Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / স্বাধীনতা দিবসেও কর্মীদের কাজ করতে বাধ্য করেছে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি !

স্বাধীনতা দিবসেও কর্মীদের কাজ করতে বাধ্য করেছে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি !

আমিরুল ইসলাম অল্ডামঃ সারা দেশের মানুষ যখন মহান স্বাধীনতা দিবসের উৎসব নিয়ে ব্যস্ত তখনও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে মেহেরপুরের গাংনীর পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির কর্মীরা। অন্যান্য দিনের মতই সকাল নয়টার আগেই কর্মীরা যার যার দায়িত্ব পালনে অবস্থান করেছেন বিভিন্ন গ্রামে। অফিসিয়াল অর্ডারে তারা এমন ছুটির দিনেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সরকারী নিয়ম নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে এ ধরণের কর্মী নির্যাতনের ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

শনিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে জাতি। সরকারী ছুটির কারণে সরকারী-বেসরকারী কোন অফিস খোলা ছিল না। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বন্ধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বিনোদন করে সময় কাটিয়েছেন। ব্যতিক্রম শুধু পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি। সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশুদের জন্য প্রকল্পে কর্মরত সকল কর্মীই ২৬ মার্চ সকাল ৮টায় অন্যান্য দিনের মতই অফিসে আসেন। মুভমেন্ট লিখে বেরিয়ে পড়েন যার যার ফিল্ডে। স্বাধীনতা দিবসের দিনে অফিস চালানোর বিষয়টি চাকুরী স্বার্থে কর্মীরা মুখ বুজে সহ্য করলেও বাধ সাধেন স্থানীয় কিছু সচেতন মানুষ। তারা বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করলে কয়েকজন সাংবাদিক ছুটে যান ওই অফিসে। সেখানে মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার ও হাজিরা খাতায় অন্যান্য দিনের মতই স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সচেতন মহলে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পে কিভাবে সরকারী নিয়ম নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয় তা ভেবে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। পলাশীপাড়া যে কাজটি করেছে তাতে সেভ দ্য চিলড্রেনের গায়ে কলঙ্কের কালিমা লেপন হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সরকারী দিবসে শুধু অফিস খোলা নয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও তার অসম্মান করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। তিনতলায় গ্রিলের সঙ্গে অবহেলা ও অপমানের সঙ্গে পতাকা বেঁধে রাখার বিষয়টি জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে জানালেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

শুধু ছুটির দিনেই কর্মীদেরকে কাজ করতে বাধ্য করা নয়, অন্যান্য অফিস সময়ের সঙ্গে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির অফিসিয়াল সময়ের কোন মিল নেই। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিটি সরকারী বেসরকারী কিংবা এনজিও প্রতিষ্ঠানে ৮ ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। কিন্তু সেখানে পলাশীপাড়ায় চলে নির্বাহী পরিচালক মোশারফ হোসেনের নিয়মে। সকাল নয়টার আগে থেকে অফিস শুরু হয়ে নুন্যতম সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মীদেরকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। তবে ছয়টা পর্যন্ত নির্ধারিত হলেও বেশিরভাগ দিনে ৭/টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এতে চরম মানসিক যন্ত্রণায় থাকলেও চাকুরিচ্যুতির ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না এখানে কর্মরতরা।

সরকারী ছুটির দিনে অফিস চালানোর বিষয়ে পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির এসজে প্রকল্পের পিডি জানায় ইডির নির্দেশে কাজ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, অফিসে এসে এক ঘন্টা অফিস করার কথা সব কর্মকর্তা কর্মচারীর। দিবসটি সম্পর্কে শিশুদেরকে জানাতে এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি কেউ হাজিরা বহিতে স্বাক্ষর ও মুভমেন্ট বহিতে স্বাক্ষর করেন সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার।

এদিকে মোশারফ হোসেন এক ঘন্টার কথা বললেও ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসের বেশ কয়েকজনকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করতে দেখা গেছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উজ জামান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বহী পরিচালককে অফিসে ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Check Also

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

খবর বিজ্ঞপ্তিঃ বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো” মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *