Wednesday , December 8 2021
Breaking News
Home / খবর / আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

স্টাফ রিপোর্টার : পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এ পরিণত হয়েছে। একই স্থানে অবস্থান করে শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার বেগে বইবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। কখনো কখনো ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে। আগামীকাল বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িষ্যা ও বিহার উপকূলীয় এলাকা এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূল এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। আগামীকাল বুধবার থেকে ধীরে ধীরে বাতাস শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস তান্ডব চালাতে পারে টানা ১২ ঘণ্টা। এ অবস্থায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
জানা গেছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এ পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আরো শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ২৬ মে বুধবার ভোর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলের কাছ দিয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে ঝড়টি কিছুটা গতিপথ বদলেছে। এটি এখন ভারতের উড়িষ্যার দিকে যাচ্ছে। যে কোনো সময় এই ঝড়ের গতিপথ আবার পরিবর্তন হতে পারে। যদি গতিপথ বদলায় তাহলে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেও আসতে পারে। এক্ষেত্রে ঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলাকে আঘাত করতে পারে বলে জানা গেছে আবহাওয়া অফিস সূত্রে। তবে গতিপথ বদলালেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পড়বে দেশের চারটি জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনায়। এসব জেলায় দমকা হাওয়াসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। বেশ ক্ষতিগ্রস্তও হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এবং এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি গতকাল দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার থেকে কিছুটা এগিয়ে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। কক্সবাজার থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এগিয়েছে। কিন্তু মোংলা ও পায়রা থেকে একই দূরত্বে আছে এখনো। আর মোংলা বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে বলে বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়। এ জন্য চট্টগ্রাম, পায়রা, কক্সবাজার এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নিদেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ করতে মানা করা হয়েছে।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
এদিকে ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়টি পরিণত হয়েছে ইয়াসে। এর পর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে এগোতে থাকবে এই ঘূর্ণিঝড়। গতকাল সোমবার রাতে আরো শক্তি বাড়িয়েছে ইয়াস। আগামীকাল বুধবার স্থলভাগে আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। গত রোববার রাত পৌনে একটা থেকে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখনো কোথাও একঘণ্টা, কোথাও বা তার বেশিক্ষণ ধরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বলতে যেটা বুঝি, সেই প্রভাব আজ মঙ্গলবার রাত থেকে পড়তে শুরু করবে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হবে। আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হবে। আর বাতাস রাতে শুরু হবে। জোয়ারের পানি উঠা শুরু করবে আগামীকাল বুধবার থেকে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে নিম্নাঞ্চলগুলো। জোয়ারটা হতে পারে পূর্ণিমার কারণে। পূর্ণিমার সময় এমনি জোয়ারের পানি বেশি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের কারণে সেটা আরও স্ফীত হতে পারে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী উপকূল জোয়ারের পানিতে বেশি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তবে দক্ষিণ উপকূলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অধিক তাপপ্রবাহ আর গুমোট আবহাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসহনীয় করে তুলেছে। দিনভর প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। টানা এক সপ্তাহ ধরে উপকূলীয় এলাকায় তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণী ও আম্ফান মোকাবিলার তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে উপকূলীয় বাসিন্দারা আবহাওয়ার এই গুমোট ভাবকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের লক্ষ্মণ হিসেবেই দেখছেন। মে মাসের এ অসহ্য তাপপ্রবাহ বাড়াচ্ছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক। উপকূলের প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, মে মাসেই দেশের উপকূলে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়গুলো আঘাত হেনেছে। বড় বড় যত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, তার সপ্তাহখানেক আগে তাপমাত্রা অসহনীয় থাকে। এবারও সে রকমই প্রখর তাপ অনুভূত হচ্ছে। বরগুনাসহ গোটা উপকূলীয় এলাকায় দিনভর প্রখর তাপ ও সন্ধ্যার পর থেকে গুমোট ভাব থাকে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপকূলে সূর্যের প্রখর তেজ আর তীব্র দাবদাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দিনের এ প্রখর খরতাপ অক্ষুণ্ন থাকছে রাতেও। এদিকে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার মানুষ। এখনো সংস্কার হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ। মাঝেমধ্যে নদীতে সামান্য জোয়ারের পানি বাড়লেই অনেক এলাকার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আবার ঘূর্ণিঝড় আসছে শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, আম্ফানের পর কেবল কিছুটা গুছিয়ে উঠছিলেন। এরই মধ্যে আবার বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে তাদের একেবারে নিঃস্ব করে দেবে। অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভোলার উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী। তবে আবহাওয়া এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে ঝড়ো বাতাস বইছে। তীরে ফিরতে শুরু করেছে মাছ ধরার নৌকা। উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ও সিপিপির স্বেচ্ছাসেবীরা। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে সদরের তুলাতলী, ইলিশাসহ বিভিন্ন পয়েন্ট এ প্রচারণা চালায় তারা।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
অপরদিকে ভোলায় উপকূলের ৩ লাখ ১৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রসাসন। জেলার সাত উপজেলার ৪০টি দ্বীপচরকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনার এ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় জেলার ৭০৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৭৬টি মেডিকেল টিম। অন্যদিকে সিপিপি’র ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও রেডক্রিসেন্ট এবং স্কাউটস কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম। ঘূর্ণিঝড়ে যাতে উপকূলীয় জেলা ভোলায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয় সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় আলাদা টিম গঠন করা হবে। প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি টিম ও স্বাস্থ্য বিভাগের ২০০ কমিউনিটি ক্লিনিকও।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেছেন, আমরা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর্যবেক্ষণে রেখেছি, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা তান্ডব চালাতে পারে। এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড়ের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অনলাইনে যুক্ত হয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা আমাদের জন্য নতুন নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মনিটরিংসহ জরুরি কাজের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে। সেইসঙ্গে প্রকৌশলীদের কাছে আক্রান্তদের জন্য মাস্ক, স্যালাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে লোকবল নিশ্চিত করাসহ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ স্টেশন ত্যাগ করতে পারবে না। কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরো শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সৃষ্টি হয়েছে। এটি শক্তিশালী ‘সুপার সাইক্লোনে’ পরিণত হয়ে আঘাত হানবে। তাই বাংলাদেশের পুরো উপকূলকে সতর্ক থাকতে থাকতে বলা হয়েছে।

 

 

Check Also

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। মেহেরপুর মুক্ত দিবস

স্টাফরিপোটার  : আজ ৬ ডিসেম্বর। মুজিবনগর ,মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে অস্থায়ী রাজধানী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *