Tuesday , January 19 2021
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / আজ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস,,

আজ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস,,

আজ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস

 

সফিকুল ইসলাম:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষের এই দিনটিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। একই দিনকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস্থ আখ্যা দিয়ে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে সরকারবিরোধী দল বিএনপি। একইদিন দেশের প্রধান বড় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে এরইমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি। এসব ধারণা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ মানুষের।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করতে ঢাকাসহ সারাদেশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত কর্মসূচিতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর বাইরে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বেলা ১১টায় সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। আর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বিকেল ৩টায় আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিটগুলোর ক্লাব-অফিসে থাকবে লাল-সবুজে ‘নৌকা’ সাজে আলোর ঝলকানি। আর ঢাকার বাইরেও এ দিন নানা কর্মসূচি পালিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা, উপজেলা ও মহানগর নেতারা। এরই মধ্যে বিশেষ বর্ধিতসভা ও মতবিনিময় করেছেন বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা। এ বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের সাথে। তিনি বলেন ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। এ দিন এ দেশের মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। তাই জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এবং এ সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে সারাদেশে গণসংযোগ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত কোনো কর্মসূচির নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই বিষয়ে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজের সাথে। তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলাব্যাপী মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল করা হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এরইমধ্যে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি থানা-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জরুরি সভা করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা। ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবসকে সফল করার জন্য বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ। গত সোমবার বিকেলে যাত্রাবাড়ীর মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার ১৪ দলের প্রধান সমন্বয়ক হারুনর রশীদ মুন্নার সভাপতিত্বে এবং যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৪৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরইমধ্যে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত কর্মসূচি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে গণতন্ত্রের বিজয়ের এ ঐতিহাসিক দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এদিকে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে ভাবছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। তারা যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে নিজেরাই সন্দিহান। তবে তাদের মিথ্যাচার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামে মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা দেখবে। তবে মানুষের জানমালের ক্ষতি করলে গণ-মানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। নির্বাচনের এই দিনে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে থাকবে-ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, বিজয় র‌্যালি, গণসংযোগ, আলোকসজ্জা ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বর্জনের মুখে দশম সংসদ নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপি। ২০১৩ সালে নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশে বাধা পেয়ে টানা ৯২ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন ও ব্যাপক নাশকতা চালায় বিএনপি-জামায়াত। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেশকিছু দিন গুলশান কার্যালয়ে ্তুঅবরুদ্ধ্থ থাকেন। এ সময় ব্যাপক নাশকতার ঘটনার অভিযোগে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে অনেকে গ্রেফতার হন এবং আত্মগোপনে চলে যান বহু নেতাকর্মী। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিবসকে ঘিরে বড় দুই রাজনৈতিক দল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়ায় রাজনীতিতে উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষের এই দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ্তুগণতন্ত্রের বিজয় দিবস্থ পালন করার ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে একই দিনকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে এমনই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ জনগণও। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ৮২ শতাংশ আসন লাভ করে। অপরদিকে বিএনপি ৩.৩ শতাংশ আসন পায়। নির্বাচনের এই ফল বিরোধী জোট বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের জন্য ছিল চরম অনাকাঙ্খিত ও অভাবনীয়। চরম ফল বিপর্যয়ের পর পরই ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিসহ শরিক দলগুলো। নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেয়া এবং পরবর্তীতের আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে তারা অটল থাকতে পারেনি। এক পর্যায়ে নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বৈধতা দেয়। তবে ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতেই নির্বাচন হয়েছে-রাজনৈতিক এমন বক্তব্য থেকে একটিবারের জন্যও সরে আসেনি দলটি। পাশাপাশি বারবার আন্দোলনের হুঙ্কার দিলেও নতুন নির্বাচনের দাবিতে কার্যকর কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। তবে নির্বাচনের এই দিবসকে ঘিরে আন্দোলনের ছক সাজাতে থাকে। সংগঠনকে আন্দোলন সফলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেয়া হয় নানা উদ্যোগ।

গত বছর নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করে তারা। এবারো দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে একাদশ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ দিন ২০১৮ সালের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সমাবেশ করবে তারা। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করবে। জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দেশের সব জেলা ও মহানগরে নেতাদের ব্যাপক লোক সমাগম করে কর্মসূচি সফল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে নগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। তারা প্রতিটি থানায় ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর পাশাপাশি জনগণকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার কথা বলেছেন। এছাড়া সমাবেশের অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট নেতারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন। কর্মসূচির প্রস্তুতি বিষয়ে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আযাদ বলেন, এখনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অনুমতি না মিললেও সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করবে বিএনপি। তবে অনুমতি পাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি এখনো আশাবাদী।

Check Also

কুষ্টিয়ার ৪টি পৌর নির্বাচনে ৩টি নৌকা ও ১টিতে মশাল বিজয়ী হয়েছেন

কুষ্টিয়ার ৪টি পৌর নির্বাচনে ৩টি নৌকা ও ১টিতে মশাল বিজয়ী হয়েছেন

কুষ্টিয়া থেকে শরিফ মাহমুদ: কুষ্টিয়ার ৪টি পৌর নির্বাচনে ৩টি নৌকা ও ১টিতে মশাল বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *