Monday , December 6 2021
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেল আদালত থেকে পালিয়েছে

গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেল আদালত থেকে পালিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাড্ডায় গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি মো. রাফসান হোসেন রুবেল (২৬) আলাদত থেকে পালিয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে সে পালিয়ে যায়। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার শাহেন শাহ মাহমুদ জানান, ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিতে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আসামি মো. রাফসান হোসেন রুবেলকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান সঙ্গে ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে একটু পরে আনতে বলেন। পরে তাকে বিচারকের খাস কামরায় রাখা হয়। সেখান থেকেই পালিয়ে যায় রুবেল। কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, আসামি পালিয়েছে বিষয়টি শুনেছি। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, বাড্ডা থানা পুলিশ হেফাজতে তাকে আদালতে নেয়া হয়েছিল।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ধর্ষিতার হবু স্বামী রিপন ম্রং-এর স্মার্ট মোবাইল ফোন (হুওয়াই) ও ৯ হাজার ৬৯২ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঐ গারো তরুণী ঢাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করে। ২৫ নভেম্বর বিকেলে সে উত্তর বাড্ডা হাসান উদ্দিন সড়কের ৩ নম্বর লেনের মিশ্রীটোলায় হাজী রুহুল আমীরের মেসের ভাড়াটিয়া তার হবু স্বামী রিপন ম্রং-এর সাথে দেখা করতে যায়। এ সময় অন্য ভাড়াটিয়া নাজমুল, সালাউদ্দিন (সালু), জয়নাল, আল আমিন ও রনির উপস্থিতিতে মেসের ম্যানেজার হানিফ রিপন ম্রংকে বলেন, মেসে মহিলা আনা নিষেধ, তুমি কেন এখানে মহিলা নিয়ে এসেছ। ম্যানেজার ১ নভেম্বরের মধ্যে বাসা ছাড়ার জন্য বলেন। তখন একই মেসের বাসিন্দা সালাউদ্দিন (সালু) মোবাইল ফোনে কল করে তার পূর্ব পরিচিত সন্ত্রাসী আল আমিন, রনি, সুমন ও নাজমুলসহ স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেলকে মেসে ডেকে আনে। তারা ভিকটিমের হবু স্বামীর কাছ থেকে মেসে মহিলা আনার অজুহাতে ফাঁদে ফেলে ১৭ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনটি (হুওয়াই) নিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষক রুবেল ও তার সহযোগী সালাউদ্দিন (সালু) মিলে ভিকটিমকে প্রাণের ভয় দেখিয়ে মামুন মিয়ার রিকশার গ্যারেজে ধর্ষণের জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে রিকশা গ্যারেজে রিকশার ড্রাইভার ও অন্যান্য লোকজন থাকায় পারভেজের রিকশার গ্যারেজের পাশে হাজী মোশারফ মিয়ার পরিত্যক্ত বাসার একটি রুমে নিয়ে যায় এবং সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তার অন্য সহযোগী আল আমিন ও সালাউদ্দিন রুমের বাইরে অবস্থান করে এই পাশবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করে। গত ২৮ অক্টোবর রাতে বাড্ডা থানায় রুবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঐ তরুণী। এতে রুবেল, সালাহ উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও দু’জনকে আসামি করা হয়। পুলিশের দাবি, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ কমপক্ষে ২০টি অভিযোগ রয়েছে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু বাড্ডা থানাতেই তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও রামপুরা থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।

রুবেল বাড্ডা ও রামপুরা থানা এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, অপহরণকারী, ধর্ষণকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সে তার সহযোগীদের নিয়ে নির্জন রাস্তায় চলাচলরত মেয়েদের সুযোগ বুঝে উত্ত্যক্তসহ ধর্ষণ আগেও করেছে। অধিকাংশ ভিকটিমই লোক লজ্জা ও প্রাণের ভয়ে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করেননি বা আইনের দ্বারস্থ হননি। অন্য এলাকার কেউ যদি স্থানীয় যুবক-যুবতী একসাথে বাড্ডা এলাকায় বেড়াতে যেত তাহলে সে ও তার সহযোগীরা তাদেরকে ফাঁদে ফেলে বা জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিত। এ মামলায় ধর্ষক রুবেলের সহযোগী আসামি আল আমিনসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেফতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

Check Also

গাংনীতে ভূঁয়া এনএসআই আটক

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রাম থেকে থেকে নূরুল আমিন (৪০) নামের ভূঁয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *