Wednesday , December 8 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / হাইকোর্টের রুল : ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ সাঁওতালদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কেন নয়

হাইকোর্টের রুল : ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ সাঁওতালদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কেন নয়

 

স্টাফ রিপোর্টার :  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের নামে তাদের মারধর, লুটপাট, গুলি ও ঘরবাড়িতে অগি্নসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। উচ্ছেদের নামে ঐসব কর্মকা- কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গতকাল সোমবার এ রিটটি করেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) রুলে বিবাদী করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনটি সংগঠন রিট করে। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কয়েকটি নির্দেশনাসহ রুল জারি করেছিলেন।

রিটকারীর পক্ষে আদলতে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ড. রফিকুর রহমান ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়েছিলাম। আদালত রিট শুনে এই রুল জারি করেছে।

বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন?্য আইনসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।

জ্যোতির্ময় জানান, ঐ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ কার্যক্রম কোন ক্ষমতাবলে চালানো হয়েছে, তা জানতে চেয়ে গত ১৫ নভেম্বর প্রশাসনকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছিল। উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের উপর ‘হামলা’, তাদের বাড়িতে ‘লুটপাট ও অগি্নসংযোগ’ এবং ‘হত?্যায়’ জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব?্যবস্থা নেয়া হয়েছে- তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল নোটিসে। তার জবাব না পেয়েই হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সাঁওতালদের উচ্ছেদের নামে ‘লুটপাট, অগি্নসংযোগ, গুলি ও হত্যা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুল চাওয়া হয় রিট আবেদনে। পাশাপাশি ঐ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়।

সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তোলে। সেই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। এরপর সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন?্য অধিগ্রহণ করা ঐ জমিতে কয়েকশ ঘর তুলে সাঁওতালরা বসবাস শুরু করেন। গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। একচালা ঘরগুলো পুড়িয়ে দেয়ার পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করে দেয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ঐ ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে। সমতলের এই নৃগোষ্ঠীর উপর গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঐ জমি সাঁওতালদের ছিল না। ভূমিদস্যুরা’ সাঁওতালদেরকে ব্যবহার করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাঁওতালদের দিয়ে দখল করে পরে নিজেদের দখলে নেয়া। অন?্যদিকে সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দারা বলছেন, তারা বাপ-দাদার জমিতে থাকার অধিকার চান।

উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা একশ একর জমিতে ধান এবং প্রায় আটশ একর জমিতে মাস কালাই, সরিষা ও পাট চাষ করেছিলেন। উচ্ছেদের সময় তাদের বাড়িঘরের পাশাপাশি মাঠের মাস কালাই, সরিষা ও পাট লুট করা হয়। ধান তখন লুট না হলেও উচ্ছেদের পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ পুরো জমি কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়।

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *