Friday , February 26 2021
Breaking News
Home / খবর / মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার

 

 

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার  বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবারস্টাফরিপোটার /kjkhan:  সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার।
২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তার এই মহান ব্রতকে সামনে রেখেই মুজিববর্ষে প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর দুই শতাংশ জমির মালিকানা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা বাড়ি পাবেন গৃহহীন ও ভূমিহীনরা। সারা দেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের এই মহাযজ্ঞ প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার  বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার
আগামীকাল শনিবার প্রথম ধাপে ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার বঙ্গবন্ধু কন্যার উপহারের ঘর পাচ্ছেন। এরমধ্যে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন। এছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সেসব ঘর সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করবেন। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই আরো ১ লাখ পরিবারকে গৃহ বরাদ্দ করা হবে। আর চলতি বছর অর্থাৎ মুজিববর্ষেই আরো ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭১৮ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে স্বপ্নের নীড়সহ দুই শতক জমির মালিকানা দিয়ে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে দেয়া হবে সরকারিভাবে। দেশের বিপুলসংখ্যক ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে নিজস্ব ঠিকানা অর্থাৎ জমির মালিকানাসহ সরকারি খরচে নির্মিত বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সামনে আরেকটি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন, যা নজিরবিহীন। প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে থাকবে দুটি বেড রুম, একটা কিচেন রুম, একটা ইউটিলিটি রুম, একটা টয়লেট ও একটা বারান্দা। দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি সব বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। শনিবার প্রথম ধাপের ঘর বরাদ্দের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে একটি প্রেস ব্রিফিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে (২য় তলা) অনুষ্ঠিত হবে। মুজিববর্ষের সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই এসব ঘর নির্মাণকাজ শেষ করতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ‘আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহারই সস্নোগানকে সামনে রেখে মুজিব শতবর্ষে দেশেই নির্মিত হচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য এই ‘স্বপ্নের নীড়’।
মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার  বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার
সরকারের হিসাব মতে, সারাদেশে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ হাজার ৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৭, রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৪, রাজশাহী বিভাগে ৯৬ হাজার ৫০৪, খুলনা বিভাগে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪১১, বরিশাল বিভাগে ৮০ হাজার ৫৮৪ এবং সিলেট বিভাগে ৫৫ হাজার ৬২২টি গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে জমি ও ঘর নেই এমন পরিবারের পাশাপাশি ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু জরাজীর্ণ বাড়ি এমনো পরিবার রয়েছে। এদিকে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পাবনায় ১ হাজার ৮৬ ভূমিহীন ও গৃহহীন পাচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’। ১ম পর্যায়ে গৃহহীনদের মাঝে দুই শতক জমিসহ গৃহ হস্তান্তর করা হবে। আগামীকাল শনিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং এ জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এ তথ্য জানান।
মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার  বাড়ি পাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবার
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জেলার ৯টি উপজেলার ১ হাজার ৮৬টি পরিবার গৃহহীন আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই শতক জমিসহ একটি করে সেমি পাকাঘর পাবে। এর মধ্যে পাবনা সদর ৪৪৯, সাঁথিয়া ৩৭২, আটঘরিয়া ৮৫, ফরিদপুর ৫০, ঈশ্বরদী ৫০, চাটমোহর ৩০, সুজানগর ২০, বেড়া ২০ এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ১০টি পরিবার এই স্বপ্নের নীড় পাবে। বাড়িগুলো ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি কক্ষের। এতে আরো থাকছে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম। প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরাই পাবে এ ঘরগুলো। এর ফলে পরিবারগুলো পাবে সামাজিক মর্যাদা ও নতুন ঠিকানা।

Check Also

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ আহত ১৬

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ আহত ১৬

গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছে। Kbdnewsপ্রতিনিধি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *