Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / সিঙ্গাপুরে আইএসবি’র ৮ ও ঢাকায় ৫ জঙ্গি গ্রেফতার

সিঙ্গাপুরে আইএসবি’র ৮ ও ঢাকায় ৫ জঙ্গি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে ফিরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ৮ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা সংস্থা ইনটার্নাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (আইএসএ)। গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই দিন ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জঙ্গি গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। এদের গত ২৯ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বয়স ২৬ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস। নিজেদের দলের নাম ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) বলে জানায় গ্রেফতারকৃতরা। তারা সিরিয়া এবং ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গত মাসে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা সংস্থা ইনটার্নাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (আইএসএ)। গ্রেফতারকৃতদের দলনেতা হচ্ছে মিজানুর রহমান (৩১)। সে চলতি বছরের মার্চে আইএসের বাংলাদেশ শাখা হিসেবে আইএসবি গঠন করে। বাকি সাতজনের নাম হচ্ছে, মামুন লিয়াকত আলি (২৯), সোহাগ ইবরাহিম (২৭), মিয়া রুবেল (২৬), দৌলত জামান (৩৪), শরিফুল ইসলাম (২৭), হাজি নুরুল ইসলাম হওলাদার (৩০) এবং ইসমাইল হাওলাদার (২৯)। ঢাকায় গ্রেফতারকৃতরা হলো-মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান (৩৮), মিয়া পাইলট (২৯), আলমগীর হোসেন (৩১), তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)। স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া এবং ইরাকে গিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ জটিলতাপূর্ণ হওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সহিংস কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করে। বাংলাদেশে ফিরে এখানে আইএসের শাখা গঠনের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এর আগে একই অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির সরকার। তবে আগে গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে দেশে ফিরে নাশকতার কোনো পরিকল্পনার অভিযোগ না থাকলেও সমপ্রতি গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনা ছিল।

গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের কাছে অস্ত্র এবং বোমা তৈরি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ছিল। এছাড়া বাংলাদেশে হামলার লক্ষ্যে তারা অর্থ সংগ্রহও শুরু করেছিল। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু পরিমাণ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। স্ট্রেইট টাইমস জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দলনেতা মিজান বাকি সাতজনকে দলে ভিড়ায়। তারা সবাই স্থানীয় নির্মাণ এবং জাহাজ শিল্পের শ্রমিক।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসবি সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি। কারণ তারা আইএসের সমর্থক এবং বিদেশ থেকে দেশে সহিংসতার পরিকল্পনা করছিল। গ্রেফতারকৃতদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত অন্য বাংলাদেশিদের দলে ভিড়ানোর পরিকল্পনা করছিল অভিযুক্তরা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে আরো পাঁচ বাংলাদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে জঙ্গি কার্যক্রমে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে সিঙ্গাপুর সরকার।

অপরদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নাইননিউজ বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলাদেশকে আইএসের ঘোষিত ইসলামি খেলাফতের আওতায় আনা। তদন্তে দেখা গেছে, ঐ জঙ্গিরা বাংলাদেশে হামলা চালাতে কয়েকটি লক্ষবস্তু চিহ্নিত করেছিল। জঙ্গিদের কাছে থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে। রহমান মিজানুরের কাছে থেকে ?’উই নিড ফর জিহাদ ফাইট’ শিরোনামের একটি নথিসহ বোমা ও অস্ত্র তৈরির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। নথিতে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি তালিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ আরো অনেকের নাম ছিল তাদের খুনের তালিকায়। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বিমান বাহিনী, নৌ-বাহিনী এবং র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতারকৃতদের। এছাড়া কিছু পুলিশ কর্মকর্তা, তদন্ত সংস্থা সিআইডি সদস্য, চেয়ারম্যান, সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা (জেনারেল এবং সচিব পর্যায়ের), সরকারি দলের নেতা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং অমুসলিমও তাদের হামলার টার্গেট ছিল।

এছাড়া অস্ত্র ও বোমা তৈরি সংক্রান্ত একটি পুস্তিকাও পাওয়া গেছে তাদের কাছে। এতে বাংলায় রাইফেল চালানোর নির্দেশিকা ও বোমা ব্যবহার বিষয়ক নিয়ম কানুন লেখা ছিল। আইএসে এবং আল কায়েদা সংক্রান্ত কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ দেশটিতে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতারের ঘটনায় বসবাসরত বাকি বাংলাদেশিরা আছেন লজ্জা আর চাকরি হারানোর ভীতির মধ্যে। তার ওপর নতুন করে ৮ জন জঙ্গি গ্রেফতারে তাদের জন্য আরো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

Check Also

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

খবর বিজ্ঞপ্তিঃ বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো” মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *