Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / খবর / শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস শুরু

শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস শুরু

শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস শুরু

স্টাফ রিপোর্টার:  দীর্ঘ ১৮ মাস পর উৎসবমুখর পরিবেশে স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ফুল, চকলেট ও কোমল পানীয় দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বাজনা বাজিয়ে ও বিশেষ সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহল। দীর্ঘ সময়ের দুশ্চিন্তার যেন অবসান ঘটেছে। তাই ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে স্কুলগুলোর প্রবেশপথ। কর্মচাঞ্চল্যময় কর্ম পরিবেশ ফিরে পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকিরা খুবই খুশি। অভিভাবক মহলেও আনন্দের যেন শেষ নেই। এখন আর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অলস সময় পাড় করা, টেলিভশন দেখা ও মোবাইল-কম্পিউটারে গেমস খেলা চলবে না। এদিকে প্রচ- রোদ-গরম উপেক্ষা করেই স্কুল-কলেজগুলোর ফটকের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা সময়মতো হাজির হয়েছেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যায়। শুরুতেই সাবান দিয়ে ধুয়ে স্কুলে প্রবেশ করতে হয়েছে।
সরেজমিন দেশসেরা সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের চকলেট, ফুল ও কোমল পানীয় দিয়ে বরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে ছাত্র ছাত্রীদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করাসহ মাস্ক পরিধান করিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করানো হয়েছে। শতভাগহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসগুলোতে ফাঁকা ফাঁকা করে শিক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষীকারা আগেই করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ শেষ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দিনে এসএসসি পরীক্ষার্থী, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা সুযোগ পেয়েছে। এখানকার মোট শিক্ষার্থী সাড়ে ১২ হাজার। প্রথম দিনে ক্লাসভিত্তিক ৭৫ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী উপস্থিত হয়েছে। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার বলেন, ঘরবন্দি থেকে এক শ্বারুদ্ধকর অস্থায় ছিলাম আমরা। স্কুল খোলার মাধ্যমে যেন দীর্ঘ সময়ের কারাবন্দি থেকে যেন মুক্তি পেয়েছি। পড়ায় মন বসাতে পারতামনা বিষন্নতায়। অনলাইন ক্লাসে মজা পাচ্ছিলাম না। এখন বন্ধুদের ফিড়ে পেয়েছি, ফিরে পেয়েছি শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ স্কুল প্রাঙ্গন। এখন আমি অনেক খুশি কারণ নতুন করে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছি। এ বিষয়ে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস শুরু করতে পেরেছি। আশা করি ঝুঁকিমুক্তভাবে স্কুলের সব কার্যক্রমসহ সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারব। এক্ষেত্রে স্কুলের বাইরেও যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারে সে নির্দেশনা প্রতিটি ক্লাসে দেয়া হবে। তাই অন্যান্য দিনের মতো স্কুলের সামনে ঝালমুড়ি ও চানাচুরসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো বসতে দেয়া হয়নি। এই (সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও ডিএসসিসির ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসনুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টু বলেন, আমাদের এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা ও সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্কুল চলাকালীন পর্যবেক্ষন টিম শতভাগ মনিটরিং করবে যাতে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হয়। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়ে। তবে এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় শিক্ষার্থী অনেকটাই কম। তিন হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। এখানেও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে স্কুলটিকে। একই নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বাজনা বাজিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস শুরু হওয়ার পাশাপাশি এখানে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাও প্রথম দিনে ক্লাস করতে পেরেছে। আর শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে যথাযোগ্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে বিশেষ মিটিং করেছেন। রাজধানীর ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারিয়া আহমেদ বলেন, অনেকদিন পর স্কুলে আসলাম, শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, বান্ধবিদের সঙ্গে দেখা আর গল্প জমেছে। খুবই ভালো লাগছে। একই কথা বলেন ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিতালি রায়। তিনি বলেন, প্রায় ২ বছর পর স্কুলে আসলাম। সব কিছু কেমন যেন নতুনের মতো লাগছে। একই সুরে কথা বলেছেন, সামসুল হক খান স্কুল অ্যা- কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জানান, আমি সত্যিই খুব আনন্দিত স্কুলে আসতে পেরে। আমার খুব ভালো লাগছে। আজিমপুর গভর্মেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুরাইয়া বলেন, সত্যি কথা বলতে আজকের দিনটি সত্যিই মনে রাখার মতো। সবচেয়ে মজা লেগেছে স্কুলে বরণ করার বিষয়টি।

উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরা : সশরীরে পাঠদান অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। তারা বলছেন, শিক্ষকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বোঝাপড়া। দীর্ঘ দিন পর এটি আবার শুরু হওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত। জানতে চাইলে ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন পর সশরীরে পাঠদানে অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়ার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাস্ক পড়ার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। একই কথা বলেন ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, আজকের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। দীর্ঘ দিন পর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে এসেছে এ এক অন্যরকম অনুভূতি। স্কুলে আবার পাঠদান শুরু হওয়ায় খুশি বড় মগবাজার সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুননাহার বেগম। তিনি বলেন, শিশুদের কোলাহলে আবার মুখরিত হয়ে উঠল প্রিয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীদের মতো আমারও খুবই ভাল লাগছে। ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শফিউদ্দিন মিয়া মনে করেন, শিক্ষার্থী ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদমই অচল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমায় দীর্ঘ দিন পর স্কুল খুলল। একটা কথা চির সত্য তা হলো শিক্ষার্থী ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদমই অচল। এই দুইয়ের সমন্বয় না থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায় না। শাহনুরী মডেল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুর রহমান স্কুল খোলায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে আমরা অনলাইনে ক্লাস নিয়েছি। কিন্তু সশরীরে পাঠদান করা সম্ভব হয়নি। আজ আবার আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশ নিতে পারায় আমি খুবই আনন্দিত।

আনন্দের সাথে আছে উদ্বেগ : স্কুল প্রাঙ্গণ আবারো মুখরিত চিরচেনা সেই পরিবেশে। যেখানে শিক্ষার্থীরা আবার সশরীরে ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন আর শিক্ষকরাও পাঠদান করছেন। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার চোখে মুখেই ছিল খুশির ঝিলিক। তবে এ আনন্দের সঙ্গে অভিভাবকদের আছে উদ্বেগও। কারণ তারা বলছেন সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে তাদের। মেয়েকে স্কুলে দিতে এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী একজন মা। তিনি বলেন, ভালো লাগছে অনেক দিন পর স্কুল খোলায়। কিন্তু মনে এক ধরনের শঙ্কাও আছে। কারণ যদি সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। একই কথা বলেন ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অর্ক সরকারের বাবা সুধীর সরকার। তিনি বলেন, স্কুল খোলায় খুশি লাগছে। কিন্তু সরকারের কাছে অনুরোধ যেন স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি রাখা হয় না হলে যুক্তরাষ্ট্রে মতো অবস্থার মুখোমুখি আমাদেরও হতে হবে। বড় মগবাজার সরকারি প্রাইমারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মৌমিতা রহমানকে নিয়ে এসেছিলেন আতিক রহমান। তিনি বলেন, মেয়েকে স্কুলে নিয়ে এসেছি। কিন্তু মনে ভয় হয় যদি স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানা না হয় তাহলে করোনা আক্রান্ত হবার।

 

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *