Thursday , December 2 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি দিনে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি দিনে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার|:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘরে থাকুন, খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। তিনি আরো বলেন, স্কুল খুলে কি ছেলেমেয়েদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেব? টিকা দেয়ার পরেই স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক শক্তিশালী, অনেক গভীরে, তাই এ দলটিকে সহজে উপড়ে ফেলা যাবে না। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ সালের বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি দিনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের পরামর্শে ও সহযোগিতায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল সেনা অফিসার ডালিম, মেজর ফারুক, মোস্তাক আহমেদকে নিয়ে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে এবং হত্যাকারীদের বিদেশে রাষ্ট্রপতি করে পাঠায়। পরে জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রথমে সেনা প্রধান ঘোষণা করেন এবং একদিন টেলিভিশনে নিজেই ভাষণ দিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদত্যাগ পত্র নেন। শেখ হাসিনা বলেন, একাধারে সে ছিল সেনাপ্রধান ও দেশের রাষ্ট্রপতি। যা এর আগে আমরা আইয়ুব খানকে এমন হতে দেখেছি। আইয়ুব খান সেনা প্রধান থাকাকালীন ইসকান্দার মির্জাকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি হন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াকে বঙ্গবন্ধু উপ-সেনাপতি বা প্রধান নিয়োগ করেন। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জিয়া ছিল মেজর, সে কুমিল্লায় এক নর্তকী নিয়ে থাকতো। সে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘর করতে রাজি ছিল না। তার পরে বঙ্গবন্ধু তাকে মেজর থেকে মেজর জেনারেল করে ঢাকাস্থ ক্যান্টনমেন্টে আনেন, তাকে উপ সেনাপ্রধান করেন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে সংসার করতে বলেন। আর সেই জিয়াই কিনা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল মেজরদের দিয়ে হত্যা করে। সবটাই সে জানতো এবং সে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। তারপরে সে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বুকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে টেলিভিশনে ভাষণ দেয়। এরপর থেকে দেশে খুন, গুমের রাজনীতি চালাতে থাকে। তার নির্দেশে ৬৬৫ জন বিমান বাহিনীর সেনাকে হত্যা করা হয়। প্রতি রাতে ১০ জনের ফাঁসির আদেশে সই করত জিয়া। প্রতি রাতে হত্যা করা হত তার অপছন্দের নেতাদের। অনেকের লাশ পাওয়া পর্যন্ত যায়নি। খালেদা জিয়া ভুয়া ভোট করে বিজয়ী হন, কিন্তু জনগণের আন্দোলেনের কারণে বেশিদিন টিকতে পারেনি। তার আমলে বাংলা ভাইসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- হতে থাকে। একদিনে দেশের ৬৩ জেলায় বোমা, গ্রেনেড হামলা হয়। আর তারাই কিনা আমাদের গণতন্ত্র শেখায় ?

খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার যত দামে টিকা কিনুক না কেন জনগণকে বিনামূল্যে টিকা দেয়া হবে। যেখান থেকেই যত দামে টিকা আমদানি করি না কেন তা বিনামূল্যে আমরা সবাইকে দেব, কোভিড টেস্টও ফ্রিতে করা হচ্ছে। এসময় দেশবাসীকে চলমান লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ কমাতে লকডাউন মেনে ঘরে থাকুন, মাস্ক পরুন, প্রয়োজনে খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে শনিবার ভোরে চীনের সিনোফার্মের দুই মিলিয়ন এবং আমেরিকার মডার্নার দুই দশমিক ৮৫ মিলিয়ন কোভিড-১৯ টিকা এসে পৌঁছেছে। এগুলো দ্রুত দেয়া শুরু হচ্ছে। আমরা ভারতের চেয়ে এসব টিকা আরো বেশি দামে কিনে আনলেও জনগণকে বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করবো বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে, তবে বিদেশগামী শ্রমিকরা প্রথমে এ টিকার সুযোগ পাবেন, যাতে তাদের বিদেশে গিয়ে আর কোয়ারেন্টাইনে না থাকতে হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, টিকার জন্য আমরা ৩৫ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রেখেছি। টাকার অভাব হবে না। চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকার জন্য আমরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। দ্রুত টিকা আমদানি সম্ভব হবে, সবাইকে টিকার আওতায় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে টিকা আমদানির চুক্তি করি, কিন্তু ভারতে সংক্রমণ অত্যাধিক বেড়ে গেলে তারা টিকা দিতে অপারগতা জানায়। ভারত টিকা দেয়া বন্ধ করে দিলে আমরা কিছু সমস্যায় পড়ি। তারপরে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে টিকা আনতে চেষ্টার ফলশ্রুতিতে আজ ভোরে চীনের সিনোফার্মের দুই মিলিয়ন এবং আমেরিকার মর্ডানার ২.৮৫ মিলিয়ন টিকা এসে পৌঁছেছে।

টিকা দেয়ার পর খুলে দেয়া হবে স্কুল-কলেজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সিনোফার্ম ও মডার্নার টিকা এসে গেছে। টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে বিদেশগামী শ্রমিকদের দিচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের টিকা দেয়ার পর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, আমরা যখন ঠিক সিদ্ধান্ত নিলাম স্কুল খুলব তখনই করোনা ভাইরাস এমনভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ল সারাবিশ্বে, তার ধাক্কাটা আসল আমাদের দেশেও। শেখ হাসিনা বলেন, যাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে যায় সেই বাবা-মা কিন্তু চান না তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে। এটা নিয়ে সব থেকে বেশি সোচ্চার যাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যায় না। পড়েই না বা পড়ার মতো ছেলেমেয়ে নেই তারাই বেশি কথা বলে। কিন্তু যাদের যায় তারা তো চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, একটা ছেলেমেয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে এটা তো করতে পারি না। ছোট্ট শিশুদেরও তো করোনা হচ্ছে। আমরা জেনে শুনে লেখাপড়া শিখব কিন্তু লেখাপড়ার জন্য মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেব কিনা সেটাও একটু বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ স্কুল বন্ধ আছে। পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয় তাই সংসদ টিভির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাস প্রতিদিন প্রচার হচ্ছে। রেডিও উন্মুক্ত করেছি, রেডিওর মাধ্যমে যাচ্ছে, অনলাইনে যাচ্ছে, যে যেভাবে সুযোগ পাচ্ছে সেভাবে কিন্তু পড়াশোনার কাজটা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। একটু ক্ষতি হচ্ছে। টিকা দেয়ার পরই সকল স্কুলগুলো খুলে দেব। স্কুল খোলা নিয়ে বিরোধী দলীয় ?উপনেতা জি এম কাদেরের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বলার জন্য বলবেন এটা ঠিক আছে? তারপর এটা চিন্তা করবেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দেবেন কিনা। বিদেশে আমাদের নাতি পুতিরা পড়াশোনা করে, ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে অনেকে পরিচিত জন পড়ে। সেখানে দেখেছি সবাই অনলাইন পড়াশোনা করছে। কিছু দিন স্কুল খুলল আবার যখন মহামারী ছড়িয়ে পড়ল আবার বন্ধ করল। হ্যাঁ তারা অপশন দিচ্ছে কারা স্কুলে পাঠাবে আবার কেউ ঘরে বসে পড়াচ্ছে। আবার যখন ছড়িয়ে পড়ে আবার বন্ধ করে দেয়। এটা শুধু বাংলাদেশের নয় সারা বিশ্বেরই এই অবস্থা। শিক্ষার জন্য সব থেকে বেশি কাজ আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষকদের টিকা দিয়েছি। ছাত্রদেরও টিকা দেব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কতগুলো নির্দেশনা মেনে চলতে হয় কোন টিকা কোন বয়স পর্যন্ত দেয়া যাবে। সেটা তারা প্রথমে পরামর্শ দেয় সেটা মেনেই চলতে হয়। সেই হিসাব করে আমরা ইতোমধ্যে টিকা আনতে শুরু করেছি।

Check Also

শীতের পিঠা

শীতের পিঠা বিক্রি

বাগমারা সংবাদদাতা:  বাগমারার বিভিন্ন হাটবাজার ও বড় বড় রাস্তার মোড়ে এমন পিঠা তৈরির দোকান চোখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *