Thursday , December 2 2021
Breaking News
Home / খবর / ভোটের পক্ষে ইসি

ভোটের পক্ষে ইসি

ভোটের পক্ষে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানে পক্ষে নেই স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে লকডাউন ঘোষিত এলাকায় মোটেও ভোট করার পক্ষে নয় তারা। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ইতোমধ্যে কমিশনকে অবহিতও করেছে জেলা প্রশাসন। তবে ভোটের পক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট অনুষ্ঠানের আদেশ দিয়ে গতকাল রোববার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকসহ ইসি মাঠ প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন গত ২ জুন কমিশন সভা করে স্থগিত লক্ষ্মীপুর -২ আসনের উপনির্বাচন এবং ষষ্ঠ ধাপের দেশের এগারটি পৌরসভা এবং প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে ২১ জুন ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে। ওইদিন কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব খন্দকার আনোয়ারুল কবীর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্থগিত এসব ভোট অনুষ্ঠানের তারিখ জানিয়ে ওইদিনই আদেশ জারি করার কথা জানান তিনি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-২ এবং ১১টি পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে আদেশ জারি হলেও স্থগিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের আদেশ রোববার বিকালে মাঠ প্রশাসনে পৌঁছেছে। যদিও চিঠিটি ৩ জুনের তারিখে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ই-মেইল ও ইসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে চিঠি পাঠানো হয়ে। এক্ষেত্রে পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা পৌঁছে যায়। মাঠ প্রশাসন ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের তার অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের কারণে সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে থেকে লকডাউন ঘোষণার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা পর্যবেক্ষণ করে চারদিনের মাথায় চিঠি দেয়া হয়েছে। অবশ্য চিঠি পাঠানো হলেও মাঠ প্রশাসন থেকে নির্বাচনের পরিবেশ বিষয়ে যেসব লিখিত বা মৌখিক চিঠি এসেছে তা ফাইল আকারে কমিশনে তোলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত আসে তা-ই বাস্তবায়ন হবে।

নির্বাচন কমিশনের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ভোট নিয়ে তাদের মধ্যেও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তারা বলেন, নির্বাচন হলে প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লকডাউন এলাকায় কীভাবে প্রচারণা চলতে সেটাও প্রশ্ন রয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণাঞ্চলের একজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, তার জেলার অনেকগুলো উপজেলাতে ভোট হবে। ভোট করতে হলেও প্রিজাইডিং অফিসারসহ সব ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটা কতটা সম্ভব হবে সেটা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও ভোটের বিপক্ষে মত দিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার একাধিক সংসদ সদস্য পরিস্থিতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লেখার জন্য জেলা প্রশাসককে আগেই অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের জেলার যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে, তার সবগুলো নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল নয়। বিশেষ করে কলারোয়া উপজেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানে পরিবেশ অনুকূল নয় মর্মে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, ২১ জুন তারা ভোট করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত জানার পর আমাদের তো কথা থাকতে পারে না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। কিন্তু জেলার অনেকগুলো এলাকার নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল না হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আজই (রোববার) নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি সার্বিক পরিস্থিতি তার কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাকে এ বিষয়ে একটি লিখিত চিঠি দিতে বলেছিলেন। কিন্তু চিঠি প্রস্তুত করার মধ্যেই ২১ জুন ভোট অনুষ্ঠানের নির্দেশনার আদেশ হাতে পেয়েছি। এখন সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে কমিশনকে অবহিত করব। তারপরও যদি তারা অবিচল থাকে তাহলে তো আমাদের ভোট করতেই হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক মাধব রায় গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। যার কারণে এ সংক্রান্ত আদেশ মাঠ প্রশাসনে পৌঁছে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হলে জানতে পারবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকটি জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। বর্ডার এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক বলে তারা জানিয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসকদের চিঠি ফাইল আকারে তুলেছি। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মাঠপ্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব বলেন, খুলনা জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন তার জেলার যেসব জায়গায় ভোট হবে সেখানকার সংক্রমণ পরিস্থিতি ৩/৪ শতাংশের মধ্যে। এই মুহূর্তে সেখানে ভোট করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন। তবে, সাতক্ষীরা কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোংলায় সমস্যার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি এমন হলে বেশি সংক্রমণ এলাকার ভোট স্থগিত রেখে অন্যগুলো হয়তো হতে পারে। অবশ্য এই বিষয়ে কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কমিশন আগে থেকেই দ্বিধা বিভক্ত ছিল। যার কারণে পরপর তিনটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সর্বশেষে ২ জুনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে পাঁচজন কমিশনার এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কবিতা কবিতা খানম ভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন। অপরদিকে কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় ভোট গ্রহণ না করার পক্ষে অবস্থান নেন।
কমিশনার মাহবুব তালুকদার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে প্রথমে নিরপেক্ষ থাকলেও শেষ সময় সিইসির মতের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ৩/২ ভোটে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রসঙ্গত, দেশের ১৯টি জেলার ৬৪টি উপজেলার ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২১ জুন ভোট হবে। যেসব জেলা-উপজেলায় ভোট হবে তার অনেকগুলোই সীমান্তবর্তী। এর কয়েকটিতে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের লকডাউনের আওতায় রয়েছে। এসব লকডাউন আরও দুই/এক সপ্তাহ বাড়বে বলে জানা গেছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

 

Check Also

করোনায় ২ জনের মৃত্যু

করোনায় ২ জনের মৃত্যু

Kbdnews ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *