Thursday , December 3 2020
Breaking News
Home / বাংলাদেশ / অপরাধ / গোল্ডেন মনির গ্রেফতার

গোল্ডেন মনির গ্রেফতার

গোল্ডেন মনির গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টা:   রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় স্বর্ণ ও গাড়ি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় গত শুক্রবার গভীর রাতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, ১০টি দেশের মুদ্রা, এক কোটি ৯ লাখ নগদ টাকা ও বিদেশি পিস্তলসহ কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। গোল্ডেন মনির হুন্ডি ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, ভূমি দস্যুতার মাধ্যমে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এছাড়াও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় শুধু সিল নকল করে রাজধানীতেই ২০০টির বেশি প্লট কব্জা করেছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে র‌্যাব। তবে গোল্ডেন সফি, গোল্ডেন হায়দার ও গোল্ডেন রিয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তাদের আটক করা হবে বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

জানা গেছে, রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদার মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় গত শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা, ১ কোটি ৯ লাখ নগদ টাকা ও বিদেশি পিস্তলসহ কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

অভিযান শেষে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধ পথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন গোল্ডেন মনির। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে তার স্বর্ণ চোরাকারবারের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এ সবই তিনি করেছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। যেখানে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

অভিযান সম্পর্কে আশিক বিল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল গত শুক্রবার রাত ১১টায় মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের মূল কারণ ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

গোল্ডেন মনির ওরফে মো. মনির হোসেন সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, তিনি মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তার একটি অটোকার সিলেকশন শোরুম আছে। পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি স্বর্ণের দোকানের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা তার বাসা থেকে অনুমোদনবিহীন বিলাসবহুল দুটি বিদেশি গাড়ি জব্দ করেছি, যার প্রত্যেকটি দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কার সিলেকশন শোরুম থেকেও আমরা তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনবিহীন গাড়ি জব্দ করেছি।

আশিক বিল্লাহ বলেন, গ্রেফতার মনির নব্বইর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। সেটা ছেড়ে তিনি ক্রোকারিজের ব্যবসা শুরু করেন। এরপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন মালামাল দেশে আনতেন। একপর্যায়ে তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারিতে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আনেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়ানোয় ২০০৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

গোল্ডেন মনিরের আরেকটি পরিচয় তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ঢাকা শহরে ডিআইটি প্রজেক্টের পাশাপাশি বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার দুই শতাধিক প্লট আছে। ইতোমধ্যে তিনি তার ৩০টি প্লটের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, রাজউকের কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ করেছেন এবং স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকা। আমরা প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, বিআরটিএ, মানি লন্ডারিংয়ের জন্য সিআইডি এবং ট্যাক্স ফাঁকি ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরকে অনুরোধ জানাব। মূলত তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ অর্থাৎ অনুমোদনবিহীন বিদেশি মুদ্রা রাখায় বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করবে র‌্যাব। পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন, মূলত ফৌজদারি অপরাধের কারণে অর্থাৎ অনুমোদনবিহীন বিদেশি অস্ত্র ও মাদক রাখার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার এই আইনবহির্ভূত আয়-উপার্জন অর্থসম্পদ গড়াসহ কারা জড়িত, যোগসাজশ এবং সহযোগিতা করেছে সেটি তদন্ত করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবে র‌্যাব। তার অর্থ-সম্পদ গড়ার পেছনে এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউকের কোন্ কোন্ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা যোগসাজশ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানাব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোল্ডেন মনিরের সাথে প্রাথমিকভাবে আমরা একটি রাজনৈতিক দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানতে পেরেছি। সেই দলটিতে তিনি অর্থের জোগান দিতেন। মো. মনিরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ইতোমধ্যে চলমান-একটি মামলা হচ্ছে রাজউক সংক্রান্ত। রাজউকের ভুয়া সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি ভূমিদস্যুতা এবং আরেকটি হচ্ছে দুদকের একটি মামলা চলমান। গোল্ডেন মনিরকে এখন র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গত শুক্রবার রাত ১০টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন মনির ১০-১৫ বছর ধরে একটি রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করে আসছিল। ওই দলের যেসব নেতা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তার কাছ থেকে তাদেরও খোঁজ করা হচ্ছে। এছাড়াও তার ব্যবসায়ী পার্টনার গোল্ডেন সফি, গোল্ডেন হায়দার ও গোল্ডেন রিয়াজের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরও আটক করা হবে বলে জানিয়েছেন।

তবে গোল্ডেন মনিরের ব্যবসায়ী পার্টনার গোল্ডেন সফির মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন শুনেছি গোল্ডেন মনির র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তবে তিনি ট্রলারে আছেন বলে মোবাইল কেটে দেন। পরে তার মোবালেই ফোন দিলে তিনি বলেন অফিসে আসছি। এরপর তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

 

Check Also

বিষ-প্রয়োগে-হাঁস-নিধন

গাংনীতে হিংসাবশতঃ ক্ষেতে বিষ প্রয়োগে হাঁস নিধন। থানায় অভিযোগ

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম :মেহেরপুরের গাংনীতে প্রতিবেশীর উপর হিংসাবশতঃ ধানড়্গেতে বিষ প্রয়োগ করে ১৩টি পাতিহাঁস নিধন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *