Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / ৩ বছরে ৩৭ খুন : দেশীয় জঙ্গিরা জড়িত

৩ বছরে ৩৭ খুন : দেশীয় জঙ্গিরা জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কলাবাগানে সমকামী আন্দোলনের নেতা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত। খুনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকা-ের রহস্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশের চেয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজ যেসব ঘটনা ঘটছে, তা জঙ্গিরাই ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের এ পর্যন্ত জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে ৩৭টি হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। আইজিপি বলেন, এসব হত্যাকা-ের একটি মামলার বিচার হয়েছে ও ৬টির চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ৩৪টি মামলায় এ পর্যন্ত ১৪৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হত্যাকা-ের পর বিভিন্ন সাইট থেকে যে দায় স্বীকার করা হয়, এসবের সঙ্গে গ্রেফতার আসামিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়না। এর আগে ২৫ এপ্রিল সোমবার বিকেলে জুলহাজের কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাসায় ঢুকে জুলহাস ও মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশের শাখা আনসার-আল-ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করে। তবে এটি আনসারুল্লাহ বাংলাটিম করেছে বলে দাবি পুলিশের। হত্যাকারীদের কর্মকৌশল ও পদ্ধতি দেখে আমরা ধারণা করছি এটা। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

২০১৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বস্নগার রাজিব হায়দার হত্যার মধ্যদিয়ে দেশে মুক্তমনাদের উপর হামলার শুরু। ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে ৩৭টি। তবে ২০১৪ সালে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে হিসেবে ৩৭টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে আড়াই বছরে। ২০১৩ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২টি। এতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ১ জনকে হত্যা ও আরেক জনকে আহত করে।

২০১৫ সালে হামলা কয়েকশ গুণ বেড়ে যায়। এ সময় ১৬ জনকে হত্যা এবং ৯টি হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। এর মধ্যে ৬টি ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। জেএমবি ঘটিয়েছে ১৮টি। তবে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা সিজারকে কোন জঙ্গিগোষ্ঠী হত্যা করেছে তা নিশ্চিত নয় পুলিশ। ২০১৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ৯ জনকে হত্যা এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শহীদুল হক বলেন, জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলে অনেকে বলে থাকেন সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ব্যবস্থা নেয় না। তারা পুলিশের কোনো অর্জন দেখে না। শুধু ব্যর্থতা দেখে। বাংলাদেশ জঙ্গি দমনে সারাবিশ্বের কাছে রোল মডেল হতে পারে। এখানেই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ফাঁসি হয়েছে। ২৩ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। ৯০ ভাগ হামলার কারণ পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে।

পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে যে বা যারা খুন করেছে, তাদের গ্রেফতার করা হলেই জানানো হবে। তবে মামলাটির ‘মূল’ উদ্?ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় কোনো অগ্রগতির খবর সংবাদ সম্মেলনে দিতে পারেনি পুলিশ। আইজিপি তার দাবির পক্ষে সাফল্যের যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছেন তাতে আরো দেখা যায়, ৩৭টি মামলার মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে মাত্র একটির। চার্জশিট দেয়া হয়েছে ৬টি মামলার। ৩৪টি মামলার মূল ঘটনা উদঘাটন করার দাবি করা হলেও ৩১টি মামলারই এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। সফলতার দাবি ও সরবরাহ করা তথ্যের নানা অসংগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (মিডিয়া) এ কে এম শহিদুর রহমান প্রমুখ।

Check Also

মোল্লাহাটে ৩৩৩-এ খবর পেয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেন ইউএনও

মিয়া পারভেজ আলম  (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ  বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৩৩৩-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে অসহায় দুস’ ৫’টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *