Sunday , October 25 2020
Breaking News
Home / খবর / গাংনীতে স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। স্বামী পলাতক

গাংনীতে স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। স্বামী পলাতক

Gangni Wife Bourned
আমিরুল ইসলাম অল্ডাম :   মেহেরপুরের গাংনীতে স্বামীর বিরুদ্ধে রুবিনা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরকিয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তার স্বজনদের। শুক্রবার সকালে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রম্নবিনা খাতুন সদর উপজেলার টেঙ্গারমাঠ গ্রামের রবকুল হোসেনের মেয়ে এবং একই উপজেলার মনোহরদিয়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ও বামুন্দী ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মী মিলন হোসেনের স্ত্রী।

পুড়িয়ে হত্যা

নিহত গৃহবধূর নানী হালিমা খাতুন জানান,প্রায় ৪ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে মিলনের সাথে রম্নবিনার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রম্নবিনার উপর নানা ভাবে অন্যায় অত্যাচার করে স্বামী মিলন হোসেন ও তার বাবা মা। অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে একাধিকবার সংসার ছেড়ে চলে আসে। স’ানীয় ও পারিবারিক ভাবে সমস্যা সমাধান করায় তাকে কয়েকবার স্বামীর সাথে পাঠানো হয়। শুক্রবার ভোরে বামুন্দীর ভাড়া বাড়িতে নির্যাতন শেষে রম্নবিনার শরীরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে।
রম্নবিনার বড় মামী শুকতারা জানান, রম্নবিনার ৫ বছর বয়সে তার বাবা ও মাকে হারিয়ে নানী হালিমার কাছে বড় হয়। এরপর তার নানী পরের বাড়ি কাজ করে ও অন্য’র জমিতে মরিচ তুলে অনেক কষ্ট করে রম্নবিনাকে লালন পালন করে। এরপর মিলন হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকে নির্যাতন করে আসছিলো মিলন। রম্নবিনার খাতুনের ২ বছরের একটি মেয়ে আছে তার নাম মনিকা। মনিকার জন্মের পরপরই মিলন হোসেন রম্নবিনাকে তালাক দেয়। পরে আমঝুপি ইউনিয়র পরিষদে মামলা দায়ের করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য,স’ানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উভয় পরিবারের সমঝোতায় পুনরায় সংসার শুরম্ন হয়। কিন’ মিলন হোসেনের পরোকিয়া প্রেমে বাধা দেওয়ার কারনে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করতো। নির্যাতন করার পর পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর শিশু মনিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায় মিলন হোসেন। আমরা পরিবারে পড়্গ থেকে মিলনের ফাঁসি দাবি করছি।
রম্নবিনার চাচাতো মামী রিপনারা জানান,রম্নবিনাকে রাতভর নির্যাতন করার পর আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। এরপর মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে। আমরা হত্যাকারী মিলনের দৃষ্টানত্ম মুলক শাসিত্ম দাবি করছি।

আগুনে পুড়িয়ে

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: রফিকুল ইসলাম জানান,রম্নবিনাকে মৃত অবস’ায় শুক্রবার সকাল ৭ টায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। জরম্নরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সউদ আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো জানান,রম্নবিনার শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া রয়েছে।
বাড়ির মালিক বামুন্দী পশ্চিমপাড়ার আশরাফুল ইসলাম জানান,গত এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ভাড়া নেয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রম্নবিনা খাতুন বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করে। চিৎকার শুনে তাদের রম্নমে গিয়ে দেখি রম্নবিনার শরীরের আগুন জ্বলছে। আমরা দ্রম্নত তাকে উদ্ধার করে স’ানীয় হুদা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস’ায় উন্নতি না হওয়ায় আমার স্ত্রী শামিমা আক্তার রিতা তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভোরে গাংনী উপজেলার চেংগাড়া নামক স’ানে তার মৃত্যু হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি তদনত্ম আমিরম্নল ইসলাম জানান,রম্নবিনার মরদেহ পুলিশ হেফাযতে রয়েছে। ময়না তদনত্ম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হসত্মানত্মর করা হবে।
গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান,ঘটনাটি তদনত্ম করা হচ্ছে। তদনত্ম শেষে এ ঘটনার রহস্য উৎঘাটন হবে। তবে এখনই নিশ্চিত কোন তথ্য বলা সম্ভব হচ্ছেনা।

পুড়িয়ে হত্যা

Check Also

পূজা মন্ডপ

গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমানের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন।

  আমিরুল ইসলাম অল্ডাম :মেহেরপুরের গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান বিভিন্ন পূজা মন্ডপ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *