Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / বৈশাখী উচ্ছ্বাসে রাজধানীতে তারুণ্যের বাঁধভাঙা জোয়ার

বৈশাখী উচ্ছ্বাসে রাজধানীতে তারুণ্যের বাঁধভাঙা জোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার : অতীতের গ্লানি ভুলে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও বর্ষবরণে মেতেছিল বাঙালি। নানা শর্ত আর প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নববর্ষের উচ্ছ্বাসে তেমন কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বৈশাখী উচ্ছ্বাসে তারুণ্যের বাঁধভাঙা জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে রমনা, শাহবাগ, টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

এদিকে রমনা বটমূলে নতুন বছরের ভোরে ছায়ানটের বর্ষবরণ হয়েছে যথারীতি। চারুকলার সামনে থেকেও মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় সকালে। কিন্তু সবখানেই ছিল নিরাপত্তার নামে ব্যাপক তল্লাশি। সংক্ষিপ্ত করা হয় এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয় তা। তাছাড়া এবার মুখোশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে কাউতে মুখোশ পড়তে দেখা যায়নি। বরং মুখোশ ছিল হাতে। ভুভুজেলা নামে এক ধরনের বাঁশির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা-ও দেখা যায়নি। তবে ভুভুজেলা না থাকায় স্বস্তিই ছিল রাজধানীর বৈশাখী অনুষ্ঠানগুলোতে। বিকট শব্দের অত্যাচার থেকে বাঁচা গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন বছরে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয়েছে সর্বজনীন লোক উৎসব পহেলা বৈশাখ।

মঙ্গল শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা, লাঠিখেলা, ঘুড়ি উড়ানো, দাড়িয়াবান্ধা খেলা ও লোকজ সংগীতের মধ্যদিয়ে সারাদেশে নববর্ষকে বরণ করেছে বাঙালি।

বাঙালির নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে অনেক সংগঠন অনুষ্ঠান বা র‌্যালির অনুমতি পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে কেউ আবার এজন্য অনুষ্ঠানই বাতিল করেছে। এই কড়াকড়ির মধ্যে অন্যতম হলো বিকেল পাঁচটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা।

এবার কড়াকড়ির কারণে ভোরে রমনার বটমূলে যেতে মানুষকে একাধিক নিরাপত্তা বেস্টনি পার হতে হয়েছে। হাঁটতে হয়েছে দীর্ঘ পথ; কিন্তু কারও মুখে ছিল না ক্লান্তি। নানা রঙে নানা ঢঙে তরুণ-তরুণীরা সেজেছিল পুরো বাঙালিয়ানায়। সেলোয়ার কামিজের চেয়ে এই দিনে বাঙালি ললনারা সেজেছিল লাল শাড়িতে। খোঁপায় ছিল ফুল।

কয়েকটি ইসলামি দল আগে থেকেই বাংলা নববর্ষের এসব অনুষ্ঠানকে ইসলামবিরোধী এবং হিন্দু সংস্কৃতি আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা নববর্ষে নারীদের বাইরে বের না হয়ে ঘরে থাকারও আহ্বান জানায়। কিন্তু তাদের হুমকি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও রাজধানীতে নববর্ষের উচ্ছ্বাসে তেমন কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। শুধু বিকেলের পর কোনো অনুষ্ঠান হতে দেই না পুলিশ।

বাংলাদেশের সবগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সাধারণত বাংলা বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান তারা করে থাকে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে। এই অনুষ্ঠান বিকেল চারটায় শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করেও বিকেল পাঁচটার পর আর অনুষ্ঠান করার অনুমতি পাইনি। তাই আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের এই অনুষ্ঠানটি এবার করছি না, বাতিল করেছি।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে হয়ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো তথ্য আছে? কিন্তু আমরা সেটা জানি না। আমাদের জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে উৎসবের দিনে মানুষকে ঘরে আটকে রাখার কোনো মানে হয় না।

তার কথায়, বাংলা নববর্ষ নিয়ে মৌলবাদী-চরমপন্থীদের হুমকি পাকিস্তান আমল থেকেই আছে? কিন্তু তাই বলে কি আমরা থেমে আছি, থেমে থাকব?

এদিকে ‘রেইনবো র‌্যালি’ নামে একটি র‌্যালিকে এবার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। নববর্ষের এই র‌্যালিটি চারুকলার উল্টোদিক থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। র‌্যালিটির আয়োজন করে ‘রূপবান’ নামে সমকামীদের একটি সংগঠন। গত দু’বছর ধরে তারা র‌্যালি করলেও এবার তারা অনুমতি পায়নি। তবে এ নিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

র‌্যালি সম্পর্কে ‘রূপবান’-এর ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা যে কারণে, রংধনু যাত্রাও ঠিক একই কারণে। বৈশাখের প্রথম দিবসে বন্ধুত্ব ও বৈচিত্র্য উদযাপন। এর উদ্দেশ্য একটাই- বাংলাদেশে বিরাজমান বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা, রংধনু রঙে।

Check Also

বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক

এই মুহূর্তে বিশ্ব চিন্তিত “ বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক

এই মুহূর্তে বিশ্ব চিন্তিত করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) নিয়ে। ভারতকে তছনছ করে ইউরোপে পাড়ি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *