংলাদেশের এইচএআই ৭২ দশমিক ৯। ইকনমিক ভালনারেবিলিটি ইনডেঙ্ (ইভিআই) ৩২র নিচে হতে হয়; এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইভিআই ২৫। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল- দিন বদলের সনদ। ২০১৪তে এসে ঘোষণা দিই; এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ে এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে কিছু সূচকের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

 

Check Also

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মোল্লাহাটে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মিয়া পারভেজ আলম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী পুরুষ সমতা” ও “নারী পুরুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *