Wednesday , June 16 2021
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে হাজার হাজার বজ্রপাতে ৩৬৭টি পৃথক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে,

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে হাজার হাজার বজ্রপাতে ৩৬৭টি পৃথক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে,

kalefoea

KBdnews ডেস্ক :   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে হাজার হাজার বজ্রপাতে ৩৬৭টি পৃথক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, প্রায় লাখ খানেক লোক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার শত শত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে, বহু বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে; দমকল বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার বজ্রপাতের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, এতে পৃথক ৩৬৭টি অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে; এগুলোর মধ্যে প্রায় দুই ডজন আগুনের ঘটনা বড় ধরনের অগি্নকাণ্ডের রূপ নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় খরা-কবলিত ওয়াইন কাউন্টিতে একাধিক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে রাজ্যের রাজধানী সাক্রামেন্টো থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে ফেয়ারফিল্ডে ‘ইন্টারস্টেট এইটি’ মহাসড়ক বন্ধ করে দিতে হয়েছে। মহাসড়কের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, আটকে পড়া গাড়িতে থাকা লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্টি এ- ফায়ার প্রটেকশনের (ক্যালফায়ার) একজন মুখপাত্র উয়িল পাওয়ার্স জানিয়েছেন, একটি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর চার বাসিন্দাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তারা বেঁচে আছেন।

তিনি জানান, সোমবারের বজ্রপাতে চারটি কাউন্টির কয়েকটি এলাকায় উৎপত্তি হওয়া নয়টি আগুনের গুচ্ছ বাতাসবাহিত হয়ে আরও ছড়িয়ে পড়ছে, আগুনের এই গুচ্ছটিকে সম্মিলিতভাবে ‘এলএনইউ কমপ্লেক্স’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই এলাকাগুলো থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছ। ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় ফ্রেশনো কাউন্টিতে পানি ছিটানোর কাজে রত বেসরকারি কোম্পানির একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন বলে ক্যালফায়ার জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোররাতে ‘এলএনইউ কমপ্লেক্স’ আগুনের গুচ্ছ প্রায় বাধাহীনভাবে ফায়ারফিল্ড ও নিকটবর্তী ছোট শহর ভ্যাকাভিলের আশপাশে পাহাড় ও পর্বতের ৪৬ হাজার একর এলাকা পুড়িয়েছে। এখানে অন্তত ৫০টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং অন্য আরও ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্যালফায়ার। বুধবার সকালে ভ্যাকাভিলের বাসিন্দা ডায়ান বুসটোস জানান, তাদের গাড়িতে আগুন লাগার পর তার স্বামী সেটি ছেড়ে আসার পর গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। নাইট গাউন পরা এই নারী ও তার পরিবার প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় তার পরনের জুতা জোড়া হারিয়ে যায়।

আমি এটি করতে পেরেছি, খোদা আমাদের রক্ষা করেছেন, স্থানীয় এক টেলিভিশন স্টেশনকে বলেছেন বুসটোস। লোকজন আগুনে আটকা পড়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর পাওয়া গেলেও কেউ নিখোঁজ থাকার কোনো খবর তারা পাননি বলে জানিয়েছেন ক্যালফায়ারের মুখপাত্র পাওয়ার। সবচেয়ে বড় আগুনের গুচ্ছ, যাকে ‘এসসিইউ লাইটনিং কমপ্লেক্স’ বলা হচ্ছে তা পালো আলটোর প্রায় ২০ মাইল পূর্বে ৮৫ হাজার একর এলাকা পুড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
তৃতীয় আরেকটি গুচ্ছ, ‘সিজেডইউ অগাস্ট লাইটনিং কমপ্লেক্স’ ১০ হাজারের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং পালো আলতোর ১৩ মাইল দক্ষিণ দিকের এলাকাগুলোর সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মরুময় দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। এর প্রভাবেই ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে তীব্র দাবদাহ ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের

 

Check Also

রোহিঙ্গাদের প্রতি মায়ানমারের জাতীয় ঐক্য

রোহিঙ্গাদের প্রতি মায়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের উদাত্ত আহ্বান Kbdnews ডেস্ক: রোহিঙ্গাসহ মায়ানমারের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নাগরিকত্ব প্রদান ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) বা জাতীয় ঐক্য সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নিতে ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) ধারা বাতিলের প্রতিশ্রুতি এসেছে সামরিক জান্তাকে হটাতে গঠন করা এই ছায়া সরকারের কাছ থেকে। গত বৃহস্পতিবার এনইউজি’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই বসন্ত বিপ্লবে সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যোগ দেয়ার জন্য আমাদের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে হাত মেলাতে আমরা রোহিঙ্গাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এপ্রিলের শুরুতে এক সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া ন্যাশনাল লিগ অব ডেমোক্রেসির (এনএলডি) পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্যোগে মায়ানমারে জান্তাবিরোধী এই ছায়া সরকার গঠন করা হয়। এর দুই মাস আগে নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দল এনএলডি ওই নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পথে ছিল। সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে চলা জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত আট শর বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার এখন আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের স্বীকৃতি চাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে থাকা বিভিন্ন সংখ্যালঘু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকেও স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এনইউজি রোহিঙ্গাদের সমানাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। শত বছর ধরে মায়ানমারে বসবাস করে আসলেও ১৯৭০ সাল থেকে যে জাতিগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বঞ্চিত করা হয়েছে বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে। এ অবস্থায় নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আসে। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর নৃশংস অত্যাচার শুরু হলে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) মায়ানমারের বিরুদ্ধে একটি গণহত্যার মামলা চলমান আছে। আর রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্য সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী সাসা বলেন, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি মায়ানমারে বিরোধ কমিয়ে আনার জন্য ঐক্য সরকার একটি সমৃদ্ধ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন গঠনের ব্যাপারে মনস্থির করেছে। যেন মায়ানমারে সবগুেলো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী শান্তিতে বসবাস করতে পারে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে মায়ানমারের যেসব বাসিন্দা এই ইউনিয়নে আনুগত্যের শপথ নেবে তারা সব ধরনের নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন। জাতীয় ঐক্য সরকার কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করবে না। ঐক্য সরকার একই সঙ্গে সংবিধানের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ হওয়ার জন্য মায়ানমারের সব নাগরিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯৮২ সালের যে আইনের কারণে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে তা রদ করা হবে। নতুন আইনে মায়ানমারে জন্মসূত্রে কিংবা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় জন্ম নেয়া মায়ানমারের নাগরিকদের শিশুর জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক জোর করে চাপিয়ে দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়া বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্য সরকার। সেই সঙ্গে এই ছায়া সরকার বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মায়ানমারে ফিরিয়ে আনার কথা বলছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি বিশেষ কর্মসূচি নেয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া এনইউজি রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এনইউজির বিবৃতি প্রসঙ্গে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান লি জানান, তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রদ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া বাতিল ও রোহিঙ্গাদের প্রতি সুবিচার প্রসঙ্গে। লি জার্মানি থেকে বলেন, যদিও রোহিঙ্গাদের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি এখানে স্পষ্ট না। নতুন সংবিধানের খসড়ায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। লি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মায়ানমারের বেশিরভাগ লোকের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এটা একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আমাদের সবার একই উদ্দেশ্য। সেটা হচ্ছে সামরিক জান্তাকে উৎখাত করা। যুক্তরাজ্যে বার্মা রোহিঙ্গা সংগঠনের সভাপতি তু কি’র অভিমত, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটা একটা দারুন উদ্যোগ। তিনি বলেন, বিষয়টি মায়ানমার ঐক্য সরকারের একটা অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখানে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকারের ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তু কি’র ভাষ্য, মায়ানমারের আদিবাসী হিসেবে এখানকার অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর মতো রোহিঙ্গাদেরও সমানাধিকার নিশ্চিত করা দরকার। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের জন্য যা খুবই জরুরি।

Kbdnews ডেস্ক: রোহিঙ্গাসহ মায়ানমারের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নাগরিকত্ব প্রদান ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে নতুন সংবিধানের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *