Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে নিয়ে মন্তব্য করায় খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ খ ম মোজাম্মেল হককে শাসালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তাদের মন্তব্যের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য করার জন্য দুই মন্ত্রীর বিচার প্রসঙ্গে সচিবালয় সাংবাদিকরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বাক স্বাধীনতা সাবারই আছে। আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি, তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে।

রায় ঘোষণার আগেই প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দুই মন্ত্রী ও সাবেক এক বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্যে বিচার অঙ্গনসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বমহলে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যকে অসাংবিধানিক, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন। আর দুই মন্ত্রীর বিচার দাবি করেছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দুই মন্ত্রীকে সতর্ক করে দিলেন।

প্রসঙ্গত, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামে বদর কমান্ডার ছিলেন মীর কাসেম আলী। ইতিমধ্যে তার মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছেন এ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল। সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এর শুনানিও শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়েছে মঙ্গলবার। কিন্তু রায় ঘোষণার আগে ৫ মার্চ শনিবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সরকারের দু’জন মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি পুনরায় করা উচিত। অপরদিকে একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আর প্রধান বিচারপতি যদি উন্মুক্ত আদালতে এমন কথা বলে থাকেন তাহলে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তার এটা বোঝা উচিত। এটা করে থাকলে এটার প্রতিকার কী-এটা তিনি নিশ্চয় জানেন। হয় তিনি এটা প্রত্যাহার করে নেন, আর না হয় প্রধান বিচারপতির আসনে থাকার সুযোগ কতটুকু আছে তা তার ওপরই রাখতে চাই। তারা (দুই মন্ত্রী) ঐ আলোচনা সভায় এমন অনেক মন্তব্য করেন যা আদালত অবমাননাকর হওয়ায় উল্লেখ করার মতো নয়। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিমকোর্টে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মামলা শুনানিকালে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের বিভিন্ন দুর্বল দিক তুলে ধরে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার তীব্র সমালোচনা করা হয়। তবে আদালতের ঐ দিনের সমালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি।

এদিকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এ প্রসঙ্গে ৬ মার্চ রোববার সাংবাদিকদের বলেন, আমি যখন আইনজীবী ছিলাম তখনও কোনো সাব-জুডিস (বিচারাধীন) বিষয়ে মন্তব্য করিনি। এখন দেশের আইনমন্ত্রী। এখনও সাব-জুডিস বিষয়ে কোনো মন্তব্য করলে খারাপ নজির হয়ে যাবে এটুকুই বলতে পারি। তবে যার যার ব্যক্তিগত মতামত দেয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। উনারা (দুই মন্ত্রী) হয়তো তাদের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়েও কোনো মন্তব্য করব না।

দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য না করাই ভালো। সম্পূর্ণভাবে এগুলো অসাংবিধানিক উক্তি। এ ধরনের মন্তব্য এড়ানোর পাশাপাশি এ রায় নিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। রায়ের তিন দিন আগে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি একটি দেশের বিচারব্যবস্থার প্রধান। সুতরাং তাকে বিতর্কিত করা মানেই বিচারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করা। তাই এসব উক্তি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *