Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / ৭ মার্চের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র শীর্ষ পদে দুই আসামি

৭ মার্চের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র শীর্ষ পদে দুই আসামি

স্টাফ রিপোর্টার:

দুই আসামি বিএনপির শীর্ষপদে এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষপদে পুননির্বাচিত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, অপরজন অর্থপাচার মামলার আসামি। তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে। তাহলে এই দল আর কী দেবে? এই দলটি জনগণকে কিছু দিতে পারবে না।
গতকাল সোমবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল ৩টার আগে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্যদিয়ে এ জনসভা শুরু হয়।

গত রোববার বিএনপির চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তার ছেলে তারেক রহমান আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তফসিলে ১৯ মার্চ দলের কাউন্সিলের দিন ভোট হওয়ার সময় ধার্য থাকলেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় তাদের দুজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন ‘প্রতিহত’ করার নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জবাবদিহি করতে হবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হতে দেবে না সেজন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, শিশুকেও তারা রেহাই দেয়নি। বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে আগুন দিয়ে দিয়ে তারা মানুষকে পুড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ আগুন-সন্ত্রাসীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি বরং তারাই এসব প্রতিহত করেছে। তিনি বলেন, প্রায় আড়াইশ’র ওপর মানুষকে পোড়াল, হত্যা করলো, এখনো অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কী অপরাধ ছিল তাদের, কেন তাদের পোড়াল খালেদা জিয়া, এই জবাব তাকে বাংলার মানুষের কাছে দিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশ আজকে যে এগিয়ে যাচ্ছে এটাই তার পছন্দ হচ্ছে না, কারণ তার আত্মা তো পড়ে থাকে তার পিয়ারি পাকিস্তানে। কারণ তার জন্ম তো আর এদেশে নয়, জন্ম ভারতে, প্রিয় হলো পাকিস্তান। এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমদের দেশে ফিরিয়ে আনেন জিয়াউর রহমান। আর তার স্ত্রী তাদেরকে পাসপোর্ট দেয়। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আড়াই হাজার বছরে যতগুলো ভাষণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছে, তারমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম। সারাবিশ্বে এটি স্বীকৃতি পেয়েছে। ১২টি ভাষায় এ ভাষণ অনুবাদ করা হয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এ ভাষণকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এবারের এশিয়া কাপে ফাইনালে সাকিব-মাশরাফিদের রানার্সআপে প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এবার টিটোয়েন্টিতে আমরা রানার্সআপ হয়েছি। ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। খেলাধুলায় বিশ্বে বাংলাদেশ আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের নানা দিকে তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথমে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান প্রচার করেছিলেন। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারাও তা প্রচার করেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বে আলাদা মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া এ ভাষণ প্রচারে বারবার বাধা দিতে চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাড়ে ৩ বছরের শাসনে বিশ্বের বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হতে দেবে না বলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষকে পুড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের নামের দেশের মানুষকে পুড়িয়েছে খালেদা জিয়া। কেন দেশের মানুষকে পোড়ালেন, এর জবাব খালেদাকে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির কাউন্সিলকে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, কাকে নির্বাচিত করল? দুজনই আসামি, একজন এতিমের টাকা চুরি করার মামলার আসামি, আরেকজন তো ২১ অগাস্ট মামলার পলাতক আসামি, তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দিকটি ইঙ্গিত করেও শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল মানুষকে কী দেবে? তারা এদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, এ কে এম রহমতুল্লাহ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পদক জাকির হোসাইন প্রমুখ।

এর আগে সকাল থেকেই সমাবেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশ মঞ্চের মাইক থেকে সকাল থেকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, দেশাত্মবোধক গান। সুদীর্ঘকালের আপসহীন আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *