Saturday , May 8 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / মায়ানমার বাহিনীর সহিংস অভিযান জোরদার ইয়াংগুনের নীতির প্রতি অ্যামনেস্টির অনাস্থা

মায়ানমার বাহিনীর সহিংস অভিযান জোরদার ইয়াংগুনের নীতির প্রতি অ্যামনেস্টির অনাস্থা

rohinga

Kbdnews ডেস্ক : রাখাইনের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মায়ানমার যে নীতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছে, তাতে আস্থা নেই মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের। সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে সহিংসতা বন্ধ করার শর্ত দিয়েছে। অ্যামনেস্টির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কাগজপত্র চাওয়াকেও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে তারা। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঐ সংস্থা। ৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বাংলাদেশের সাথে বৈঠক শেষে মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতর থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় : ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে। ঐ ঘোষণা অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক। জোর করে কাউকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত না পাঠানোর ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে। গত বুধবার সংস্থাটির আন্তর্জাতিক ইস্যু বিষয়ক পরিচালক অড্রি গোরান বাংলাদেশ-মায়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফেরার ব্যাপারটি অবশ্যই স্বেচ্ছামূলক হতে হবে। তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং তাদের মর্যাদার ব্যাপারটি খেয়াল রাখতে হবে।
এএফপির বুধবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবশিষ্ট মানুষকে তাড়িয়ে দিতে দ্বিগুণ শক্তিতে অভিযান শুরু করেছে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এই সহিংস উদ্যোগে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকা রোহিঙ্গা স্রোত আরও জোরালো হয়েছে। অড্রি গোরান সহিংসতার অবসানকে প্রত্যাবাসনের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যেকোনো প্রত্যাবাসন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সর্বপ্রথম যে শর্তটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে তা হলো সহিংসতার সার্বিক অবসান। তবে এটিই যথেষ্ট নয়। যে কারণে রোহিঙ্গারা দশকের পর দশক ধরে বঞ্চনার চক্রে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে, সেই চরম বৈষম্যেরও অবসান ঘটাতে হবে মায়ানমার সরকারকে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসবে এবং বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই থাকা ৯ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে সেখানকার অবশিষ্ট ৩ লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১২ লাখে দাঁড়াবে। মায়ানমার কর্তৃপক্ষ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রত্যেক শরণার্থীকে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং তাদের মায়ানমারে বসবাসের প্রমাণপত্র হাজির করতে হবে।

গত সোমবার সু চি’র দফতর মন্ত্রী তিন্ত সোয়ে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতর থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় : ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে। ‘৯২’র যৌথ ঘোষণাতেও ঐ প্রমাণপত্র সরবরাহের অপরিহার্যতার কথা বলা রয়েছে। তবে অড্রি গোরান একে অযৌক্তিক মনে করছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে এবং তাদের পরিচয় প্রমাণের অন্য উপায়গুলো থেকে বঞ্চিত করছে। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়ানো লোকজনকে ‘যাচাই-বাছাই’ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাজির করতে বলাটা অযৌক্তিক।

বাংলাদেশের মতো করে অ্যামনেস্টিও প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সংযুক্তি চায়। অড্রি গোরান বলেন, যে কোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের বাস্তব প্রয়োজন থাকে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসাও করেন অড্রি গোরান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকাকে ‘ইতিহাসের অনন্য নজির’ আখ্যা দেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মায়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপদ অঞ্চল (সেফ জোন) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। অবশ্য, ইতিহাসের বিভিন্ন ধাপে অপরাপর সংঘাতের ক্ষেত্রে এ ধরনের অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দিক যেমন আছে তেমনি এর নেতিবাচক দিকও উপেক্ষা করা যায় না। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী জেনেভাভিত্তিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম আইআরআইএন (ইনসাইড স্টোরি অব ইমার্জেন্সিস)’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে গত মাসে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য ৭টি আশ্রয় শিবির খোলার ঘোষণা দিয়েছে মায়ানমার। আইআরআইএন’র প্রতিবেদন অনুযায়ী এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কাউকে ফিরিয়ে নিলে তাদেরও ঐ ক্যাম্পে রাখবে মায়ানমার।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, নতুন শরণার্থী শিবিরগুলোও রোহিঙ্গাদের উন্মুক্ত কারাগার হতে যাচ্ছে। অড্রি গোরানও এ নিয়ে সংশয়মুক্ত নন। তিনি বলেন, যদি ধরেই নিই যে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার এ আহ্বান ইতিবাচক, তারপরও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের এলাকাগুলো কেবল ঘরহারাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সুযোগই তৈরি করে না, মানুষের নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে। রাখাইন রাজ্যে এ ধরনের এলাকা প্রতিষ্ঠা করা হলে তা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিচ্ছিন্নতা ও পৃথকীকরণকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে।

মায়ানমার সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ঘোষণা দিলেও পালিয়ে আসা শরণার্থীরা বলছেন, পশ্চিম রাখাইনে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, প্রতিদিন বাংলাদেশের সীমান্তে ছুটছে হাজার হাজার মানুষ। বহু গ্রাম এখন একেবারেই জনমানবশূন্য। তা সত্ত্বেও তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ চায় না অ্যামনেস্টি। অড্রি গোরান বলেন, দাতাদের অবশ্যই রেড লাইন প্রতিষ্ঠা করা দরকার এবং পরিষ্কার করে বলা দরকার, তারা বাংলাদেশে থেকে জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার কিংবা তাদের উচ্ছেদ আর পৃথকীকরণের কোনো প্রস্তাবিত সমাধান মেনে নেবে না। তেমনটা করতে না পারলে কেবল মানবাধিকার হরণ ধারাবাহিকতা পাবে তা নয়, এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিভক্ত হয়ে পড়বে।

 

Check Also

ইসরাইলের হাইফা নগরীর

ইসরাইলের হাইফা নগরীর বাযান তেল শোধনাগারে ওই দুর্ঘটনা ঘটে

Kbdnews  ডেস্ক : ইসরাইলের হাইফা নগরীর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।গণমাধ্যম প্রাথমিকভাবে বলছে, সাইবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *