Saturday , January 16 2021
Breaking News
Home / খবর / পর্যাটকে মুখরিত সুন্দরবন

পর্যাটকে মুখরিত সুন্দরবন

00001

ছবি : বি এম রাকিব হাসান, খুলনা

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:  শীতের শুরুতেই পর্যটকদের পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছে এখানে। বছরজুড়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকলেও বাংলাদেশের সর্ব দড়্গিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এলাকায় এই মুহূর্তে চলছে পর্যটকদের ভরা মৌসুম।
করোনা সংক্রমনের কারনে দীর্ঘদিন সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেউই বনে আসতে পারেনি। এ কারনেই শীতের শুরম্নতে বনে পর্যটক দর্শনার্থীদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে বলে জানান বন কর্মকর্তারা।
এদিকে, এবছর সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় ব্যসত্ম সময় পার করছে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটররা।
অন্যান্য দর্শনীয়্থানগুলোর চেয়ে সুন্দরবন ভ্রমন একটু আলাদা। পর্যটকরা সাধারণত লঞ্চ, স্পীডবোট, ট্রলার ও দেশি নৌকায় করে সুন্দরবন ভ্রমন করে থাকেন। বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা এবং সাতড়্গীরা জেলার নলিয়ান হয়ে নৌ-পথে সুন্দরবন ভ্রমণে যান পর্যটকেরা। সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করতে হলে দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটকদের বন বিভাগ থেকে সরকারের রাজস্ব খাতে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হয়।
বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে ওঠা অপরূপ সুন্দরবন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে বছরের পর বছর ধরে। সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
সুন্দরবনের করমজল ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র, হারবাড়িয়া, কোকিল মনি, কটকা, হিরন পয়েণ্ট ও বঙ্গবন্ধু চর পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। পশুর নদী দিয়ে টুরিস্ট বোড, লঞ্চ আসতে দেখা যায় সুন্দরবনে। বিশেষ করে গত নভেম্বরের শুরম্ন থেকেই করমজল এলাকায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী দর্শনার্থীরাও আসছেন নিয়মিত। সুন্দরবনকে একনজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রানত্ম থেকে ভিড় করছেন প্রচুর পর্যটক।

পর্যাটকে মুখরিত সুন্দরবন

সুন্দরবন থেকে ফিরে ঢাকার বাসিন্দা মনির হোসেন জীবন বলেন, করোনার কারনে দীর্ঘদিন গ্রহবন্দী ছিলাম। সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবর পেয়ে পরিবার নিয়ে ছুটে এলাম এখানে। বনে সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। দেশে করোনা সংক্রমন দ্বিতীয় ধাপ চলছে। তবুও ভ্রমনপিপাসুরা থেমে নেই। সব বাধা উপেড়্গা করেই তারা প্রিয় স’ান গুলোতে ঘুরছেন।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করছেন। প্রতি দিন ৪০-৫০টি বোট, লঞ্চ প্রবেশ করছে। বনে পর্যটকদের আগমন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন সামরিক বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরবন দেখতে আসছেন।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটকদের আকর্ষনের মূল কারণ হিসেবে তিনি উলেস্নখ করেন, বনের মধ্যে প্রবেশ করলেই বানর ও হরিণ খুব কাছ থেকে দেখা যায়। অনেক সময় হরিণ মানুষের সন্নিকটে চলে আসে। সে কারনে মূলত মোংলা, বাগেরহাট ও খুলনা এলাকা দিয়ে সুন্দরবনের করমজলে বেশি প্রবেশ করেন পর্যটকরা। এ বছর ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও দিনাজপুর থেকে অনেক পর্যটক এসেছেন। বন বিভাগের পড়্গ থেকে পর্যটকদের সঙ্গে আনত্মরিক ব্যবহার ও সহযোগীতা করা হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুন্দরবন ভ্রমনে আসা বেশ কয়েকজন পর্যাটক জানায়, বিভিন্ন বইতে পড়া সুন্দরবন নিজেদের চোখে দেখে তাদের অনেক ভাল লেগেছে। বনের বিভিন্ন গাছপালা, কুমির, হরিণ এবং বানরসহ বিভিন্ন পশু-পাখি তারা দেখেছে।
ভ্রমণকারীরা জানান, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখলে মনে হবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গোটা সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। সুন্দরবন দেখে তারা মুগ্ধ। সুন্দরবনে আসা যাওয়ার সুব্যবস্থা ও থাকা-খাওয়া এবং সার্বিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক পর্যাটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা।
বি এম রাকিব হাসান,
খুলনা ব্যুরো:
২৭-১২-২০

Check Also

৩০শে ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবসে

৩০শে ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবসে মেহেরপুর জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

ছবি : Alis : গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বক্তব্য রাখছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন। Kbdnews:  …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *