Monday , December 6 2021
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / বগুড়ায় ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতন রুমকিসহ ৭ জনকে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ

বগুড়ায় ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতন রুমকিসহ ৭ জনকে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ

 

স্টাফ রিপোর্টার/বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কাউন্সিলর মর্জিয়া হাসান রুমকিসহ ৭ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে রুমকির ৪ দিনের রিমান্ড এবং বাকি ৬ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ তাদের আদালতে নিয়ে প্রত্যেকের ৭ দিনের করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত রুমকির ৪ দিনের রিমান্ড এবং বাকি ৬ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন- বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মর্জিয়া হাসান রুমকি, তার বোন তুফানের স্ত্রী আশা, তাদের মা রুমা খাতুন, বাবা জামিলুল রহমান রুনু, তুফানের গাড়িচালক জিতু, তুফানের সহযোগী মুন্না। এর আগে গত রোববার তুফান সরকার (২৮), তার সহযোগী আলী আজম দিপু (২৫) ও রুপমের (২৪) ৩ দিনের মঞ্জুর করেন আদালত।

সূত্র জানায়, শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের ধর্ষণের শিকার ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন করে ন্যাড়া করে দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকায় বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর মর্জিয়া হাসান রুমকি ও তার মা রুমা খাতুনকে গত রোববার পাবনা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

বগুড়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গত রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা শহর থেকে রুমকি ও তার মা (তুফানের শাশুড়ি) রুমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।

এদিকে শ্রমিক লীগ নেতা তুফানের স্ত্রী আশা, তার গাড়ি চালক জিতু এবং সহযোগী মুন্নাকে সাভার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকেই গ্রেফতার করলো বগুড়া জেলা পুলিশ। শিমুল নামের অপর এক সহযোগী এখনও পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে নিজ বাড়িতে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তুফান সরকারের বিরুদ্ধে। তুফানের স্ত্রী এ ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে দায়ী না করে কিশোরীটিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মর্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে গত শুক্রবার সালিশ সভা বসিয়ে নির্যাতিতা ও তার মায়ের চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সে রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই শনিবার তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ঐ কিশোরী। এ ঘটনার পর গত রোববার তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন।

 

Check Also

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন, নির্যাতনের শিকার ৩২৬ নারী ও শিশু

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন  গত নভেম্বর মাসে ৩২৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *