Tuesday , December 7 2021
Breaking News
Home / খবর / মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়েছে ৩০০ ঘর

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়েছে ৩০০ ঘর

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়েছে ৩০০ ঘর

স্টাফ রিপোর্টার :  রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ভয়াবহ অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার ভোরে লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। এ অগি্নকা-ের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বস্তির অন্তত ৩০০শ’ ঘর পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি কর্মকর্তা কামরুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ভোর ৩টা ৫৯ মিনিটে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রথমে সেখানে ৪টা ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরও ১৪টি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। এ ছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তা করে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। জানা গেছে, গতকাল সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে সাততলা বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। বস্তির বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, বস্তিজুড়ে কাঠ ও টিনশেডের ঘর। পুরো বস্তিতে প্রায় দুই হাজার ঘর রয়েছে। এর অর্ধেকই পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। জানা গেছে, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আশপাশের এলাকার পুকুর এবং জলাশয়ে পানির জন্য ছুটে যান। পৃথক ছয়টি পাম্পের সাহায্যে এসব জলাশয় থেকে পানি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুকুর এবং জলাশয়ের পানি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন তারা। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পুকুরের পানি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে। এভাবে প্রতিটি এলাকায় একটি করে পুকুর থাকা জরুরি ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভেতর আইপিএইস পুকুরের উত্তর দিকে পৃথক তিনটি পাম্প দিয়ে সাততলা বস্তিতে পানি সরবরাহ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এভাবে আরেকটি পাম্প দিয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ভেতরের একটি পুকুর থেকে পানি আনা হচ্ছে। যদিও পরে সরবরাহ নিশ্চিত করতে

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়েছে ৩০০ ঘর

পানি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ও ওয়াসার পানিবাহী গাড়ি আসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মাকসুদ হাসান বলেন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পুকুর থেকে সাততলা বস্তির দূরত্ব ৫০০ মিটারের মতো হবে। সাধারণত এমন কাছাকাছি পানি পাওয়া যায় না। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়েছে। এভাবে ঢাকার অন্যান্য এলাকায় পুকুর থাকলে আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আগুন ছড়িয়ে পরার সব উপাদানই এই বস্তিতে ছিল। সাততলা বস্তি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এখানে অবৈধ গ্যাস ও বিদুৎ সংযোগও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- গ্যাস বা বিদুৎ সংযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত। তিনি আরও বলেন, এই বস্তির ঘর-বাড়ি বাঁশ ও কাঠের কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে আগুন সহজেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণাবাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে ঘটনার পর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ছুটে এসেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে পুড়েছে ৩০০ ঘর
তদন্ত কমিটি: অন্যদিকে অগি্নকা-ের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সদরের উপ-পরিচালক (উন্নয়ন) নূর হাসান আহমেদকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা বিভাগ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা আমরা তদন্ত করে দেখব। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন তা তদন্তে উঠে আসবে। এখানে কারও গাফিলতি রয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

 

 

 

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *