Saturday , May 8 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / জাতিসংঘ / প্রাণঢালা গণঅভ্যর্থনায় অভিভূত প্রধানমন্ত্রী

প্রাণঢালা গণঅভ্যর্থনায় অভিভূত প্রধানমন্ত্রী

hasena songbordona

স্টাফ রিপোর্টার  :  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে লাখো মানুষের হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বিজি-০০২ ভিভিআইপি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান থেকে নামার পর ভিভিআইপি টার্মিনালে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শীর্ষ নেতা এবং বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার রাস্তায় লাখো নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অভ্যর্থনা জানায় বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক পৌঁছান। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা, গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ ও কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও তাদের ফেরত নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৫ দফা প্রস্তাব দেন, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়। কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে ৩ অক্টোবর লন্ডনে যান তিনি। সেখান থেকে শুক্রবার দেশের পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

বিমান থেকে নামার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি টার্মিনাল লাউঞ্জে আসেন। সেখানে প্রথমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ১৪ দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। একে একে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষক সমাজ, ক্রীড়াবিদ, গণমাধ্যম, সাংবাদিক, শিল্পী-কবি সাহিত্যিক ও ব্যবসায়ীরা। এরপর ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিপন্ন মানবতার বাতিঘর’ বলে অভিহিত করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এনামুল হক শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। ১৪ দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান রাশেদ খান মেনন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ফজলে হোসেন বাদশা, শিরিন আকতার, দিলীপ বড়ুয়া, ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

বিশিষ্টজনদের পক্ষে শুভেচ্ছা জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুণ-অর রশীদ ও বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে সঙ্গে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। রামেন্দু মজুমদারের নেতৃত্বে সংস্কৃতিকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় আতাউর রহমান, গোলাম কুদ্দুস, সারা যাকের প্রমুখ সঙ্গে ছিলেন। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সাংবাদিকদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, স্বদেশ রায় প্রমুখ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বিমানবন্দর ছেড়ে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গতকাল ভোর থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানে করে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর ফেরার পথে অবস্থান নিতে থাকেন। সাড়ে আট থেকে নয়টার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশ লোকারণ্যে পরিণত হয় বিমানবন্দর থেকে গণভবন। সর্বত্রই এক অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ যেন জনারণ্য। উৎসবের আমেজে চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। জনতার ঢলে রাজপথ যেন জনসমুদ্র আর এ দীর্ঘ পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে পুষ্পবৃষ্টি ছিটিয়ে, বাদ্য-বাজনার তালে সেস্নাগানে সেস্নাগানে লাখো মানুষ বরণ করে নিয়েছেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে ঘোড়ার গাড়ির ওপর শান্তির প্রতীক পায়রা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন গান উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এতে নেতৃত্বে দেন। যুবলীগের উপস্থিতির বিষয়টি সার্বিক মনিটরিং করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ধীরে ধীরে বিমানবন্দর হয়ে গণভবনের দিকে রওনা দিলে হাজার হাজার নেতাকর্মী জয়বাংলা সেস্নাগানে ও করতালি দিয়ে চারদিক মুখর করে তোলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও রাস্তার দুই পাশে অবস্থানকারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নাড়েন। এসময় শত শত পুলিশ, র‌্যাব, সোয়াতসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছিল। আর নিরাপত্তায় ছিল এসএসএফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই টেকেনি তীব্র জনস্রোতের কাছে। জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং ব্যানার-ফেস্টুন, প্লেকার্ড, পোস্টার ও বেলুনসহ ফুল হাতে সমবেত এসব মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেছেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য। রাস্তার দু’ধারে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বড় বড় বিলবোর্ড ও ব্যানার শোভা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সমবেত মানুষ গান ও বিভিন্ন ধরনের বাদ্য-বাজনার পাশাপাশি সেস্নাগানে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা এলাকা।

সংবর্ধনায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন : গতকালের প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনার আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে ঢাকা ও আশপাশের সরকার দলীয় বর্তমান এমপি ও আগামীতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন। ঢাকা ছাড়াও যেসব নেতারা অধিকাংশ সময়ই ঢাকায় থাকেন, তারাও নিজ নিজ শক্তি দেখাতে গতকাল সুযোগ হাতছাড়া করেননি। জনসমর্থন দেখাতে প্রতিযোগিতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-৮ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বিজয় সরণী থেকে গণভবন পর্যন্ত গায়ে সবুজ গেঞ্জি, মাথায় সবুজ টুপি, যুবলীগের পতাকা হাতে নেতাকর্মী নিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে প্রাণের নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। ঢাকা-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মশিউর রহমান মোল্লা সামরিক জাদুঘরের সামনে, নেত্রকোনা সদর আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী চলচ্চিত্র তারকা রানা হামিদ তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ছিলেন ১৪ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে। সেখানে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম নেতৃত্ব দেন। এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস, সাহারা খাতুন, একেএম রহমতউল্লাহ, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আসলামুল হক আসলাম, ইলিয়াস মোল্লা, হাবিবুর রহমান মোল্লা, নসরুল হামিদ বিপু’র লোকজন বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় এমপির ছবি প্রদর্শন করেন।

Check Also

খুলনায় স্বাস্থ্যবি‌ধি ভু‌লে চলছে গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা

খুলনায় স্বাস্থ্যবি‌ধি ভু‌লে চলছে গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:  মহামারী করোনা মানছে না মার্কেট গুলিতে বেশির ভাগ সময় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *