Monday , December 6 2021
Home / বাংলাদেশ / আইন ও বিচার / হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায় বুশরা হত্যা মামলায় সব আসামি খালাস

হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায় বুশরা হত্যা মামলায় সব আসামি খালাস

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার মালিবাগে ১৬ বছর আগের বুশরা হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায়ে নিম্ন আদালতে দ-িত চার আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেয়। ২০০৩ সালে এ মামলায় তিনজনকে মৃত?্যুদ- এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। চার বছর পর হাই কোর্টের রায়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাদেরের মৃত্যুদ- এবং তার স্ত্রী রুনু কাদেরের যাবজ্জীবন কারাদ- বহাল থাকে, বাকিরা খালাস পান। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল দুই পক্ষই। গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ে দুই আসামির আপিল মঞ্জুর হয়, ফলে খালাস পান তারা। অন?্যদিকে হাই কোর্টে দুই আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেওয়ায় আগের রায়ই বহাল থাকে। আসামিপক্ষে এ মামলা লড়েন খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দীলিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে কি না জানতে চাইলে দীলিরুজ্জামান বলেন, তারা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে তখন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০০০ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার বাসায় খুন হন সিটি কলেজের ছাত্রী রুশদানিয়া বুশরা ফুল।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় বুশরাকে। বুশরার বাবা সহকারী পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম সে সময় অবসরকালীন ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বুশরার মা লায়লা ইসলাম হত?্য?াকা-ের পরদিন রমনা থানায় এই মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৫ অক্টোবর একটি সম্পূরক অভিযোগ দাখিল করেন বুশরার মা। সেখানে বুশরার খালুর সৎভাই কাদের, তার স্ত্রী রুনু ও কাদেরের শ্যালক মো. শওকত আহমেদ ও কবির আহমেদকে আসামি করা হয়।

তদন্তের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মালিবাগে বুশরাদের ওই বাসা নিয়ে আত্মীয়দের দ্বন্দ্বের জেরে খুন করা হয় ওই কলেজছাত্রীকে। প্রথমে পুলিশ ও পরে সিআইডি এ মামলার তদন্ত করে ২০০০ সালের ১৯ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে কাদেরের শ্যালিকা কানিজ ফাতেমা হেনা ও কাজের মেয়ে সুফিয়াকেও আসামি করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জনের সাক্ষ?্য শুনে ২০০৩ সালের ৩০ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সরকার আবুল মনসুর আহমেদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। কাদের, শওকত ও কবিরকে মৃত্যুদ- এবং রুনু কাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন বিচারক। হেনা ও সুফিয়া বেকসুর খালাস পান। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচাপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করে। ঘটনার রাতে এম এ কাদের ও তার স্ত্রী রুনু কাদের ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে রায়ে বলা হয়, অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় দ- বহাল থাকছে। শওকত ও কবিরের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হচ্ছে। এরপর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে যায়। গতকাল মঙ্গলবার দুই আবেদনের নিষ্পত্তি করে চার আসামির সবাইকেই খালাস দিল আপিল বিভাগ।

Check Also

কুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

কুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বিএম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *